বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » মিসবাহ-পেরেরায় রংপুরের দুর্দান্ত জয়

মিসবাহ-পেরেরায় রংপুরের দুর্দান্ত জয়

রংপুর রাইডার্সশুরুটা ছিল হতাশার। চিটাগং ভাইকিংসের দেওয়া ১৮৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ২৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল রংপুর রাইডার্স। এরপর ৮৭ রানে ৫ উইকেট। তবে ষষ্ঠ উইকেটে মিসবাহ-উল-হক ও থিসারা পেরেরার মাত্র ৩৫ বলে ৮০ রানের জুটি শেষ পর্যন্ত রংপুরকে দারুণ এক জয় এনে দিয়েছে। বিপিএলের উদ্বোধনী এই ম্যাচে শেষ বলে ১ রান নিয়ে ২ উইকেটের জয় তুলে নেয় সাকিব আল হাসানের দল। ৩৯ বলে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন মিসবাহ। আর পেরেরা ১৭ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন।

রোববার মিরপুরে চিটাগংয়ের দেওয়া ১৮৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমিরের তোপে পড়ে রংপুর। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আমিরের শেষ দুই বলে ফিরে যান রংপুরের দুই ওপেনার লেন্ডন সিমন্স (১) ও সৌম্য সরকার (২০)। পরের ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে ‘ডাক’ মেরে বিদায় নেন মোহাম্মদ মিথুন।

এরপর সাকিবও দ্রুতই ফিরলে ২৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে মহাবিপদে পড়ে রংপুর। তবে পঞ্চম উইকেটে তরুণ আল-আমিনের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ‘বুড়ো’ মিসবাহ। দলীয় ৮৭ রানে আল-আমিন ২৮ বলে ৩৮ রান করে ফিরে গেলে ভাঙে ৬৪ রানের জুটি। আল-আমিন ফিরলেও পেরেরাকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন মিসবাহ। এই দুজনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়েই জয়ের আশা জাগে রংপুর শিবিরে। শেষ ৩০ বলে  জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল ৭৪ রান। মিসবাহ-পেরেরার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ ১৮ বলে যা দাঁড়ায় ৪৩ রান।

১৮তম ওভারেই ২১ রান নিয়ে ব্যবধান কমিয়ে আনেন পেরেরা। তবে পরের ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে এই দুজনকে ফিরিয়ে চিটাগংকে ম্যাচে ফেরান আমির। শেষ ওভারে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান আর চিটাগংয়ের ২ উইকেট। শফিউল ইসলামের করা শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা ও চতুর্থ বলে চার মেরে রংপুরকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান ড্যারেন সামি। শেষ দুই বলে রংপুরের জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে ২ রান। কিন্তু প্রথম বলে ২ রান নিতে গিয়ে রান আউটে কাটা পড়েন সামি। তবে শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে রংপুরকে জয়ের আনন্দে ভাসান সাকলায়েন সজীব।

রংপুরের পক্ষে মিসবাহ ৩৯ বলে ৪টি ছক্কা ও ৩টি চারে ৬১ রান করেন। ১৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৩ রান করেন পেরেরা। ৭ বলে দুটি চার ও এক ছক্কায় ১৮ রান করেন সামি। চিটাগংয়ের হয়ে আমির ৩০ রানে নেন ৪ উইকেট।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে চিটাগং ভাইকিংস। ব্যাট হাতে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রানের ইনিংস খেলেন তামিম ইকবাল। ৩৯ রান আসে জিভান মেন্ডিসের ব্যাট থেকে। বল হাতে রংপুর রাইডার্সের সাকলাইন সজীব ৪ ওভার বল করে ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ২টি উইকেট শিকার করেন আবু জায়েদ।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আবু জায়েদের বলে আরাফাত সানীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরত যান তিলকরাত্নে দিলশান (২৯)। তিনি ১৬ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ২৯ রান করেন। এরপর দলীয় ১১৭ রানে সাকলাইন সজীবের বলে মিসবাহ-উল-হকের তালুবন্দি হয়ে ফিরে যান তামিম। তিনি ৩৫ বলে ৬টি চার ও ১ ছক্কায় ৫১ রান করেন। ১১৯ রানে সাকলাইন সজীবের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন এনামুল হক বিজয় (৩৬)।

এরপর আউট হয়ে ফিরে যান জিয়াউর রহমান। তার উইকেটটিও নিয়েছেন সাকলাইন সজীব। ১৫.১ ওভারের সময় দলীয় ১৩৪ রানে আউট হয়েছেন এল্টন চিগম্বুরা। তিনি আবু জায়েদের বলে আউট হয়েছেন। জিভান মেন্ডিস ও আসিফ আহমেদ মিলে দলীয় স্কোরকে টেনে নেন ১৭৮ রান পর্যন্ত। এরপর ব্যক্তিগত ৩৯ রানে রান আউটে কাটা পড়েন মেন্ডিস। দলীয় ১৮৩ রানের সময় রান আউটের শিকার হন মোহাম্মদ আমিরও। আসিফ আহমেদ ১৭ ও শফিউল ইসলাম ৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ফলে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় চিটাগং ভাইকিংস।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print