শুক্রবার , ২৭ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » রকমারি » পুত্রসেবায় ৪৬ বছর!

পুত্রসেবায় ৪৬ বছর!

2016_01_02_14_02_10_x5CUTlH76kztf1tBu3x1A3WQEoz3Pv_originalসন্তানের জন্য বাবা-মা কত কিছুই না করতে পারে। হাসিমুখে সমস্ত কষ্ট সহ্য করে নিয়েও সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে চেষ্টা করে। এমনকি সন্তানের মঙ্গলের জন্য নিজের জীবন বিপন্ন করতেও পিছপা হয় না। এসব কথা লোকমুখে শোনা গেলেও বাস্তবে দেখা গেল এর বিরল দৃষ্টান্ত। বাবার বয়স ৯৫ বছর। যে বয়সে বাবাকে ছেলের উপর নির্ভরশীল হতে হয় সেখানে বাবা নিঃস্বার্থভাবে ৪৬ বছর ধরে সন্তানের সেবা করে যাচ্ছেন। বাবা ছেলের এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নজির দেখা গেল পশ্চিম চীনের লিয়ানঙুগাঙ শহরে। শু দেজাং এমনি একজন বাবা যিনি গত ৪৬ বছর ধরে পরম মমতায় তার পক্ষাঘাতগ্রস্ত সন্তানের সেবা করে যাচ্ছেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই সন্তানদের দেখাশোনা থেকে শুরু করে পুরো সংসারের দায়িত্ব তার উপর। শু দেজাংয়ের তিন ছেলের মধ্যে শু বাইয়িন সবার বড়। দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে তিনি সম্পূর্ণ বিছানায়। অন্যান্য ভাইরা নিজ নিজ সংসার সাজিয়ে যার যার মতো আলাদা হয়ে গেলেও বাইয়নকে ছেড়ে যেতে পারেননি বাবা দেজাং।

শু বাইয়িনের এখন বয়স প্রায় ৬৫ বছর। মাত্র ১৭ বছর বয়সে লোহার দণ্ডের আঘাতে তার মেরুদণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ভেঙে যায়। নিজেদের নতুন বাড়ি নির্মানের সময় ওই আঘাত লাগে বাইয়িনের। দুর্ঘটনার পর তার মেরুদন্ড অকেজো হয়ে যায় এবং শরীরের বা দিক সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। ছেলের এই অবস্থায় চিকিৎসার জন্য বাবা কোন কমতি রাখেননি। সুস্থ্য চিকিৎসার জন্য হন্যে হয়ে সাংহাইয়ের বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেছেন তিনি। কিন্তু সবজায়গা থেকেই নিরাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। এদিকে সন্তানের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষমতাও ছিল না তার কাছে, এমনকি সরকার বা কোন সামাজিক সংঘ থেকে কোন সাহায্য মেলেনি তার। অবশেষে ছেলেকে নিয়ে ফিরে যেতে হয় তার ওই ছোট ঘরটিতে।

স্ত্রী যখন বেঁচে ছিল তখন দুজনে মিলে ছেলেকে দেখাশোনা করতেন। ছেলের খাওয়া থেকে শুরু করে গোসল যাবতীয় সব কাজ দুজন মিলে করতেন। ১৯৯৫ সালে এক কঠিন ব্যাধিতে তার স্ত্রী মারা যায়। স্ত্রীকে হারিয়ে ছেলের সমাস্ত দায়িত্ব এসে পরে তার কাধে। গত দুই দশক ধরে দেজাং যে পেনশন পান তা হলো তিন হাজার ইয়ান এবং এই সামান্য অর্থ দিয়েই তার এবং ছেলের ছোট সংসারটি চলে। তিনি একাই সংসারের সব কাজ করে। তিনি বাজারে যান, নিজের হাতে ছেলে এবং তার কাপড় পরিস্কার করেন এমনকি দুজনের জন্য তিনবেলা রান্না ও সে নিজের হাতেই করেন।

ছেলের খাওয়ার সুবিধার জন্য তিনি শুধুমাত্র নরম খাবার রান্না করেন। তিনি তার সন্তানকে বিছানায় নিয়মিত গোসল করান এবং প্রতিদিন নিয়ম করে পিঠে মালিশ করে দেন। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে দেজাং চিন্তিত হয়ে পড়ছে এই ভেবে যে, তার মৃত্যুর পর সন্তানের কি হবে কেইবা তার দায়িত্ব নেবে। তবে দেজাংয়ের মতে ততদিন পর্যন্ত তিনি ছেলের সেবা করবে যতদিন পর্যন্ত সে বেঁচে আছে। কারণ তিনি চান না চোখের সামনে ছেলেকে কষ্ট করতে দেখতে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print