বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা

2016_01_18_19_53_56_s1VL4TuBkCnlkQtq9EZ62uTbwxwYK6_originalচলমান সঙ্কট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন মহাসবিচ অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে আমলারও ছিলেন। তিনি আমাদের কথা শুনেছেন। আমলাদেরও কথা শুনেছেন। সব শুনে তিনি নিজে বিষয়গুলো দেখবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

কর্মবিরতি প্রত্যাহারের বিষয়ে মাকসুদ কামাল বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আজকে সাধারণ সভার তারিখ ঠিক করবো। তারপর সভায় সবার মতামতের ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।’

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক, মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামালসহ বুয়েট, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘শিক্ষকদের ৩ নম্বর গ্রেড থেকে ১ নম্বর গ্রেডে উন্নীতের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদোন্নতির সোপান তৈরির কথা বলেছেন। পাশাপাশি ১ নম্বর গ্রেডে যেতে অন্যান্য দাবি দাওয়াও বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন।’

এদিকে গত ১১ জানুয়ারি সকাল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন শুরু করেন শিক্ষকরা। ওইদিন বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু মর্যাদা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অষ্টম পে-স্কেলে শিক্ষকদের অবনমনের প্রতিকার ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে এ কর্মবিরতির পালন করা হচ্ছে। সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কর্মবিরতি চলাকালীন পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কথা রয়েছে।

এই কর্মবিরতিতে যাওয়ার আগে আরো দুইদিন কর্মসূচি পালন করা হয়। ৩ জানুয়ারি একই দাবিতে শিক্ষকরা কালো ব্যাজ ধারণ করে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। ৭ জানুয়ারি স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হয়। এরপর ১১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন শিক্ষকরা।

গত ২ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এরপর ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের মুজাফফর আহম্মেদ চৌধুরী মিলানায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print