শুক্রবার , ২৭ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » খেলাধুলা » ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য যে নির্বাচন

ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য যে নির্বাচন

মোমেনমোমিন মেহেদী: দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন সরকারের নীলনকশা বলে বলে চিল্লিয়েই যাচ্ছেন একটি রাজনৈতিক নেতারা; অন্যদিকে সরকারে থাকা দলগুলোর নেতাকর্মীরা আধা জল খেয়ে মাঠে নেমেছে-ছক কষছে আসছে স্থানিয় সরকার নির্বাচনে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত নিজেদেরকে কোন না কোনভাবে বিজয়ী করার লক্ষ্য থেকে। এই যখন দেশের অবস্থা; তখন নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে বরাবরের মত আজও কলম তুলে নিলাম। প্রথমেই বলতে হবে বর্বরতার রাজনীতিতে তৈরি জামায়াত-শিবিরের বন্ধুদল বিএনপি’র কথা; দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সরকারের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের নীলনকশা বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। একইসঙ্গে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন হলে সরকারের হস্তক্ষেপ আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছে দলটি। দলচির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলীয় প্রতীক ও মনোনয়নে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে প্রচেষ্টা সরকার চালাচ্ছে, এটি একটি নীল-নকশা। এটা জাতীয় নির্বাচনকে পাশ কাটানোর উদ্দেশ্য। আমরা সরকারের এই কুটকৌশলের নিন্দা জানাই।
বিএনপির পক্ষ থেকে এসব বুলি আগেও আউড়িয়েছে; এখনও চলছে। কিন্তু তারা রাজনীতিকে অপরাজনীতির অন্ধকারে ঢেকে দিয়েছিলো অতিতে। যে কারনে এখন নির্মমতার রাজনীতি তাদের দেখাদেখি বর্তমান সরকারও করছে। আর এভাবে বাংলাদেশকে কঠিন সময়ের মুখোমুখি করার জন্য নিকৃষ্টতম ঘৃণা তাদের জন্য জন্ম নিয়েছে ছাত্র-যুব-জনতার মধ্যে। যে কারনে সরকারী দলগুলো ঝোপ বুঝে কোপ মারতে উদ্যেত হয়েছে বারবার।
যদিও জনগনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে ফিরে আসতে হবে এবং সরকারকে দাবি মেনে নিতে হবে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার মেরে-কেটে তথাকথিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে। এর মধ্য দিয়ে তারা প্রমাণ করতে চায়- ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারে। এই কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তারা বিগত সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে নিরপেক্ষতার কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে চিন্তা সরকার করছে, তা অনুষ্ঠানে কমিশনের শক্তি, সামর্থ্য ও নিরপেক্ষতা কোনটাই নেই। ভোটাদের ভোট রক্ষা করতে পারেনি। মানুষকে ভোট কেন্দ্রে আসার সাহস জোগাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। বিগত সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে যদিও বিভিন্ন মার্কায় নির্বাচন হয়েছে, দলীয় প্রতীকের ভিত্তিতে হয়নি। তারপরও ওইসব নির্বাচনে বিএনপি ও বিরোধী দলের যেসব প্রার্থী মেয়র-কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন স্থানীয় সরকারের আইনের মাধ্যমে তাদের বেশির ভাগ নির্বাচিত মেয়র ও চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের অপসারিত ও বরখাস্ত করা হয়েছে।
অবশ্য একটু ইতিহাস ও বর্তমান নিয়ে গবেষণা করলেই দেখা যাবে যে, উন্নত দেশগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়। এটাকে নীতিগতভাবে সমর্থন না করার কোন কারণ নেই। তবে বাংলাদেশের বিভাজিত রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় এবং রাজনীতিতে যেভাবে অপরাজনীতি চর্চা হয়, তাতে করে শঙ্কা জাগে সেখানে ভিন্ন দলের লোকেরা নির্বাচিত মেয়র ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সত্যিকার নাগরিক সেবাটা পাবেন কিনা। সেজন্য বিষয়টি আমরা বিবেচনার করার কথা বলতে চাই। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ও মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। যাতে করে জনগনের কথা উঠে আসে; সেই অনুযায়ী সরকার কিছুটা হলেও পদক্ষেপ নেয়। একইসঙ্গে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনও এখন জনগনের দাবী। এই দাবী বাস্তবায়ন করলে সরকারে থাকা মহাজোটের দলগুলো কিছুটা হলেও দায় মুক্তি পাবে। তা না হলে কিন্তু ইতিহাস সবসময় তৈরি সত্যের রাস্তায় এগিয়ে যেতে। যে রাস্তায় এগিয়ে যেতে যেতে ইতিহাস বলেছে যে, জঘণ্যতম ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোস্তাক জাতির জনককে হত্যা করেছে। ইতিহাস একথাও বলেছে যে, জনগনের রায়ে নয় পেশি শক্তি দেখিয়ে খন্দকার মোস্তাক ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে চেয়েছিলো। অতএব বিনীত অনুরোধ ঘুরে দাঁড়ান নতুন একটা দেশ গড়ার জন্য। যেখানে দুর্নীতি থাকবে না; থাকবে না ক্ষমতায় আসার আর থাকার জন্য নিকৃষ্টতম কর্মকান্ডগুলো।
তা না হলে এখন যেমন বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও প্রতীকে স্থানীয় সরকারভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই একই রকম কথা অন্য একটি সরকার আসার পর গায়ের জোরে-ক্ষমতার জোরে বলে যাবে এবং অন্যায় বাড়বে। যা কারোই কাম্য হতে পারে না। কাম্য নয় আমাদেরও। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, জনগনের কথা ভেবেই আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের আইনে সংশোধনী চূড়ান্ত করে এনেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এতে আইনের অন্তত তিনটি ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে অন্য নির্বাচনগুলোর আইনেও একই ধরনের সংশোধনী আনা হচ্ছে। ফলে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা সরাসরি দলীয় পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। তবে উচ্চ আদালতের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এ দলটির মনোনয়নে কেউ নির্বাচন করতে পারবে না। এতদিন শুধু নামেই নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বরাবরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয় মনোনয়ন নিয়েই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্য স্ববিরোধিতা এবং স্থানীয় সরকার আইনের সুস্পষ্ট লংঘন হলেও সরকারের ভূমিকা ছিল নীরব। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়া বরাবরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলীয়ভাবে অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছিল। এসব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফলও মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে রাজনৈতিক দলের পরিচয়েই। এসব বিবেচনা করে দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আইন সংশোধনের মাধ্যমে সরকার গণমানুষের দাবি মেনে নিল। কিন্তু আদৌতে তা কি সত্য? যা বলা হচ্ছে? মোটেই না; বরং জনগনকে বোকা বানানোর প্রতিযোগীতায় নেমেছে সরকার আর নির্বাচন কমিশন। যে কারনে নির্বাচন কমিশন (ইসি)ও নির্লজ্জের মত বলছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবার আগে সারা দেশে পৌরসভাগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২৪৫টি পৌরসভায় আগামী ডিসেম্বরে ভোট গ্রহণ এবং অক্টোবরের শেষদিকে বা নভেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। একইভাবে আগামী মার্চ থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদগুলো নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ যেন সেই তোতাপাখি; যেই পাখিটি মনিবের শেখানো বুলি-ই আউড়াতে থাকে।
দ্দধু কি এখানেই শেষ! প্রার্থীদের দলীয় ব্যানার ও প্রতীকে নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক ব্যানারে নির্বাচন হলে প্রার্থীরা দলের প্রতীকে নির্বাচন করবেন। কারণ প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক দেয়া হলে কোন দলের কে প্রার্থী হয়েছেন তা ভোটারদের চিনতে সমস্যা হবে না।’ কিন্তু তিনি একবারের জন্যও ভাবলেন না; এভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দালালে পরিণত হয়ে সরকারের উপকার করলেও ক্ষতিটা করছেন জনগনের-নিজের। যে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার সম্ভবনাই ক্ষীণ হয়ে যাবে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের সরাসরি ভোটে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন। স্থানীয় সরকারভুক্ত আরেক প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদ গঠিত হলেও এটি অনির্বাচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যার অধিকাংশই সরকার দলীয় নেতাকর্মীদেরকে জোড় করে নির্বাচিত ঘোষণার অভিযোগ রয়েছে। তার উপর এবার আবার সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক বিবেচনায় নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়ায় আগামীতে দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনয়ন, দলীয় ব্যানারে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো এবং দলীয় প্রতীকে ভোট গ্রহণের নামে চলতে পারে রাজনৈতিক যুদ্ধ। যে যুদ্ধে হারবে বাংলাদেশ-বাংলাদেশের মানুষ; জিতবে আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগের মুখোশ পড়া দেশবিরোধী-জামায়াত-শিবিরের পাষন্ডরা। যারা দেশ নয়; ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সেই বিশ্বাসের সূত্র ধরেই হয়তো সরকারের নির্দেশে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালায় সংশোধনী আনছে ইসি। ফলে নির্বাচনে নামে-বেনামে বা ডামি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ কমে আসবে। ঝামেলা এড়ানো যাবে অরাজনৈতিক দলের প্রতীক বরাদ্দ নিয়েও। এছাড়া এক শতাংশ ভোটার স্বাক্ষর জমা দেয়ার শর্ত থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী হওয়ার সুযোগ কমে আসবে। এছাড়া নিবন্ধিত দলগুলোর বড় অংশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত হওয়ায় প্রার্থী কমে যাবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম হবে। তার সোজা-সাপ্টা অর্থ হলো-প্রকৃত দেশপ্রেমি-সৎ-আদর্শবানরা রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়বে; লুটেরা-সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ-ধর্ষক আর দেশদ্রোহীরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে ঘোষিত হবে। দলীয় ব্যানারে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভালোর চেয়ে মন্দ দিকই রয়েছে বেশি; আর তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নিবন্ধনের বাইরে থাকা দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ না দিলে রাজনীতির বিকাশ বা উন্নয়ন ঘটবে না। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কুক্ষিগত হয়ে পড়বে। যদি সে ক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে নিবন্ধনের জন্য ইসি অনিবন্ধিত দলগুলোকে আহবান জানাতে পারে তো কিছুটা হলেও নিরঙ্কুশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য সেই সম্ভাবনাও কম; কেননা, মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়ভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌরসভা নির্বাচনের আইন স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর সংশোধনী চূড়ান্ত করেছে। আইন সংশোধনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে- গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বাংলাদেশের চারটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান যথা- সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত। এ পর্যন্ত এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন করার দাবি উত্থাপিত হয়েছে। এতে সংশোধিত আইনের শিরোনাম দেয়া হয়েছে- স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন, ২০১৫। আর প্রস্তাবিত সংশোধনীতে দেখা গেছে, বিদ্যমান আইনের ২, ১৯ ও ২১ ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। ধারা ২এ আইনের বিভিন্ন শব্দের সংজ্ঞা উল্লেখ রয়েছে। এ ধারায় ৭০ ও ৭১ উপধারা সংযুক্ত করা হয়েছে। ৭০ উপধারায় বলা হয়েছে- রাজনৈতিক দল অর্থ যিনি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দল। এবং ৭১ উপধারায় বলা হয়েছে- স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্থ যিনি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনয়ন গ্রহণ করেন নাই বা তাহাকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনয়ন প্রদান করা হয়নি। অপর সংশোধনী আনা হয়েছে ১৯ ধারায়। এ ধারায় প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা শর্তগুলো উল্লেখ রয়েছে। এ ধারার সংশোধনীতে বলা হয়েছে- এতে নতুন দফা (ঙ) সংযোজিত হবে। এতে বলা হয়েছে- নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। অপর সংশোধনী আনা হয়েছে আইনের ২১ ধারা। এ ধারায় নির্বাচন পরিচালনা ও নির্বাচনী বিরোধ সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে।
কিন্তু সব কথার শেষ কথা হলো, এভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার জোড় করে ক্ষমতায় আজন্মকাল থাকার চেষ্টা কেন করছেন? কারন কি এটাই যে, তারা খুব ভালো করেই জানেন যে, জনগন তাদের রাজনীতির নামে অপরাজনীতি-দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজী-খুন-গুম-ধর্ষণ সম্পর্কে সব জেনে গিয়ে তাদের অবস্থান নিতে পারে ভেবে আগেভাগেই ক্ষমতায় আসার আর থাকার জন্য জামায়াত-শিবিরকে কার্যত নিষিদ্ধ না করে ঝুলিয়ে রাখার সাথে সাথে স্থানিয় সরকার নির্বাচনে পর্যন্ত জাল-জালিয়াতি অব্যহত রেখে কুক্ষিগত করতে চাইছেন ক্ষমতার সবটুকু…

লেখক: চেয়ারম্যান, নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি

Email: mominmahadi@gmail.com


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print