শুক্রবার , ২২ জুন ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » ঐশীর মামলার রায় ১২ নভেম্বর

ঐশীর মামলার রায় ১২ নভেম্বর

Oishi-ঐশীমা-বাবা পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও স্বপ্না রহমান হত্যায় মেয়ে ঐশী রহমানের বিরুদ্ধে মামলার রায় আগামী ১২ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে বলে ঠিক করেছে ট্রাইব্যুনাল।

মামলাটিতে তৃতীয় দিলের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বুধবার ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ রায় ঘোষণার এই দিন ঠিক করেন।

শুনানিকালে আসামি ঐশী রহমান ও তার দুই বন্ধু আসাদুজ্জামান জনিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। অন্যদিকে জামিনে থাকা অপর আসামি ঐশী রহমানের অপর বন্ধু মিজানুর রহমান রনি আদালতে হাজির ছিলেন।

বুধবার রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পিপি মাহাবুবুর রহমান এবং আসামি ঐশীর পক্ষে অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ, মাহবুবুর রহমান রানা, শাহজামান তুহিন এবং রনির পক্ষে মো. জসিম উদ্দিন ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। বুধবারের আগেও তারা আরও দুইটি ধার্য তারিখে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

বুধবার যুক্তিতর্ক শুনানিতে আসামি ঐশী রহমানের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ দাবী করেন যে, ঐশী হত্যাই করেনি। কে বা কারা হত্যা করেছে তাও সে জানে না। পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ চাপানো হয়েছে। এছাড়া তার জন্ম সনদ অনুযায়ী ঘটনার সময় সে নাবালক ছিল। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতিতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি তাই তিনি খালাস পাবেন।

অন্যদিকে আসামি জনির পক্ষে অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন বলেন, ঐশী সে জনির কথা বলেছেন আর আদালতে উপস্থিত জনি একই ব্যক্তি নন, তাই তিনি খালাস পাবেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে পিপি মাহাবুবুর রহমান বলেন, আসামি ঐশী রহমান, তার দুই বন্ধু আসাদুজ্জামান জনির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন। ঐশী ঘটনার সময় নাবালক ছিলেন তা সত্য নয়। তার বয়স ছিল ১৯। আসামি রনি বিরুদ্ধে আসামি ঐশী রহমানকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন মর্মে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করেন।

বিচারক উভয়পক্ষের শুনানির পর বলেন, আমি মামলাটি নিয়ে এখনও অন্ধকারে আছি। আসামিপক্ষের বক্তব্য শুনলে মনে হয় তাদের বক্তব্য সত্য আবার রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনলে মনে হয়েছে তাদের বক্তব্য সত্য। আপনারা দোয়া করবেন যেন মামলাটি আামি আমার মেধা দিয়ে পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারি।

মামলাটির যুক্তিতর্কের শুনানির আগে ট্রাইব্যুনাল মোট ৪৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

মামলাটির অপর আসামি গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি। নাবালক হওয়ায় অন্য আদালতে তার বিচার চলছে। মামলাটিতে খাদিজা আক্তার সুমি ও রনি জামিন আছেন।

মামলাটিতে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ ডিবির ইন্সপেক্টর মো. আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর দিন তাদের মেয়ে ঐশী রহমান রমনা থানায় নিজে আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তী সময়ে সে আদালতে হত্যার অভিযোগ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print