রবিবার , ২২ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » দুর্গাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হলো দুর্গোৎসব

দুর্গাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হলো দুর্গোৎসব

দুর্গোৎসবঢাক আর ঢোলে কাঠির বাড়ি, ধূপের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন মণ্ডপ, কাঁসর ও শঙ্খের শব্দ শিহরণের মধ্যে দিয়ে আজ থেকে শুরু হলো পাঁচদিনব্যাপী দুর্গোৎসব।

 

মাতৃরূপে দেবী অধিষ্ঠিত হলেন মণ্ডপে মণ্ডপে। প্রার্থনার মধ্য দিয়ে জাগরিত হয়ে বিশ্ব থেকে অশুভকে বিদায় দেয়ার পণ। এভাবেই শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হলো আজ। আজ দুর্গাষষ্ঠী।

 

গতকাল রোববার ছিল দুর্গা দেবীর বোধন। তবে দুর্গাষষ্ঠীর মধ্য দিয়েই দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু। সারাদেশে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। দুর্গতি নাশিনী দেবী দুর্গার আগমনে উচ্ছ্বসিত ভক্তকুল।

 

আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনে রাজধানীসহ সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন।

 

ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে ৫ দিনব্যাপী হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সব প্রস্তুতি। প্রতিমায় পড়ছে রং-তুলির শেষ আঁচড়। এ উৎসব ঘিরে দেশ এখন আনন্দমুখর।

 

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর রাজধানীতে ২২৩টিসহ সারাদেশে ২৯ হাজার ৩৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সনাতন বিশ্বাস ও বিশুদ্ধ পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন। যার ফল হচ্ছে রোগ, শোক, হানাহানি-মারামারি বাড়বে। আর দেবী স্বর্গালোকে বিদায় নেবেন দোলায় (পালকি) চড়ে। যার ফল মড়ক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ, মহামারীর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাবে।

 

আজ সোমবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ অর্থাৎ দুর্গাষষ্ঠী পূজা মধ্যে দিয়ে শুরু হলো দুর্গোৎসবের। দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস এবং সন্ধ্যায় ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান।

 

২০ অক্টোবর দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, সপ্তমী ও মহাসপ্তমী পূজা।

 

২১ অক্টোবর মহাষ্টমী, কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজা।

 

২২ অক্টোবর একই দিনে মহানবমী এবং দশমী পূজা।

 

তবে ২৩ অক্টোবরও দশমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বিজয়া দশমী-প্রতিমা বিসর্জন। মন্দিরে মন্দিরে মন্ত্র উচ্চারণ আর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বিশ্বের অশুভকে তাড়িয়ে শুভ কামনা করা হবে। সকাল থেকে চণ্ডিপাঠে মুখরিত থাকবে পূজা মণ্ডপ।

 

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে প্রতিদিন পূজানুষ্ঠান ছাড়াও ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যায় ভোগ আরতি, দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় একই ধরনের অনুষ্ঠান সূচি অন্যান্য পূজা মণ্ডপেও।

 

শুক্রবার বিকেল ৪টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে রাজধানীতে বিজয়া শোভাযাত্রা বের করা হবে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ সাহা মনি বলেন, দশমী বিহিত পূজার আনুষ্ঠানিকতা ২২ অক্টোবর সম্পন্ন করা হবে। আর পরের দিন দেয়া হবে প্রতিমা বিসর্জন।

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print