শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » সংসদেও লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার দাবি

সংসদেও লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার দাবি

সাংসদদেরওআওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর দেশে ফেরা নিয়ে আজ সোমবার সরব হয়ে ওঠে সংসদ। দিনভর সংসদ সচিবালয়, স্পিকারের দফতর ও মাগরিবের বিরতির পরে অধিবেশন কক্ষে এ নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে।

সংসদের বৈঠকে প্রধান বিরোধীদল জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুসহ একাধিক স্বতন্ত্র সদস্য পয়েণ্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন। তারা লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার এবং তার সদস্য পদ বাতিলে স্পিকারের রুলিং দাবি করেন।

এসময় সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদকে অধিবেশন কক্ষে দেখা গেলেও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘তিনি মৌলবাদীদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। মৌলবাদীদের উৎসাহিত করছেন। তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।’

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা দাবি করেন।

এরপরই লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ খারিজ করার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্বতন্ত্র জোটের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা দফতর কাজ করে। তারপরও তিনি কিভাবে চলে যেতে পারলেন।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ বলছে- সরকারের গ্রিন সিগন্যাল আছে। কিন্তু আমি জানি প্রধানমন্ত্রীর কোনা গ্রিন সিগন্যাল নেই।’

আরেক স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী দেশকে বিপদে ফেলতে চান। দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চান। তার এই দেশে ফেরা নিয়ে মৌলবাদী শক্তি ও হেফাজত আবার রক্তের হোলি খেলা খেলবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে ধর্ম অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়া থেকে সকলকে বিরত রাখতে প্রয়োজনে ব্লাসফেমি আইন তৈরি করতে হবে।’

তিনি এসময় স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা ও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি আর এমপি থাকতে পারেন না।’

লতিফ সিদ্দিকী এমপি পদে আছেন কি-না এ ব্যাপারে তিনি স্পিকারের রুলিং দাবি করেন। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) নেতা এস এম আবুল কালাম আজাদ এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীরর বক্তব্য দাবি করেন।

প্রবীণ সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দাঁড়িয়ে এব্যাপারে আইন ও কার্যপ্রণালী বিধির ব্যাখ্যা তুলে ধরে বিতর্কের অবসান ঘটান।

তিনি বলেন, ‘সংবিধান স্পিকারকে এমন কোনো ক্ষমতা দেয়নি যে, তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত সংবিধানের ধারা প্রযোজ্য হলেই কেবল তার সদস্যপদ যাবে।’

লতিফ সিদিক্কীর গ্রেফতারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোন এমপির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হাতকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। শুধু স্পিকারকে অবহিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আইন অনুয়ায়ী আদালতের সকল নির্দেশ দল ও সরকার কার্যকর করবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কেউ যদি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার কথা ভাবেন, তাহলে সেটা হবে বাস্তব অবস্থা থেকে বেশী দূরে চলে যাওয়া।’


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print