শনিবার , ২১ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » ‘জনগণ আমাদের বিরোধীদল হিসেবে গণ্য করে না’

‘জনগণ আমাদের বিরোধীদল হিসেবে গণ্য করে না’

Ershadসাবেক সেনা শাসক ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আমাদের একটি ইমেজ সংকট আছে।  জনগণ জাতীয় পার্টিকে বিরোধীদল মনে করে না।  খবরের কাগজে সরকারিদল হিসেবে আওয়ামী লীগ আর বিরোধীদল হিসেবে বিএনপির নাম আসে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনির্য়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির ৩১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এরশাদ বলেন, ১৯৮২ সালে বিচারপতি সাত্তার ক্ষমতা চালাতে না পেরে সেদিন আর্মির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন।  আমি স্বৈরাচার হলে ৮৪ সালে নির্বাচন দিতাম না।  জাতীয় পার্টির জন্ম হয় ১৯৮৬ সালে।  তার তিন মাস পর আমি নির্বাচন দিয়েছি।  জাতীয় পার্টির নাম কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।  ৬৪টি জেলা আর ৮৬০টি উপজেলা এর সাক্ষী।
তিনি বলেন, উপজেলার মাধ্যমে আমি তৃনমূল পর্যায়ে জনগণের কাছে ক্ষমতা পৌঁছে দিয়েছিলাম।  কিন্তু আজ উপজেলা আছে কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যানদের কোন ক্ষমতা নেই।
সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, কী কারণে জাতীয় পার্টি এ পৌর নির্বাচনে ভরাডুবি হলো? কারণ জনগণ আমাদের বিরোধীদল হিসেবে গণ্য করে না।  তিনি রওশন এরশাদের দিকে তাকিয়ে তার উদ্দেশে বলেন, উনি চাইলে আমি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হইতে পদত্যাগ করতে পারি।  এমনকি উনি চাইলে (মঞ্চে থাকা) আনিস সাহেবসহ সরকারে থাকা জাতীয় পার্টির সকল মন্ত্রীও পদত্যাগ করবে।  আর তাহলেই আমরা সত্যিকারের বিরোধীদল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবো।
পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের ৯৪জন মনোনয়নপত্র সাবমিট করেছে।  নির্বাচন কমিশন ১৮ জনের মনোনয়ন বাতিল করলেন।  ৩ জনকে জোড় করে বসিয়ে দেওয়া হলো, বাকি রইল ৭৩ জন।  এই ৭৩ জন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে পারে নাই অভিযোগ করে এরশাদ বলেন, আমাদের প্রার্থীদের বাড়ি ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অহেতুকভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে।  ভোট কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
নিজ দল সম্পর্কে সাবেক এ সেনা শাসক বলেন, রওশন এরশাদসহ অনেকেই বলেছেন আমাদের সংগঠন দুর্বল।  কথাটা অনেকাংশে সত্য।  ২৭টি জেলায় আমাদের সংগঠন আছে।  বাকি জেলায় আমাদের সংগঠন নেই।  আমি সংগঠন করতে গিয়ে আমার দলের দুই এক জন ছাড়া কাউকে পাই না।  ঢাকার বাইরে গেলে বিমানের টিকিটও আমাকে কিনতে হয়।  আমি আর পারি না, আমার সে পরিমাণে অর্থ নাই।  এই পৌর নির্বাচনে দলের কোন শীর্ষ নেতা কোন প্রার্থীকে সহযোগিতা করেন নাই এমনকি প্রার্থীদের এলাকায় গিয়ে কেউ নির্বাচনে প্রচারেও সহযোগিতা করেন নাই।
তিনি বলেন, আমি চাই আমার সাথে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং এমপিরা জেলা সফরে থাকুক।  তাহলে দেশবাসী বুঝবে এরশাদের সাথে অনেক মানুষ আছে।  এরশাদ দুঃখ করে বলেন, আমার এত বড় এটি পার্টি অফিস।  অথচ কয়জন এমপি বা প্রেসিডিয়াম সদস্য পার্টি অফিসে আসেন? এমপি এবং প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বসার জন্য আলাদা রুম আছে।  আপনারা দয়া করে সপ্তাহে অনন্ত একদিন হলেও পার্টি অফিসে আসেন।  তাহলে কর্মীদের মাঝে উৎসাহ আরো বেড়ে যাবে।
প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ।  এছাড়া বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সাইদুর রহমার টেপা, ফয়সল চিশতি, হাজী সাইফুদ্দিন মিলন, সুনীল শুভ রায়, তাজ রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভ‚ইয়া, জহিরুল আলম রুবেল, নুরুল ইসলাম নুরু, সুলতান মাহমুদ প্রমূখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রওশন এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টির দুর্দিনে যারা অবদান রেখেছে তাদেরকে আমাদের স্মরণে রাখতে হবে।  বিশেষ করে মিজান চৌধুরী এবং কাজী জাফরের অবদান অস্বীকার করা যাবে না।  যারা দল থেকে চলে গেছে তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দলে ফিরে আসুন আপনাদের জন্য দরজা খোলা আছে।  আপনাদেরকে আমরা সাদরে গ্রহণ করবো।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালি করে ভোট কেন্দ্রে পাহারা দিতে হবে।  কেউ যেন জনগণের ভোট জালিয়াতি করে না নিতে পারে।

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print