রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » ২৭৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে জিম্বাবুয়ে

২৭৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে জিম্বাবুয়ে

bdবাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে তিন ম্যাচ ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের দেয়া ২৭৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে জিম্বাবুয়ে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৯ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৪০ রান সংগ্রহ করেছে সফরকারীরা। এখন ব্যাটে আছেন চামু চিবাবা ও লুকে জংউই।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট না হারিয়ে ২৭৩ রান করে করে বাংলাদেশ। এছাড়া সাব্বির রহমান করেন ৫৭ রান।

ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি করা মুশফিক দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৭ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলেন। এ ছাড়া সাব্বির ৫৭, তামিম ৪০, সাকিব ১৬ রান করেন। আর শেষ দিকে মাশরাফি ৮ বলে ১৪ ও আরাফাত সানী ৮ বলে ১৫ রান করে দলের সংগ্রহে অবদান রাখেন।

শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক এল্টন চিগুম্বুরা। আর ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই স্বাগতিক দর্শকদের হতাশ করেন লিটন দাস।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরু থেকেই বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ লিটন তিন নম্বর থেকে এদিন প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু এদিনও ব্যর্থতার পরিচয় দেন এই ডানহাতি, সাজঘরে ফেরেন উইকেটের প্রকৃতি বুঝে ওঠার আগেই। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জিম্বাবুয়ের পেসার লুক জংউইয়ের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে পয়েন্টে গ্রায়েম ক্রেমারকে ক্যাচ দিয়ে ‘ডাক’ মেরে বিদায় নেন লিটন।

শুরুতেই লিটনের উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন তামিম ইকবাল। তবে বেশিদূর যেতে পারেনি এ জুটি। ইনিংসের নবম ওভারে মাহমুদউল্লাহকে (৯) ফিরিয়ে ২৮ রানের জুটি ভাঙেন তিনাশে পানিয়াঙ্গারা। মাহমুদউল্লাহকে বোল্ড করেন জিম্বাবুয়ের এই পেসার।

৩০ রানেই ২ উইকেট হারানোর পর মাহমুদউল্লাহর ‘ভায়রা ভাই’ মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন তামিম। এই দুজনের ব্যাটে ভালোই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। সিকান্দার রাজার করা ইনিংসের ২৪তম ওভারে প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে দলের স্কোর ১০০ পার করেন মুশফিক। কিন্তু রাজার পরের বলেই ফিরে যান তামিম (৪০)। বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে লুক জংইয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন এই বাঁহাতি। তামিম-মুশফিক তৃতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৭০ রান।

তামিমের বিদায়ের পর মুশফিক ফিফটি তুলে নিলেও নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে আসা সাকিব আল হাসান দ্রুতই বিদায় নেন। রাজার বল ক্রিজ থেকে বেরিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন সাকিব (১৬)। আর তার বিদায়ে ১২৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে আবার বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে পঞ্চম উইকেটে সাব্বির রহমানকে নিয়ে দারুণভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মুশফিক। দুজন মিলে দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪১ ওভারে দলের স্কোর ২০০ রান পার করেন।

এরপর ইনিংসের ৪৫তম ওভারে জংউইয়ের পর পর দুই বলে একটি করে ছক্কা ও  চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন সাব্বির। তার পরের ওভারেই মুজারবানির বলে সিঙ্গেল নিয়ে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। ১০৪ বলে ৮টি চার ও এক ছক্কায় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

এরপর দলীয় ২৪২ সাব্বির রানআউটে কাটা পড়লে পঞ্চম উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে তার ১১৯ রানের বড় জুটিও ভেঙে যায়। ৫৮ বলে ৪টি চার ও দুটি ছক্কায় ৫৭ রান করেন সাব্বির। সাব্বিরের বিদায়ের পর নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে এসে ‘ডাক’ মারেন নাসির হোসেন। মুজারাবানির বলে চামু চিবাবার হাতে ধরা পড়েন তিনি। মুজারাবানির পরের বলেই রান আউট হন সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক। ১০৯ বলে ৯টি চার একটি ছক্কায় ১০৭ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলেন এই ডানহাতি।

মাত্র ১ রানের মধ্যে সাব্বির-নাসির-মুশফিকের উইকেট হারালেও মাশরাফি ও আরাফাত সানী ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ দুই ওভারেই ২৮ রান তোলেন। মাশরাফি ৮ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ১৪ রান করে শেষ ওভারে বিদায় নেন। আর সানী ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে ১৫ রান করেন। তার ৮ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চারের মার।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে সিকান্দার রাজা ও তাউরাই মুজারাবানি দুটি করে উইকেট নেন। তিনাশে পানিয়াঙ্গারা ও লুক জংউইয়ের ঝুলিতে জমা পড়ে একটি করে উইকেট।

ঘরের মাঠে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের রেকর্ড নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় আছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ে শিবিরে ভিন্নচিত্র। ঘরের মাঠে আইসিসির সহযোগী দেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারের স্বাদ নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে দলটি। স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে অতিথীরা।

বাংলাদেশ আজ সাত ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলছে। সৌম্য সরকারের ইনজুরিতে স্কোয়াডে আসা ইমরুল কায়েসের একাদশে জায়গা হয়নি। আজ অভিষেক হচ্ছে না কামরুল ইসলাম রাব্বির। নেই স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনও। একাদশে আছেন পেসার আল-আমিন হোসেন।

বাংলাদেশ একাদশ : মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, আরাফাত সানী, আল-আমিন হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।

জিম্বাবুয়ে একাদশ : এল্টন চিগুম্বুরা (অধিনায়ক), চামু চিবাবা, রিচমন্ড মুতুমবামি, ক্রেইগ আরভিন, শন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজা, লুক জংউই, গ্রায়েম ক্রেমার, তিনাশে পানিয়াঙ্গারা, তাউরাই মুজারাবানি ও মেলকম ওয়ালার।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print