সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » সাকা-মুজাহিদের দাফন সম্পন্ন

সাকা-মুজাহিদের দাফন সম্পন্ন

সাকা-মুজাহিদমানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

ফরিদপুরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় আইডিয়াল ক্যাডেট মাদ্রাসা গেটের পাশে পারিবারিক স্থানে রোববার সকাল সোয়া ৭টায় মুজাহিদের মরদেহ দাফন করা হয়। অন্যদিকে, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে রাউজানের গহিরায় পারিবারিক কবরস্থানে সাকা চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন হয়।

রাইজিংবিডির ফরিদপুর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম টিটো জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৬টায় মুজাহিদের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স ফরিদপুরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় তার গ্রামের বাড়ি পৌঁছায়। ৬টা ৫০ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তায় মুজাহিদের জানাজা হয়। নিরাপত্তার খাতিরে কবরস্থানের আশপাশে যেতে দেওয়া হয়নি গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়দের। কবরস্থান থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে ছিলেন সংবাদকর্মীরা।

জানাজা পড়ান মুজাহিদের বড় ভাই আলী আফজাল মোহাম্মদ খালেফ। নিরাপত্তার কারণে কেবল নিকটাত্মীয়রা মুজাহিদের জানাজায় শরিক হন।

শনিবার রাতেই মুজাহিদের খাবাসপুরের বাড়ি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে স্থানীয় প্রশাসন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জানাজা ও দাফনের সময়ও সে অবস্থা বজায় রাখা হয়।

জানাজা শেষে খাবাসপুরের আইডিয়াল ক্যাডেট মাদ্রাসা গেটের পাশে পারিবারিক জমিতে রোববার সকাল সোয়া ৭টায় মুজাহিদকে দাফন করা হয়।

শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। কারাগার থেকে রাত ২টা ৫০ মিনিটে মুজাহিদের মরদেহ নিয়ে রওনা হয় অ্যাম্বুলেন্স। রাত পৌনে ৪টার দিকে সাভার অতিক্রম করে মুজাহিদের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছায়। ফেরিঘাটে প্রস্তুত রাখা হয় একটি ফেরি। ফেরিযোগে পদ্মা নদী পার হয়ে দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে রাজবাড়ীর মোড় হয়ে ফরিদপুরে পৌঁছায় মুজাহিদের মরদেহবাহী গাড়িবহর। রাত ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে মানিকগঞ্জ শহর পার হয় মুজাহিদের মরদেহবাহী গাড়ি। ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে পদ্মা পার হয় মুজাহিদের মরদেহবাহী গাড়ি ফরিদপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

নিরাপদে মুজাহিদের মরদেহ পৌঁছে দেওয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছে র‌্যাব-৩। তাদের তত্ত্বাবধানে পুলিশের দুটি ও র‌্যাবের দুটি গাড়ি মুজাহিদের মরদেহ পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়।

অন্যদিকে, রাইজিংবিডির চট্টগ্রাম প্রতিবেদক রেজাউল করিম জানান, রোববার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে রাউজানের গহিরায় পারিবারিক কবরস্থানে সাকা চৌধুরীর মরদেহ দাফন করা হয়। সকাল ৯টায় সাকার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স সেখানে পৌঁছায়।

পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাই সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরীর কবরের পাশে সাকার মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে গহিরার নিজ বাড়ি বাইতুল বিলালের উঠানে সাকা চৌধুরীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জানাজা পড়ান হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। জানাজায় সাকা চৌধুরীর পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ রাইজিংবিডিকে জানান, গহিরায় পারিবারিক কবরস্থানে ছোট ভাইয়ের কবরের পাশে সালাউদ্দিন কাদেরের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাকা চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এর দুই ঘণ্টা পর তার মৃতদেহ নিয়ে চট্টগ্রামের পথে রওনা হয় অ্যাম্বুলেন্স।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print