সোমবার , ১৮ জুন ২০১৮
মূলপাতা » ফুটবল » হোয়াইট হাউস, গুগল ও নাসার ডাক পেল আহমদ

হোয়াইট হাউস, গুগল ও নাসার ডাক পেল আহমদ

ahmedঘরে তৈরি করা একটি ঘড়ি শ্রেণিকক্ষে নিয়ে এসে বোমা সন্দেহে আটক যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম ছেলেটির বিপক্ষে কোনো অভিযোগ গঠন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের পুলিশ। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট দপ্তর হোয়াইট হাউসেও নিমন্ত্রণ পেয়েছে আহমেদ। আহমেদ ওই নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ই হয়তো সে হোয়াইট হাউসে যাবে। আর গুগলের পক্ষ থেকেও আহমেদকে সপ্তাহশেষে অনুষ্ঠেয় গুগল বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণের আহবান জানানো হয়েছে।
টেক্সাসের আর্ভিংয়ে অবস্থিত ম্যাকআর্থার হাইস্কুলের ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আহমেদ মোহাম্মদকে সোমবার গ্রেপ্তারের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বুধ ও বৃহস্পতিবার ওই প্রতিবাদ তুঙ্গে ওঠে। এই প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতেই বুধবার আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হবে না বলে জানায় পুলিশ।

‘আমি আহমেদের পক্ষে’ এমন হ্যাশট্যাগের সাথে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে লাখ লাখ মানুষ বালকটির উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাকে কেনো আটক করা হয়েছে?- টুইটারে এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ এবং মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরাও।
ইন্টারনেটভিত্তিক সমগ্র সামাজিক গণমাধ্যম দুনিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। লাখ লাখ মানুষ আহমেদের পক্ষে কথা বলতে থাকে। যার সংখ্যা ইতোমধ্যেই হয়তো কয়েক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশেও এ নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড় চলছে।
‘অসাধারণ ঘড়ি, আহমেদ। এটাকে হোয়াইট হাউসে নিয়ে আসতে চাও? বিজ্ঞানকে ভালোবাসতে আমাদের উচিত তোমার মতো আরো শিশুদের উৎসাহিত করা। এটাই আমেরিকাকে মহান করে তুলবে’, এভাবেই টুইট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গও আহমেদের উদ্ভাবনের জন্য তার প্রশংসা প্রাপ্য; গ্রেফতার নয় বলে টুইট করেন। তিনি লিখেন, ‘আহমেদের মতো প্রতিভাবানদের হাতেই আমাদের পৃথিবীর ভবিষ্যত। আহমেদ, তুমি যদি ফেসবুকে আসো, তোমার সঙ্গে কথা বলার খুব ইচ্ছা রইল। উদ্ভাবনের ইচ্ছাটা জারি রাখো। চালিয়ে যাও!’
এক টুইটার বার্তায় গুগল সায়েন্স ফেয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিন (রবিবার) গুগল বিজ্ঞান মেলায় আহমদের জন্য একটি আসন সংরক্ষিত করে রাখা হবে। গুগল আহমেদকে তার ঘড়িটি নিয়ে মেলায় যোগ দেওয়ার জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
হিলারি ক্লিনটন লিখেছেন, ‘কারো ব্যাপারে নিছকই অনুমানবশত কোনো ধারণা পোষণ আর ভয় আমাদেরকে নিরাপদ রাখবে না; বরং পেছনে টেনে ধরবে। আহমেদ তুমি তোমার অনুসন্ধিৎসা অব্যাহত রাখো এবং সৃষ্টির উল্লাসে মেতে থাকো।’
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার বোবাক ফেরদৌসি এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘হে আহমেদ! তুমি আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই আমার সঙ্গে যোগযোগ করবে। আমরা সবসময়ই করিৎকর্মা, অনসন্ধিৎসু ও সৃষ্টিশীল লোকদের কাজে লাগানোর জন্য মুখিয়ে থাকি।’
ওদিকে, বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের স্কুল পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি আহমেদ বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে তার শিক্ষকেরা তার ঘড়িকে হুমকি মনে করেছিলো। আমার শিক্ষককে খুশী করার জন্যিই আমি ঘড়িটি তৈরি করেছিলাম। কিন্তু আমি যখন ঘড়িটি তাকে দেখালাম তিনি এটাকে তার প্রতি হুমকি মনে করলেন। আমি খুবই দুঃখিত যে তিনি ভুল ধারণা করেছেন।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? আহমেদের বাবা-মা জানাচ্ছেন, ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানে উৎসাহী আহমেদ, নানা রকম পরীক্ষা-নিরিক্ষা, জিনিসপত্র বানানো, লেগে থাকে সব সময়েই। সে রকমই নিজে নিজে চেষ্টা করে একটা ঘড়ি বানিয়ে ফেলার পর উত্তেজিত হয়ে সেটা স্কুলে দেখাতে নিয়ে যায় সে। কিন্তু প্রথম যে শিক্ষককে ঘড়িটি দেখায় তিনি তাঁকে বলেন এটা অন্য কাউকে না দেখাতে। কারণ বুঝতে না পেরে পরে ওই স্কুলেরই ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষককে ঘড়িটি দেখালে তাঁর ধারণা হয় ঘড়ির মতো দেখতে হলেও আসলে বস্তুটি একটি বোমা। স্কুলে বিস্ফোরণ ঘটানোর উদ্দেশেই আহমেদ এটি স্কুলে নিয়ে এসেছে। আতঙ্কিত ওই শিক্ষক ততক্ষণাৎ খবর দেন কর্তৃপক্ষকে, তারা জানায় স্থানীয় থানাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্কুল চত্বর ভরে যায় পুলিশে।

time to meet the president  usa

এরপর বিশেষ বাহিনী এসে আহমেদের নিয়ে আসা ‘বোমাটি’ নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করতে থাকে। এরপরই ভুল ভাঙে সবার। দেখা যায়, আহমেদের নিয়ে আসা ঘড়িটি আদৌ বিপজ্জনক কিছু নয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের আচরণ ও পুরো বিষয়টি জানার পর আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেতে তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়। আহমেদের বাবা জানিয়েছেন, কেবলমাত্র ইসলামি আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার জন্যই তাঁর ছেলের সঙ্গে এমন বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।
আরভিং পুলিশ ফাড়ির প্রধান ল্যারি বয়েড জানিয়েছেন, ‘আহমেদের আনা যন্ত্রটি কোনও ভাবেই বিস্ফোরক নয়। কিন্তু, স্কুল কর্তৃপক্ষ যেভাবে আতঙ্কিত হয়ে থানায় যোগাযোগ করেছিল তাতে পুলিশের পক্ষে এর বাইরে কিছুই করার ছিল না।’ কিন্তু এর পরেও স্কুলের তরফে আহমেদের বাড়িতে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে আহমেদের স্কুলের কোড অফ কন্ডাক্ট সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই। এছাড়া আহমেদকে তার ঘড়িটিও এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।
আহমেদের পিতা সুদানি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ আল হাসান মোহাম্মদ তার সন্তানের উদ্ভাবনী দক্ষতার প্রশংসা করে বলেন, সে আমার ফোন এবং কম্পিউটারসহ বাসার সবকিছুই ঠিক করে দিতে পারে। তিনি বলেন, সে খুবই বুদ্ধিমান, মেধাবী ছেলে। সে জানিয়েছে সে শুধু বিশ্বের কাছে নিজেকে পরিচিত করাতে চায়।
তবে মুসলিম হওয়ার কারণেই আহমেদকে আটক করা হয়েছে পরিবারের এমন দাবি পুলিশের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে। আর্ভিং পুলিশ বিভাগের প্রধান ল্যারি বোয়েড বুধবার জানান, মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। এই ধরনের ঘটনা আমাদের পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা কিভাবে সামনে এগুবো এবং একে একটি ইতিবাচক মোড় দেওয়া যায় তা আমারা শিখতে চাই।
গ্রেফতারের পর আহমেদকে হাতকড়া পড়িয়ে রাখা হয়েছিলো এবং তার হাতের ছাপ সংরক্ষণ করা হয়েছে। তার দ্বারা কোনো হুমকির সম্ভাবনা নেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এসময় সে অপমানিত বোধ করছিল বলে জানায় আহমেদ।
কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে। এর পেছনে কোনো জাতিগত বা ধর্মীয় বিদ্বেষ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে সংগঠনটি।

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print