বৃহস্পতিবার , ২৬ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » জ্ঞান-বিজ্ঞান » ইন্টারনেটে নজরদারিতে ৩০ কোটি টাকার প্রকল্প

ইন্টারনেটে নজরদারিতে ৩০ কোটি টাকার প্রকল্প

internetঅবশেষে আলোর মুখ দেখছে ইন্টারনেট নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাইবার অপারাধ দমনে প্রায় দুই বছর থেকে ঝুলে থাকা উদ্যোগটি চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবস্থায় নজরদারি জোরদার করতে একটি দেশি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)।

শিগগিরই এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে যাচ্ছে। এ ব্যবস্থা চালু করতে ৩০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক উসকানিমূলক বক্তব্য, ছবি প্রভৃতির প্রচার বেড়ে যাওয়ায় এ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের শুরুতে ইন্টারনেট সেফটি সলিউশন নামে (আইএসএস) একটি প্রকল্প গ্রহণ করে বিটিআরসি । কিন্তু গত দুই বছরে তিন দফা দরপত্র ডেকেও প্রকল্পটি চালু করতে পারেনি সংস্থাটি।

সূত্র জানিয়েছে, অবশেষে সর্বশেষ জমা হওয়া দরপ্রস্তাব থেকে মেট্রোনেট নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করেছে বিটিআরসি। এখন মেট্রোনেটের প্রস্তাবটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর সম্মিতি পেলে এ প্রস্তাবটি বিধি অনুসারে সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হবে।

মেট্রোনেট রহিমআফরোজ গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান বলে জানা গেছে।

বিটিআরসির তথ্য মতে, নির্বাচিত ফার্মটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার বসাবে। তারা বিটিআরসির তত্ত্বাবধানে বিষয়টি দেখভাল করবে।

২০১২ সালের দিকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ধর্মীয় উসকানি ও সামাজিক হয়রানিমূলক প্রচার প্রচারণা বেড়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে আইএসএস ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় বিটিআরসি। প্রথমে বিটিআরসি নিজেই এ পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহে দরপত্র আহ্বান করে। কিন্তু ব্যয় বেশি হবে বলে পরবর্তীতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ইন্টারনেট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল তারা আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে।

এতে নয়টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এর মধ্য বেজ টেকনোলজিস, পারকি গ্লোবাল, ইজি কমিউনিকেশন, প্যানাসিয়া সিস্টেমস, ইনফ্রা বিল্ডার্স, আইটি কনসালট্যান্ট ও সেম্পশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল এই সাত প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে নির্বাচন করে বিটিআরসি।

পরবর্তীতে এ প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়। আর দ্বিতীয় দফার দরপ্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানায় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিষয় দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)। তারা অভিযোগ করে, বিটিআরসি দরপ্রস্তাব যাচাই বাছাইয়ে সরকারি ক্রয় বিধি লঙ্ঘন করেছে। নিয়ম অনুসারে দর প্রস্তাব যাচাইয়ের জন্য বিটিআরসি গঠিত কারিগরি কমিটিতে সংস্থার বাইরের দুই প্রতিনিধি রাখা হয়নি। ফলে এটিও বাতিল বলে গণ্য হয়।

এরপর ২০১৪ সালের নভেম্বরে তৃতীয়বারের মতো দরপত্র আহ্বান করে বিটিআরসি। এতে আবেদন জমা দেয় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো : সামিট কমউনিকেশন, বেজ টেকেনোলজিস, ফাইবার এট হোম, নেক্সট অনলাইন ও মেট্রোনেট। যাচাই বাছাই করে বিটিআরসি মেট্রোনেটকে নির্বাচিত করে।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির বিদায়ী চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেন, ‘দেশে সাইবার অপারাধ অনেক বেড়ে গেছে। এটা মোকাবেলায় বিটিআরসি সক্ষম নয়। এ জন্য বৃহৎ পরিসরে সাইবার সিকিউরিটি সংস্থা গঠনের প্রয়োজন। তবে আপাতত বিটিআরসি ছোট আকারে এ উদ্যোগ নিচ্ছে। শিগগিরই আইএসএস প্রকল্পটি চালু হবে।’


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print