সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » খোকার ১৩ বছরের কারাদণ্ড, সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

খোকার ১৩ বছরের কারাদণ্ড, সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

সাদেক হোসেন খোকাদুর্নীতি মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে দোষি সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দুটি ধারার একটিতে ১০ বছর এবং আরেকটিতে ০৩ বছরে কারাদণ্ড দেয়া হয়। তাকে ১১ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও সাত মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া তার অবৈধ সব সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

 

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার পর ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার তাকে দোষি সাব্যস্ত করে দুই ধারায় মোট ১৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। তবে বিএনপির এই নেতা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের মে মাসে দেশের বাইরে গেলেও আর ফেরেননি।

 

গত ৪ অক্টোবর মামলাটিতে যুক্তিতর্কের শুনানির পর আজ রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেছিল আদালত। এর আগে দুদকের পক্ষে আদালত ৪২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

 

এর আগে ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর বিএনপির এই নেতাকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

 

২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সাদেক হোসেন খোকা দুই কোটি ৪৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা সম্পদের হিসাব দাখিল করেন। দুদক সম্পদের তদন্তের পর ৯ কোটি ৭৬ লাখ ২৮ হাজার ২৬১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও নয় কোটি ৬৪ লাখ তিন হাজার ৬০৯ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল রমনা থানায় এই মামলা করে।

 

২০০৮ সালের ১ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা এই মামলা হাইকোর্টে সাদেক হোসেন খোকার মামলা বাতিলের আবেদনের কারণে দীর্ঘদিন নিম্ন আদালতের বিচার কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

 

মামলাটিতে তার স্ত্রী মিসেস ইসমত আরাও আসামি। তবে চার্জশিট দাখিলের পূর্বে হাইকোর্ট তার অংশের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করায় তার অংশের তদন্তও স্থগিত রয়েছে।

 

মামলায় খোকার ছেলে ইসরাক হোসেন ও মেয়ে সারিকা সাদেক আসামি থাকলেও তাদের চার্জশিটে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

খোকার যতসম্পদ
দুদক থেকে সরবরাহ করা খোকার সম্পত্তির হিসাব বিবরণীতে বলা হয়েছে, খোকার নামে রাজধানীর গোপীবাগে ২টি বাড়ি, আর কে মিশন রোডে ৩য় তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি, গুলশানে ১টি ৬ তলা বাড়ি আছে। খোকার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের নামে ৬টি ফ্ল্যাট আছে ঢাকায়।
জমা দেয়া হিসাব বিবরণী অনুযায়ী খোকার নামে মুন্সীগঞ্জে প্রায় ৩২ শতাংশ, গাজীপুরে ১ হাজার ১৪২ শতাংশ জমি আছে। তার স্ত্রীর নামে ঢাকায় ৮টি প্লট ও গাজীপুরে ১ হাজার ৬৭৪ শতাংশ জমি আছে বলে হিসাব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জমা দেয়া হিসাব বিবরণী অনুযায়ী, খোকার ছেলের নামে বসুন্ধরা সিটিতে ১টি দোকান আছে। খোকা ও তার স্ত্রীর নামে ১৫ লাখ টাকার শেয়ার আছে, শেয়ার কেনাবেচা করে তিনি আয় করেছেন প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। খোকার ব্যবসায়িক মূলধন ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। তার এক ছেলের নামে ২৫ লাখ টাকার এফডিআর ও আরেক ছেলের নামে ১৫ লাখ টাকার প্রতিরক্ষা সঞ্চয়পত্র আছে।
খোকার নামে ২টি আগ্নেয়াস্ত্র আছে। তিনি ২টি গাড়ির (লেক্সাস ও টয়োটা) মালিক। এছাড়া খোকা আড়াই লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কারের মালিক। তার নিজ ও যৌথ নামে ২৭টি ব্যাংক হিসাব আছে। স্ত্রী ও মেয়ের নামে যথাক্রমে ১১টি ও ২টি ব্যাংক হিসাব আছে।
দুদক থেকে সরবরাহ করা হিসাব বিবরণী সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত খোকা ও তার পরিবারের সদস্যরা এসব সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। দুদকের সরবরাহ করা এ তথ্য অবশ্য সঠিক নয় বলে সাদেক হোসেন খোকা এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন।

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print