শনিবার , ২৩ জুন ২০১৮
মূলপাতা » কলেজ » পাকিস্তানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলো ঢাবি

পাকিস্তানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলো ঢাবি

DU-logoপাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

উপাচার্য জানান, আজ থেকে (১৪ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সম্পর্ক ছিন্ন করা হলো। পাকিস্তান যদি একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার দায় স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা ও তাদের ১৯৫ সেনা সদস্যের বিচার করে তবেই পুনরায় সম্পর্কের বিষয়টি চিন্তা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, ‘একাত্তরে পাকিস্তান এ দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি যে গণহত্যা চালিয়েছে তা অস্বীকার করে তারা দ্বিতীয়বার গণহত্যা চালাচ্ছে। তারা সে সময় যে গণহত্যা চালিয়েছে তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে, পৃথিবীর বিভিন্ন আর্কাইভসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আছে। সে জায়গায় এ ধরনের মিথ্যাচার করায় সব সময় সত্যের অনুসন্ধান এবং সত্যের প্রতিষ্ঠায় কাজ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সে ধরনের মিথ্যার সাথে কোনো আপস করার চিন্তাই করা যায় না।

তিনি বলেন, আমরা ১ ডিসেম্বর বিজয় র‌্যালি থেকে ঘোষণা দিয়েছি যে, পাকিস্তান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয়। তাই আজ সিন্ডিকেট সভায় বসে এগুলো বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সেখানে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

উপাচার্য বলেন, পাকিস্তানের সরকার ১৯৭১ সালে যে গণহত্যা করেছে তার প্রমাণ পাকিস্তানের বিভিন্ন রিপোর্টে, হামিদুর রহমান রিপোর্টসহ পত্র-পত্রিকায় আছে। তাই সে সময়ের গণহত্যার আনুষ্ঠানিক নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সাথে, তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। রিচার্স, কালচারাল, স্পোর্টসসহ কোনো ধরনের সম্পর্ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাখবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো ছাত্র কিংবা শিক্ষক প্রতিনিধিসহ সব ধরনের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম আর থাকবে না। একই সাথে ঢাবির সাথে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সম্পর্ক এবং সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিক অবস্থায় রয়েছে আজ থেকে সেগুলো স্থগিত হয়ে যাবে।

একই সময়ে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সৈন্যের বিচারের দাবি জানিয়ে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ১৯৫ জন পাকিস্তানি সৈন্যের বিচার সম্পন্ন করতে হবে। কেউ মারা গেলে তাদের মরণোত্তর বিচার করতে হবে। এটা মানবতার দাবি, এটা সারা বিশ্বের দাবি।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসী রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বি-পক্ষিয় এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক বাংলাদেশ সরকারের ছিন্ন করতে হবে। যে রাষ্ট্র গণহত্যার সাথে জড়িত তারা কিভাবে জাতিসংঘের সদস্য হয়। তাই গণহত্যার কারণে জাতিসংঘ এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর কারণে সার্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে তাদের সদস্যপদ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার যে ধরনের প্রক্রিয়া অবলম্বন করার দরকার সে প্রক্রিয়া অবলম্বন করতেও দাবি জানান তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, এমন সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে না বলেও জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, কারণ এটি একটি ভাষা ও সাহিত্য। যা বিশ্বের আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ফেডারেশন থেকেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঘোষণা দেন ফেডারেশন সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কড়া ভাষায় বিবৃতি দেয় পাকিস্তান। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করায় ২৩ নভেম্বর পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলমকে তলব করে এর কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ নভেম্বর পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে ডেকে গণহত্যার দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দেশটি।

এরপর থেকেই মূলত পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি উঠে দেশের নানা মহল থেকে। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত বিজয় মিছিল শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ঘোষণা দেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print