সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » ফ্ল্যাট কিনতে ব্যাংক ঋণের কথা ভাবছে সরকার

ফ্ল্যাট কিনতে ব্যাংক ঋণের কথা ভাবছে সরকার

ফ্ল্যাট কিনতে নিম্ন আয়ের লোকদের জন্য ব্যাংক ঋণ চালুর কথা ভাবছে সরকার। এ ঋণ হবে দীর্ঘ মেয়াদি এবং সুদের হার এক অংকের সংখ্যায় রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। এর ফলে আবাসন খাত গতিশীল হবে এবং অনেক লোকের বাসস্থান সমস্যার সমাধান করা যাবে।

শুক্রবার বিশ্ব নগর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এ তথ্য জানান। মিউনিসিপ্যাল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব) সিরডাপ মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করে না। সাধারণ মানুষ ব্যাংক ঋণ নিলে সাধারণত দ্রুত তা ফেরত দেয়ার চেষ্টা করে। ঋণ ব্যবস্থা চালু করা হলে আবাসন খাত গতিশীল হবে এবং এর সাথে দুই শতাধিক লিংকেজ শিল্পও এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার জন্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রায় ৪৫টি উপজেলায় এ সংস্থা আবাসিক এলাকা গড়ে তুলেছে। পৌরসভা থেকে জমির ব্যবস্থা করা হলে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট পৌরসভায় আবাসিক এলাকা গড়ে তুলতে পারবে। তবে বরাদ্দ দেয়া জমি অবশ্যই অকৃষি জমি হতে হবে। প্রতিটি পৌরসভায় পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়ে তুলতে পারলে রাজধানীমুখী জনশ্রোত কমে আসবে।

মন্ত্রী বলেন, মিরপুরে ১৫শ’ একর জায়গায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও রিহ্যাব যৌথভাবে একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়ে তুলছে। এখানে নিম্ন আয়ের লোকদের জন্য ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা রাখা হবে। পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য ঢাকা এবং চট্টগ্রামের পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিতে হবে। এখানকার সমস্যাগুলো যাতে নতুনভাবে গড়ে তোলা শহরে না থাকে তার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে পূর্বাচল ও ঝিলিমিল আবাসিক এলাকার নাগরিক সেবা ব্যবস্থাকে পৃথক রাখা হচ্ছে। পানীয়জল, পয়ঃনিষ্কাশন, গ্যাস, বিদ্যুৎ কোন কিছুই ঢাকার সাথে সম্পর্কিত থাকবে না। এ দু’টি শহরকে পরিকল্পিত আধুনিক স্মার্ট শহরে পরিণত করা হবে।

ম্যাব-এর সভাপতি পাবনার বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন স্থানীয় সরকার সচিব মঞ্জুর হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অশোক মধাব রায়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মজিবুর রহমান, মাইডাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মশিউর রহমান, বগুড়া আরডিএ’র মহাপরিচালক এম এ মতিন, ইউএন হ্যাবিটেটের মো. আক্তারুজ্জামান। এছাড়াও বিভিন্ন পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, প্রকৌশলী, সচিব, কমিশনার প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print