বৃহস্পতিবার , ১৯ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » শাহাদাতের আত্মসমর্পণ!

শাহাদাতের আত্মসমর্পণ!

শাহাদাতের আত্মসমর্পণশিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে স্ত্রী কারাগারে যাওয়ার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন।

সোমবার সকালে তিনি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন বলে তার আইনজীবী কাজী নজিবুল্যা হিরু জানান।

 

ঢাকার মহানগর হাকিম ইউসুফ হোসেনের আদালতে এ বিষয়ে শুননি হওয়ার কথা রয়েছে।

 

এর  আগে রোববার ভোররাতে ঢাকার মালিবাগের একটি বাসা থেকে শাহাদাতের স্ত্রী জেসমিন জাহান নিত্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে নিত্যকে কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

 

নিত্যর পক্ষে জামিনের আবেদন করে নজিবুল্যা হিরু শুনানিতে বলেন, “মামলার সমস্ত তথ্যই প্রকাশিত হয়েছে। আলাদা করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো তথ্যই আর অবশিষ্ট নেই। এই মামলায় এখনই অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারে, তদন্তের আর বাকি কিছুই নেই। আমি বলছি, আগামীকালই শাহাদাতকে আমরা সারেন্ডার করিয়ে দেব।”

 

আদালত তার আবেদনও নাকচ করে দিলে নিত্যকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

গত ৬ সেপ্টেম্বর গৃহকর্মী হারিয়ে গেছে জানিয়ে শাহাদাত থানায় সাধারণ ডায়েরি করার কয়েক ঘণ্টা পর ওই শিশুকে পাওয়া যায়।

 

পল্লবীর সাংবাদিক কলোনি থেকে ১১ বছর বয়সী ওই শিশুকে পেয়ে তাকে থানায় নিয়ে যান খন্দকার মোজাম্মেল হক নামের এক সাংবাদিক।

 

পরে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়। সাংবাদিকদের কাছে শাহাদাতের বাসায় নির্যাতিত হওয়ার বিবরণ দেয় শিশুটি।

 

সাংবাদিক মোজাম্মেল এ ঘটনায় মামলা করলে নিরুদ্দেশ হন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার ও তার স্ত্রী।

 

নির্যাতনের যে বর্ণনা ওই শিশু আদালতের জবানবন্দিতে দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, শাহাদাত রুটি বানানোর বেলন দিয়ে তাকে পিটিয়ে পরে আবার আঘাতের স্থানে বরফ লাগাতেন।

 

চোখের উপর অংশে বেশ কয়েকবার বেলন দিয়ে পেটানো হয়েছে বলেও আদালতকে জানিয়েছে মেয়েটি।

 

গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় শাহাদাতকে জাতীয় দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আগামী ১২ অক্টোবর এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print