রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » আত্মসমর্পণের পর কারাগারে লতিফ সিদ্দিকী

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে লতিফ সিদ্দিকী

lotif siddiqi 1মন্ত্রিসভা ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে আত্মসমর্পণের পর তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আতিকুর রহমানের আদালতে হাজির করে পুলিশ। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন আদালত। আদেশের পর তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১টা ২২ মিনিটে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় হাজির হয়ে তিনি আত্মমর্পণ করেন। এর পর লতিফ সিদ্দিকীকে মহানগর হাকিম আতিকুর রহমানের আদালতের এজলাসকক্ষের আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়। তার পক্ষে কোনো জামিনের আবেদন জানানো হয়নি। এদিকে প্রিজনভ্যানে করে কারাগারে নেয়ার সময় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ঝাড়ু ও জুতা মিছিল করেছেন আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ।
লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার একটি মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলাটিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। সোমবার একই হাকিম ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুসারে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের তাগাদা দেন।
আত্মসমর্পনের পর রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শিবলী নোমান জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
ধানমন্ডি থানার ডিউটি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লতিফ সিদ্দিকী নিজেই মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ধানমন্ডি থানায় ফোন করে ওসিকে জানান, তিনি আত্মসমর্পণ করতে আসছেন। এ খবরের পর বেলা পৌনে একটার দিকে এডিসি ইব্রাহীম হোসেন এসে ওসি আবু বকর সিদ্দিকের কক্ষে অবস্থান নেন। বেলা দেড়টার দিকে লতিফ সিদ্দিকী এলে তাকে ওসির গাড়িতে করেই আদালতের পথে রওয়ানা হয় থানা পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির মতবিনিময় অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি কিন্তু হজ আর তাবলীগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তিনি বলেন, হজে যে কত ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয়। এই হজের জন্য ২০ লাখ লোক সৌদি আরবে গেছেন। এদের কোনো কাজ নাই। কোনো প্রডাকশন নাই, শুধু ডিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে আসছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাংবাদিকদের সম্পর্কেও বিরূপ মন্তব্য করেন তিনি। তার পুরো বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর ১২ অক্টোবর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত হন লতিফ সিদ্দিকী। একই দিন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের পদ থেকেও বহিষ্কৃত হন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে পাঁচবারের নির্বাচিত এই এমপি।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কারণে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলা হয়। এসব মামলায় হাজিরা না দেয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
এসব গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই রোববার রাতে দেশে ফিরেন আওয়ামী লীগের এই বিতর্কিত নেতা। বিমানবন্দরে তাকে গ্রেফতার না করায় সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তাকে গ্রেফতারের দাবিতে মঙ্গলবার হরতাল ডাকে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। এছাড়া তাকে গ্রেফতার না করা হলে বুধবার ইসলামী ঐক্যজোট ও বৃহস্পতিবার হেফাজতে ইসলাম হরতালের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। এর পর মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করলেন অপসারিত এই মন্ত্রী।

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print