সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » আজ মিয়ানমারের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন

আজ মিয়ানমারের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন

myanmar sochi ৫০ বছর সামরিক শাসনের পর এই প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মিয়ানমারে। ২০১১ সালে দেশটিতে আধা সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচন ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়।

কে হবে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপতি তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা হচ্ছে। তবে অং সান সুচির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) নিরঙ্কুশ বিজয় পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোট কি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আদৌ হবে?

মিয়ানমারের এবারের নির্বাচনে ৪৯৮ আসনের বিপরীতে  ছয় হাজারেরও বেশি প্রার্থী এবং ৯১ টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। তবে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সেনা সমর্থিত ক্ষমতাসীন ইউনিয়ন সলিডারিটি পার্টি ও এনএলডির মধ্যে। দেশটির তিন কোটি ভোটার নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেবেন। তবে দেশটির অন্তত ৫ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমকে দেশটির নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) জয়ে সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া সু চিও তার দলের জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করছেন, নির্বাচনে বেশ বড় ত্রুটি থাকতে পারে। পর্যবেক্ষককারীদের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হচ্ছে, একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন। যাতে সাধারণ জনগণের মতপ্রকাশের প্রতিফলন ঘটবে।

নির্বাচন উপলক্ষ্যে তৈরি ভোটার তালিকায় বেশকিছু ত্রুটি রয়েছে। অনেক মৃত ব্যক্তি ভোটার তালিকায় রয়েছে আবার অনেক জীবিতদের ভোটার তালিকায় নাম নেই।

সংশোধিত সংবিধানে অনির্বাচিত সামরিক প্রতিনিধিদের সংসদে ২৫ শতাংশ আসন বরাদ্ধ থাকবে। তারা সংবিধান পরিবর্তনে ভেটো দেয়ার ক্ষমতা পাবে। এই কারণে অনেকেই একে ‘শৃঙ্খলিত গণতন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

অং সান সুচির দলের জনপ্রিয়তা কেমন?

এটা আসলে বলা কঠিন কারণ এখন পর্যন্ত কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী জরিপ চালানো হয় নাই। শুধুমাত্র ১৯৯০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও ২০১২ উপনির্বাচনের ফলাফল ছাড়া।

১৯৯০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) ৪৯২টি আসনের মধ্যে ৩৯২টি আসন পেয়েছিল। মোট ভোটের ৫২.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

২২ বছর পর উপনির্বাচনে এনএলডি ৪৫ আসনের মধ্যে ৪৩টি আসন পেয়েছিল। এ নির্বাচনে তারা ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অং সান সুচির রোহিঙ্গাদের প্রত্যাখান করায় আশাহত হয়েছেন। তবুও মায়ানমারের মুসলিম সম্প্রদায় সুচির দলকেই পছন্দ করছে। যা নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে।

নিরঙ্কুশ জয় পাবে?

এটা সম্ভব। অতীতে মায়ানমারের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে দলটি।

১৯৯০ সালের নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যাবে, এনএলডি মোট ভোটের অর্ধেক পেয়ে ৮০ শতাংশ আসন পেয়েছে। তবে মূল প্রতিযোগিতা হবে সংখ্যালঘু প্রদেশের ২০৭টি আসনকে কেন্দ্র করে।

তবে রবিবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ক্ষমতাসীন ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ও সুচির এনএলডির মধ্যে।

কিভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে?

পরোক্ষভাবে ২০০৮ সালের সংবিধান অনুযায়ী জটিল  প্রক্রিয়ায় সংসদ রাষ্ট্রপতি ঠিক করবে।

প্রথমত সংসদকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হবে: নির্বাচিত নিম্ন কক্ষ প্রতিনিধি, নির্বাচিত উচ্চ কক্ষের প্রতিনিধি এবং অনির্বাচিত সামরিক প্রতিনিধি।

তিনটি পক্ষ থেকে তিনজন প্রার্থী দেবে। তারপর তিন কক্ষের প্রতিনিধিদের ভোটে যে জয়ী হবে সে প্রেসিডেন্ট হবে আর বাকি দুইজন ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print