রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » কনকর্ডের ভবন সলিমুল্লাহ এতিমখানাকে হস্তান্তরের নির্দেশ

কনকর্ডের ভবন সলিমুল্লাহ এতিমখানাকে হস্তান্তরের নির্দেশ

high_cortরাজধানীর আজিমপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার জায়গায় আবাসন প্রতিষ্ঠান কনকর্ডের তৈরি ১৮ তলা ভবন এতিমখানাকে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ ভবন ও সম্পত্তি এতিমখানাকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জারি করা এক রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ চার দফা নির্দেশনা দিয়ে এ রায় দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার। এতিমখানার সুপারিনটেন্ডের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনিক আর হক।

পরে মনজিল মোরসেদ জানান, আদালত এতিমখানা রক্ষায় চার দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলো হলো- ক. আজিমপুর এতিমখানার সম্পত্তি সংরক্ষণ করতে হবে, খ. এতিমখানার সম্পত্তি হস্তান্তর সম্পর্কে ২০১৩ সালের ২২ জুলাইয়ের দলিল এবং ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিলের আমমোক্তার নামা দলিল বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ সেগুলো শুরু থেকেই বাতিল। গ. এতিমখানার জায়গায় কনকর্ডের তৈরি ১৮ তলা বিল্ডিং এতিমখানার পক্ষে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ঘ. কনকর্ডকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে স্থাপনা ও সম্পত্তি এতিমখানাকে বুঝিয়ে দিতে বলা
হয়েছে। ব্যর্থতায় সরকারকে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং এতিমখানার প্রয়োজনে ডেভেলপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মনজিল মোরসেদ বলেন, ১৯০৯ সালে ঢাকার নবাব ‘সলিমুল্লাহ এতিমখানা’ স্থাপন করেন এবং পরবর্তী সরকারের নিকট হতে আজিমপুর সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন সময় জমি লিজ নিয়ে পরিচালনা করে আসছে। ২০০৩ সালের ২২ জুলাই এতিমখানার সভাপতি শামসুন্নাহার ও সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জি এ খান আহসান উল্লাহ এতিমখানার দুই বিঘা জমি ডেভেলপার কোম্পানি কনকর্ডের কাছে হস্তান্তর করেন।

এতিমখানার সম্পত্তি অবৈধ হস্তান্তর সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ পায়। পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তা সংযুক্ত করে চার ছাত্রের পক্ষে রিট পিটিশন দায়ের করেন মনজিল মোরসেদ। পরবর্তীতে উক্ত রিট পিটিশনে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাণ্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) পক্ষভুক্ত হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়, এতিমখানার সম্পত্তি সরকারে নিকট থেকে লিজ নেওয়া এবং লিজ চুক্তিতে এতিম খানার সম্প্রসারণের জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হয় এবং শর্ত ছিল প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ব্যাতীত অন্য কোন কাজে জমি ব্যবহার করা যাবে না। তা সত্বেও এতিমখানার সভাপতি ও সেক্রেটারি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আর্থিক লাভবান হয়ে এতিমখানার সম্পত্তি কনকর্ড গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print