শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » সাকার মরদেহ চট্টগ্রামে

সাকার মরদেহ চট্টগ্রামে

2015_11_22_07_20_20_Uq5wuoVQHa5nCfqDXH3pVnZqnqQ9gh_originalঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ নিয়ে আসা হচ্ছে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার তার পৈত্রিক বাড়িতে। সেখানে তার দাফন হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রোববার সকাল ৭টা ১০ মিনিট) মরদেহবাহী বহরটি চট্টগ্রামের মিরসরাই অতিক্রম করেছে। সেই বহর সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী সড়ক দিয়ে হাটহাজারী হয়ে রাওজানে আসবে।

কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানিয়েছে, শনিবার দিবাগত রাত ০২টা ৫৩ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স। এর আগে রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়। ফাঁসি কার্যকরের তথ্য নিশ্চিত করেন আইজি (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দিন।

এদিকে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর লাশ প্রতিরোধে রাউজান উপজেলার প্রবেশ পথসহ বিভিন্ন পয়েন্টে মধ্যরাত পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নিলেও এখন পুলিশের তৎপরতায় তারা সরে গেছে।

সাকা চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই সাকার মরদেহ পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে চট্টগ্রামের অক্সিজেন থেকে হাটহাজারী হয়ে রাউজান পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক র‌্যাব-পুলিশ ও বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে। সাকার মরদেহ যাতে কোনো বাধার মুখে না পড়ে সেজন্য সড়কে কাউকে অবস্থান করতে দেয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

এছাড়া যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দাফন হবে তার গ্রামের বাড়ি রাউজানের গহিরায় বায়তুল বিলালের পারিবারিক কবরস্থানে। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার পর থেকে সেখানে পুলিশ পাহারায় কবর খোঁড়া শুরু হয়। সাত থেকে আটজন গোড়খোদক খননের কাজ করেন।

১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। পরে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন সাকা চৌধুরী। আপিলের রায়ে তাঁর মৃত্যুদন্ডদেশ বহাল থাকে। আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। এর ১৪ দিনের মাথায় ওই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন সাকা চৌধুরী।

২০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন চেম্বার আদালত ওই আবেদন শুনানির জন্য ২ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেছিলেন। পরে সাকা চৌধুরীর আইনজীবীর সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির তারিখ ১৭ নভেম্বর পুনর্নিরধারণ করেন আপিল বিভাগ। কিন্তু সাকা চৌধুরীর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি এক দিন পিছিয়ে দেন আদালত।

১৮ নভেম্বর বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার সদস্যের বে  সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করেছেন। ফলে চূড়ান্ত আদেশেও তাঁর ফাঁসি বহাল থাকে। ফাঁসির রায় বহাল থাকায় সাকা চৌধুরীর সামনে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ ছিলো।

পরে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র সহকারী জজ আফতাবুজ্জমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রায়ের অনুলিপি নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়। সে দিন রাতেই সাকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস ও ডা. হাফিজ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। শুক্রবার সকালে ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তিনি শারীরিকভাবে ‍সুস্থ আছেন।’

শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে কোনো এক সময়ে সিনিয়র জেলসুপার জাহাঙ্গীর কবির তার সামনে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন। এসময় সাকা জানান তার আইনজীবির সাথে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। ফলে সকল প্রস্তুতি থাকা সত্বেও এই কারণে ওই দিন তার ফাঁসি কার্যকর করা যায়নি।

শনিবার দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারে সালাউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রাণ ভিক্ষার ব্যাপারে জানতে চান। পরে সালাউদ্দিন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন বলে জানান কারা সূত্র।

প্রাণভিক্ষার সেই আবেদন প্রথম যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতামত দেয়ার পর নথি যায় আইনমন্ত্রীর কাছে। আইনমন্ত্রীও মতামত দেয়ার পর প্রাণভিক্ষার ফাইল নিয়ে যাওয়া হয় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের। রাত ৯টার দিকে আইনসচিব বেরিয়ে আসেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে। রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করার পরই শুরু হয় দন্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া।

ডাকা হয় তার পরিবারের সদস্যদের। রাত রাড়ে ৯টার দিকে মূল ফটক দিয়ে তাদের কারাগারে প্রবেশ করানো হয়। শেষ দেখার পর রাত ১০টা ৫০ মিনিটে তারা কারাগার থেকে বের হয়ে যান। এ সময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘এ সরকার যেহেতু বাবাকে নির্বাচনে হারাতে পারেনি তাই একটু পরে হয়তো তার জানটা কেড়ে নেবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাণভিক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বাবা (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) আমাদের বলেছেন- এই বাজে কথা (প্রাণভিক্ষা) তোমাদেরকে কে বলেছে?’

উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদন্ডাদেশ পাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সাকার আইনজীবীরা। আপিল আবেদনে মোট ১ হাজার ৩২৩ পৃষ্ঠার নথিপত্রে বিভিন্ন ডকুমেন্টসহ ২৭টি গ্রাউন্ড ছিল।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print