শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » ২৩৪ পৌরসভায় ভোট ৩০ ডিসেম্বর

২৩৪ পৌরসভায় ভোট ৩০ ডিসেম্বর

নির্বাচন কমিশনেসারা দেশের ৩২৩টি পৌরসভার মধ্যে ২৩৪টি পৌরসভার ভোট গ্রহণ করা হবে ৩০ ডিসেম্বর। নতুন আইন ও আচরণবিধি মেনে এ ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

 

মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।

 

এ সময় নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ, মো. শাহনেওয়াজ, ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, উপসচিব শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

 

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩ ডিসেম্বর, যাচাই-বাছাই হবে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৩ ডিসেম্বর।

 

এ সময় সিইসি বলেন, সারা দেশে মোট ৩২৩টি পৌরসভার মধ্যে আগামী ফেব্রুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত যেসব পৌরসভার মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে এমন ২৩৪টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ জানান, ২৩৪টি পৌরসভায় সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ২ হাজার ৯৫২টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ৭৩৮টি। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৩ হাজার ৫৮২টি। এসব পৌরসভায় মোট ভোটার ৭১ লাখ ৬২ হাজার ৩৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৫৬জন। আর মহিলা ভোটার ৩৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪০ জন।

 

এ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ৪১ জন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ৬০ জন ও ১৩৩ জন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

 

সিইসি জানান, সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার,
মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র) এবং কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচনপূর্ব সময়ে  নির্বাচনী প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

 

তিনি আরো জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন করার প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে আরো সহজ করা হয়েছে। আগে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জুড়ে দেওয়ার বিধান ছিল। মেয়র প্রার্থীদের জন্য ১০০ জন ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জুড়ে দেওয়া বিধান রাখা হচ্ছে। এর আগে সর্বোচ্চ ২০০ জন ভোটারের স্বাক্ষর নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল ইসি। তবে আগে কেউ মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে থাকলে তার ক্ষেত্রে ভোটারদের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর লাগবে না। এবং কাউন্সিলর পদ নির্দলীয় হওয়ার সেখানে আগের মতোই নির্বাচন হবে। কাউন্সিলরদের কোনো ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে না।

 

পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকছে না। শুধু দলীয়ভাবে মনোনীত অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে পৌরসভর নির্বাচনী বিধিমালায়। এতে দলের প্রাথমিক মনোনয়নে একাধিক ব্যক্তি প্রার্থী হতে পারবেন। তবে চূড়ান্তভাবে একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বাকিদের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে। এ বিষয়ে প্রস্তাবিত বিধিমালার ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘রাজনৈতিক দল নির্বাচনী এলাকার মেয়র পদে প্রাথমিকভাবে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করলে, উক্ত রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কার্যনির্বাহকের স্বাক্ষরিত লিখিতপত্রের মাধ্যমে তিনি নিজে বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বা তার পূর্বে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করবেন এবং সেই ক্ষেত্রে উক্ত দলের মেয়র পদে অন্যান্য মনোনীত প্রার্থী আর প্রার্থী হিসেবেগণ্য হবেন না।’

 

প্রস্তাবিত বিধিমালায় প্রার্থী চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার পর কোনো অবস্থায় তা প্রত্যাহারের বা বাতিল করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সিইসি জানান, রাজনৈতিক দলের পক্ষে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কার্যনির্বাহকের স্বাক্ষরিত এই মর্মে প্রত্যয়ন থাকতে হবে যে, প্রার্থীকে ওই দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে শর্ত থাকে যে, রাজনৈতিক দল মেয়র পদে প্রাথমিকভাবে একাধিক মনোনয়নপত্র প্রদান করতে পারবে। রাজনৈতিক দল ক্ষমতাপ্রাপ্ত কার্যযনির্বাহকের নাম, পদবি ও নমুনা স্বাক্ষরসহ একটি চিঠি তফসিল ঘোষণার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করবে এবং তার অনুলিপি নির্বাচন কমিশনেও দাখিল করতে হবে।

 

এ নির্বাচনে প্রতি পৌরসভায় সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবে রাজনৈতিক দলগুলো। কোনো রাজনৈতিকদল বিধি ভঙ্গ করলে তার জন্য অনধিক পাঁচ লক্ষ টাকা দণ্ডেরও বিধান রাখা হয়েছে।

সূত্র: রাইজিংবিডি/


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print