রবিবার , ২২ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » চট্টগ্রামে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষে নিহত ৩

চট্টগ্রামে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষে নিহত ৩

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের দু’পক্ষ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ও গুলিবিদ্ধ আরও কমপক্ষে ১২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৬ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা এলাকায় সোমবার দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, এ এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রশাসনের সমর্থন থাকলেও গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ ওই স্থানে এস আলম গ্রুপের ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে আগে থেকেই বিরোধিতা করে আসছে। তবে এর পক্ষে থাকার ঘোষণা দেয় গ্রামের একটি প্রভাবশালী মহল। এর ফলে দু’পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে উভয় পক্ষ সভা-সমাবেশের ঘোষণা দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু প্রতিবাদী জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সমাবেশের চেষ্টা করলে দু’পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এসময় পুলিশ একটি পক্ষের সমর্থনে গুলি ছুড়লে ত্রিমুখী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মাদ আব্দুল আউয়াল জানান, এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে গ্রামবাসীদের দুটি পক্ষ পরস্পরের মুখোমুখি হলে পুলিশ সোমবার সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে। এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে আড়াই থেকে তিন হাজার গ্রামবাসী লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১৪৪ ধারা ভেঙে পরস্পরের ওপর হামলা চালাতে থাকে। এসময় পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা চালালে তারা পুলিশের ওপরে হামলা চালায়। তখন পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে এ ঘটনা ঘটে।

অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের নাম বদিউল আলম, আঙ্গু মিয়া ও জাকের আহমদ। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কমপক্ষে ৩ জন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ ও আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত তিন পুলিশ সদস্যকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন, এসআই বেলাল উদ্দিন, কনস্টেবল খোরশেদ আলম ও কনক শীল। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে জহির আহমদ নামের এক ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। তিনিও বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া কয়েকজন আনসার সদস্যও এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চট্টগ্রাম (দক্ষিণ) এএসপি মো. হাবিবুর রহমান দাবি করেছেন, গ্রামবাসীই হামলা করার কারণে পুলিশ গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়েছে। টানা তিন ঘণ্টা চেষ্টার পরে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পুলিশের গুলিতে কেউ নিহত হওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। তবে কেউ এ তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, এস আলম গ্রুপের সঙ্গে চীনের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানির ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে সম্প্রতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print