মঙ্গলবার , ১৪ আগস্ট ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » যমুনার বাবুল ও যুগান্তরের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এনবিআরের জিডি

যমুনার বাবুল ও যুগান্তরের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এনবিআরের জিডি

2015_12_09_20_38_37_UJjUO1VrzDJQC8WTN73IHpI2sQO15X_originalযমুনা গ্রুপের মালিক নুরুল ইসলাম বাবুল ও ‘দৈনিক যুগান্তর’ পত্রিকার সাংবাদিক হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি জিডি দায়ের করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মিথ্যা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে এনবিআরের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং এনবিআর ও এর চেয়ারম্যানকে হেয় করার প্রচেষ্টার অভিযোগে এ জিডি করা হয়েছে। এছাড়া যমুনা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব অনিয়মের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে ওই জিডিতে।

বুধবার সন্ধ্যায় এনবিআরের জরুরির সভায় সর্বসম্মতভাবে গৃহীত সিদ্ধান্তনুযায়ী রাজধানীর রমনা মডেল থানায় এ  জিডি দায়ের করা হয়। এনবিআরে দ্বিতীয় সচিব (বোর্ড প্রশাসন-১) এএইচএম আবদুল করিম এ জিডি (নং- ৬২৪) দায়ের করেন। এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জিডিতে বলা হয়েছে, দূরভিসন্ধিমূলকভাবে ’দৈনিক যুগান্তর’ পত্রিকায় এনবিআরের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অমার্জিত ও শিষ্টাচার বিবর্জিত ভাষায় সম্পূর্ণ কাল্পনিক, বানোয়াট, জিঘাংসা ও প্রতিহিংসামূলক বিগত ২৯/১০/২০১৫, ০১/১১/২০১৫, ১৮/১১/২০১৫, ২৪/১১/২০১৫, ৩০/১১/২০১৫, ০৭/১২/২০১৫ ও ০৯/১২/২০১৫ তারিখে ধারাবাহিকভাবে সাতটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রকাশিত সংবাদগুলোর বিষয়বস্তু মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কল্পনাপ্রসূত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সত্যকে বিকৃত করে তা প্রকাশ করা হয়েছে। কিছু বিষয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এ ধরনের মিথ্যা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে এনবিআরের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং এনবিআর ও এর চেয়ারম্যানকে হেয় করার হীন উদ্দেশ্য নিহিত আছে। এমতাবস্থায়, উক্ত পত্রিকার এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ করার জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে জিডি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

যমুনা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানারকম জালিয়াতির অভিযোগ এনে জিডিতে বলা হয়েছে, মাঠ পর্যায় থেকে যমুনা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানারকম জালিয়াতি, অনিয়ম, সরকারের টাকা না দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করা, মামলার নথি লুকিয়ে রাখাসহ নানাপ্রকার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ২৫৮ কোটি টাকার মামলা রয়েছে গ্রুপটির বিরুদ্ধে। মূলত, কোনো প্রভাবে প্রভাবিত ও প্রলোভিত না হয়ে এই গ্রুপটির জালিয়াতি, শুল্ক ফাঁকি ও নানান কারসাজির বিরূদ্ধে ’জিরো টলারেন্স নীতি’ প্রয়োগে অবিচল থাকায় গ্রুপটির মালিক এনবিআরের বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়ে নেমেছে। জিডিতে যমুনা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি দাবি ও জালিয়াতির একটি তালিকা তুলে ধরা হয়।

যমুনা গ্রুপের সহযোগী বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান জারা এক্সেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ গত ১২/১২/২০১৪ তারিখে তাদের রপ্তানির প্রমাণ হিসেবে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকায় আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের প্যাডে ২০ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৬ মার্কিন ডলারের (১৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা) একটি পিআরসি দাখিল করে। যা তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত হয়। এ ক্ষেত্রে ঢাকার কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের একজন অসাধু ও দুর্নীতিবাজ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ওই প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করে। এ জন্য ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। যমুনা গ্রুপ তাকে পুনর্বহাল করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

এই গ্রুপের অপর সহযোগী বন্ডেড প্রতিষ্ঠান এমকাবা লিঃ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের নামাংকিত প্যাডে ৩৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫১ মার্কিন ডলারের (প্রায় ৩১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা) জাল পিআরসি দাখিল করে। যা যাচাইকালে ওই ব্যাংক পিআরসি জালিয়াতির বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করে। পুনরায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে পিআরসি দাখিল করে, যা তদন্তাধীন। জাল পিআরসি দাখিলের কারণে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি প্রক্রিয়াধীন।

যমুনা গ্রুপের আরেকটি সহযোগী বন্ডেড প্রতিষ্ঠান হংকং গার্মেন্টস্ লিমিটেডের বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানিকৃত কাঁচামাল অবৈধভাবে অপসারণজনিত কারণে ৭ কোটি ২৭ লাখ ৮৯ হাজার ১১৬ টাকার দাবিনামার কারণে বন্ড লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দায়েরকৃত রিট নং ৬৫৭০/২০১৪ এর অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে বন্ড লাইসেন্স স্থগিত ও BIN Lock এর আদেশ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে যার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক বন্ডিং কার্যক্রম বর্তমানে বন্ড কমিশনারেটে নিবিড় পর্যবেক্ষণে তদন্তাধীন ও আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

ঢাকায় কাস্টম হাউস উচ্চতর আদালতের রায়ে সংশ্লিষ্ট যমুনা গ্রুপের মালিকানাধীন যমুনা টেলিভিশন লিমিটেডের ৩ কোটি ৭৪ লাখ ১৯ হাজার ১৬২.৭৮ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টির নগদায়ন করা হয়েছে (সংলাগ-১৫)। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কর্তৃক যমুনা গ্রুপের ২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ২ কোটি ৯৭ লাখ ৫৮ হাজার ৪০২ টাকার দাবিনামা আদায়ের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

২০০৩ সালের দুইটি রিট মামলায় (৩০২৭/০৩ ও ৩০২৮/০৩) জড়িত সরকারের ১৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৮ হাজার ৬৪৪ টাকাসহ অন্যান্য মামলার টাকা আদায়ের জন্য সম্প্রতি এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে উদ্যোগ নেয়া হয়। এছাড়া সকল মামলার রাজস্ব আদায়েরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উপরের দু’টি মামলায় সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত হলে ১৯৯৮ সাল থেকে সুদসহ যমুনা গ্রুপকে ৬০০ কোটি টাকারও বেশি ফাঁকিকৃত রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা করতে হবে। এটা যমুনা গ্রুপের মালিক নুরুল ইসলাম বাবুলের গাত্রদাহের অন্যতম কারণ। এই আশঙ্কায় ভীত ও আশঙ্কিত হয়ে এনবিআর ও এর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কায়েমী ষড়যন্ত্র ও বিষোদগারে লিপ্ত হয়েছেন। সেই সঙ্গে মিথ্যাচার ও কল্পকাহিনী ছাপানোর জন্য নিজের পত্রিকা ও তার বেতনভোগী যুগান্তরের সাংবাদিক হেলাল উদ্দিনকে দিয়ে রিপোর্ট লিখে, দেশব্যাপী বিভিন্ন সরকারি সফরে চেয়ারম্যানকে গোপনে অনুসরণ করে, বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা হয়রানিমূলক বেনামীপত্র পাঠিয়ে তাকে মানসিকভাবে বিড়ম্বিত ও ভারাক্রান্ত রাখার জন্য। এসব কাজে এনবিআরের প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে এনবিআরের চেয়ারম্যান তার পরিবারের সদস্যদের এবং এনবিআরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবন ও সম্মানহানির আশঙ্কা করছেন।

এ ব্যাপারে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের জন্য রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান এনবিআর যদি সঠিকভাবে কাজ করতে না পারে তাহলে দেশের অগ্রগতি হবে না। এনবিআর এর উপর আক্রমণ হলে তা দেশের উপর আক্রমণের শামিল। এনবিআরের আহরিত রাজস্ব দিয়ে সম্পূর্ণ রাষ্ট্র চলে।’

তিনি বলেন, ‘অসৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ হাসিলের জন্য যমুনা গ্রুপের যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন বিভিন্নভাবে আমাদের সহকর্মী ও পরিবার পরিজনদের নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর সংবাদ ধারাবাহিকভাবে পরিবেশন করে আসছেন। এ অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হবে উত্তপ্ত লোহার মতো। সৎ লোক ধরলে ফুলের মতো অনুভব হবে, অসৎ লোক ধরলে আগুনে হাত পুড়ে যাবে।’


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print