সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » ২০ সিরিজ জয়ে ১১টিই হোয়াইট ওয়াশ

২০ সিরিজ জয়ে ১১টিই হোয়াইট ওয়াশ

bdগতবছর দেশের মাটিতে ৫-০তে সিরিজ জিতেছিলো বাংলাদেশ। এবারও সেই জিম্বাবুয়ে “বাংলাওয়াশ”। তামিম-ইমরুলের ব্যাটিং ও মুস্তাফিজের আগুন ঝরানো বোলিংয়ে (৫/৩৪) আজ শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে দাপটে ৬১ রানে হারিয়ে ৩-০তে সিরিজ জিতে নিলো টাইগাররা।

এদিন বাংলাদেশের দেয়া ২৭৭ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৪৩.৩ ওভারে ২১৫ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। দলের পক্ষে সেন উইলিয়ামস সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে ‍মুস্তাফিজুর রহমান ৪টি, সাব্বির রহমান ১টি, মাশরাফি মুর্তজা ১টি, নাসির হোসেন, আল-আমিন হোসেন ১টি করে উইকেট নেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৭৬ রান করে বাংলাদেশ। দুই টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস ওপেনিং জুটিতে ১৪৭ রানের পার্টনারশীপ গড়েন।

শেষমেশ ইমরুল কায়েস ৭৩ ও তামিম ইকবাল ৭৩ রান করে আউট হন। আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ করেন ৪০ বলে ৫২ রান। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৪৫ রানে ও দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৮ রানে জয়লাভ করেছিলো বাংলাদেশ।

এদিন জিম্বাবুয়েকে শুরু থেকেই চাপে রাখে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে ওপেনার চামু চিবাবাকে (৪) বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। দ্বিতীয় ব্রেক থ্রুও এনে দেন এই পেসার। সপ্তম ওভারে নাসিরের হাতে ক্যাচ বানিয়ে চাকাভাকে (১৭) সাজঘরে ফেরান তিনি।

তৃতীয় উইকেট শিকার করেন নাসির হোসেন। ইনিংসের নবম ওভারে ক্রেইগ আরভিনকে (২১) এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি।

এরপর এলটন চিগুম্বুরা ও সেন উইলিয়ামস ৮০ রানের পার্টনারশীপ গড়েন দলকে এগিয়ে দেন। তাদের সে জুটি ভাঙেন সাব্বির রহমান। এলটন চিগুম্বুরাকে (৪৫) বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তিনি।

তারপর ম্যালকম ওয়ালারকে সঙ্গে নিয়ে ৫৯ রানের পার্টনারশীপ গড়েন সেন উইলিয়ামস। ওয়ালারকে (৩২) ফেরান আল-আমিন হোসেন। ওয়ালারের ক্যাচটি নেন নাসির হোসেন।

এরপর ৬৪ রানের ইনিংস খেলা সেন উইলিয়ামসকে সাজেঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান টাইগার দলপতি মাশরাফি মুর্তজা। এরপর ৪১তম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে সিকান্দার রাজা ও লুকে জংউইকে সাজঘরে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। আর শেষ উইকেটটি নেন আরাফাত সানি।

একাদশতম হোয়াইট ওয়াশ পেয়ে গেল বাংলাদেশ। বুধবার মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেও জিতে নেয় মাশরাফি বাহিনী। ফলে তিন ম্যাচ সিরিজটা ৩-০ তে জিতে বাংলাদেশ। গত বছর দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা। এবার নিয়ে তিনবার জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশ করলো বাংলাদেশ।

এছাড়া নিউজিল্যান্ডকে দুইবার, কেনিয়াকে দুইবার, পাকিস্তান, ওয়স্ট ইন্ডিজ, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডকে একবার করে হোয়াইট ওয়াশ করে বাংলাদেশ। ২০০৫-০৬ মৌসুমে দেশের মাটিতে কেনিয়াকে ৪-০তে হারিয়ে প্রথমবারের মতো হোয়াইট ওয়াশের স্বাদ নিয়েছিল টাইগাররা।আর ওয়ানডে ক্রিকেট সব মিলিয়ে ২০বার সিরিজ জিতে বাংলাদেশ যেখানে ১১টিই হোয়াইটওয়াশ।

১১টি হোয়াইট ওয়াশের ৯টিই আসে দেশের মাটিতে। দেশের বাইরে কেনিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইট ওয়াশ করে বাংলাদেশ। বড় দলের বিপক্ষেও ক্লিনসিটের নজীর আছে টাইগারদের। দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে দুবার এবং এ বছর পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করার কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। নিচে তালিকা দেওয়া হলো-

প্রতিপক্ষ                  মৌসুম                   ফলাফল             ভেন্যু

কেনিয়া                   ২০০৫-০৬             ৪-০                   বাংলাদেশ

কেনিয়া                   ২০০৬                   ৩-০                  কেনিয়া

জিম্বাবুয়ে                 ২০০৬-০৭             ৫-০                  বাংলাদেশ

স্কটল্যান্ড                  ২০০৬-০৭             ২-০                   বাংলাদেশ

আয়ারল্যান্ড              ২০০৭-০৮             ৩-০                  বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ            ২০০৯                   ৩-০                  ওয়েস্ট ইন্ডিজ

নিউজিল্যান্ড              ২০১০-১১              ৪-০                   বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ড              ২০১৩-১৪              ৩-০                  বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ে                 ২০১৪-১৫              ৫-০                  বাংলাদেশ

পাকিস্তান                 ২০১৫-১৬              ৩-০                 বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ে                   ২০১৫                   ৩-০                বাংলাদেশ


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print