শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » সাম্প্রতিক খবর » টিআইবির নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ

টিআইবির নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ

টিআইবি tib জাতীয় সংসদকে ‘পুতুল নাচের নাট্যশালা’ উল্লেখ করে অবমাননাকর ও বিরূপ মন্তব্য করায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

এ সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রচলতি আইন অনুযায়ী এনজিও বিষয়ক ব্যুরো টিআইবির নিবন্ধন বাতিল করতে পারে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

বুধবার বিকেলে সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘বৈঠকে বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কাযর্ক্রম) রেগুলেশন বিল-২০১৫ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেউ রাষ্ট্র, সংসদ, সংবিধান সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করলে তা অপরাধ এটা বিলে বহাল রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘টিআইবি সংসদকে পুতুল নাচের নাট্যশালা বলছে, এটা স্পর্ধা, অশালীন। সংবিধানেও বলা আছে শালিনতা বহির্ভুত কিছু বলা যাবে না। তারপরও টিআইবিকে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ দেয়া হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম ঠিক আছে বইলা ফাইলাছো, তোমাদের তিনদিন সময় দিলাম মাপ-সাপ চাও। তোমাদের মাথাও থাক…. আমাদের ইয়াও থাক। কিন্তু ও বাবা তাদের অহমিকা এমন জায়গায় চলে গেছে তারা পার্লামেন্টের কাছে মাথা নুয়াবে না। তো আমি কি করবো?’

সুরঞ্জিত বলেন, ‘রাষ্ট্র বা সংবিধান সম্পর্কে কেউ যদি এরকম কিছু বলে তাহলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। এটা আইনেও আছে। পরবর্তী বৈঠকে এটা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তখন এনজিও ব্যুরো কাজগুলো করবে।’

সেক্ষেত্রে টিআইবির নিবন্ধন বাতিল হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘আমাদের তো কিছু করার নাই। সংবিধান তো রক্ষা করতে হবে। আইন অনুযায়ী, টিআইবির নিবন্ধন বাতিলে কোনো সমস্যা নেই। এনজিও ব্যুরোই তা করতে পারবে।’

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘এই সংসদ হতে বহু বছর লেগেছে। তারপরও সংসদ নিখুঁত হয়নি। দোষত্রুটি থাকতে পারে। তাই বলে কেউ সংসদকে জনমনে হেয়প্রতিপন্ন করবে এই অধিকার দেয়া হয়নি। এরজন্য বিরোধী দল আছে। পেইড অপজিশন। গণতন্ত্রের পেইড অপজিশন। তাদের বিরেধী দল হিসেবে পতাকা দেয়া হয়েছে। আর এর বাইরে আরো একটা বিরোধী পক্ষ আছে যেমন বিএনপি। তারা বলতে পারে, তাদের সেই অধিকার আছে। কিন্তু তুমি (টিআইবি) এনজিও…। কাক কেন রে ভাই আজ ময়ুর সাজে। ময়ুর ময়ুরের কাজ করবে, কাক কাকের কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ তারা সংসদ সম্পর্কে বলবে, কালকে ইসি, হাইকোর্ট সম্পর্কে বলে বসবে তখন রাষ্ট্র কী করবে? এই জায়গাটা আগেও ছিল, আইনের মধ্যে ছিল। আমরা কোন অপরাধ দণ্ডে যাইনি? এজন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধে বিচার করবো না। তবে এগুলো হলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হবে। আমাদের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাতিল করবো।’

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘এনজিওদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এতোদিন এনজিওর অর্থ খরচের কোনো নিরিখ ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসেছে। এখন থেকে বৈদেশিক অনুদানের ২০ শতাংশ তাদের প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করতে পারবে, বাকিটা জনকল্যাণে খরচ করতে হবে।’


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print