রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » আরেকবার ভাঙন থেকে বাঁচলো পিডিবি

আরেকবার ভাঙন থেকে বাঁচলো পিডিবি

pdbআরেকবার ভাঙন থেকে বাঁচলো বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বোর্ড ভেঙে আরও একটি নতুন কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পিডিবি ভেঙে নতুন কোম্পানি করার প্রক্রিয়া থেকে নীতিগতভাবে আপাতত সরে এসেছে সরকার।

নতুন কোম্পানি গঠনের কার্যক্রম অনির্দষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখতে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পিডিবিকে এক চিঠি দেয়া হয়েছে। এর ফলে প্রায় চূড়ান্ত হওয়া নতুন কোম্পানি ‘নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন’-এর কার্যক্রম আপাতত শুরু হচ্ছে না।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে নিজেদের আন্দোলনের ফল হিসেবে দেখছেন পিডিবির কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

দাতাগোষ্ঠির পরামর্শে বিদ্যুৎ খাতের পুণর্গঠনের অংশ হিসেবে নব্বইয়ের দশক থেকে পিডিবিকে ভেঙ্গে নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়। উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ ব্যস্থার জন্য পৃথক পৃথক কোম্পানি গঠন করা হয়।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করে পিডিবিকে পেট্রোবাংলার আদলে করপোরেশন করার নির্দেশ দেন। এজন্য প্রয়োজনে নতুন কোম্পানি গঠনের আদেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় পিডিবির রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে পৃথক করে নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি নামে একটি নতুন কোম্পানি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। ইতোমধ্যে কোম্পানিতে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কিছু লোকবলও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কোম্পানিটির কয়েকটি বোর্ড সভাও হয়েছে। কিন্তু পিডিবি থেকে পুরো দায়িত্ব ও সম্পদ হস্তান্তর হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় পিডিবিকে বারবার তাগিদ দেয়। চলতি বছেরের এপ্রিলে নিজ মন্ত্রণালয় (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়) অফিস করে পূর্ব নির্দেশনা বাস্তবায়নে আবার তাগাদা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সর্বশেষ বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে গত ৪ আগস্ট পিডিবিকে চিঠি দেয়া হয়। এতে বলা হয় আগামী ৩১ শে আগস্টের মধ্যে নবগঠিত নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (নওজোপাডিকো) কাছে পিডিবির হাতে থাকা রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের জনবল, সম্পদ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম হস্তান্তর করতে হবে।

নতুন এ কোম্পানিকে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর (এমওইউ) ও ভেন্ডর এগ্রিমেন্ট (ভিএ) স্বাক্ষরের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। চলতি মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়।

তবে শুরু থেকেই সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে পিডিবির কর্মকর্তা কর্মচারী এবং বিভিন্ন শ্রমিক (সিবিএ) সংগঠনগুলো। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সারাদেশে আন্দোলনের ঘোষণা দেয় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া ঢাকা, রংপুর রাজশাহীতে স্থানীয় সিবিএগুলোও আন্দোলন শুরু করে। তারা পিডিবি ভাঙার প্রক্রিয়া রুখতে নানা কর্মসূচী ঘোষণা করে।

এ বিষয়ে পিডিবির সিবিএ সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে একটি কুচক্রি মহল পিডিবিকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী কখনো চান না পিডিবি ভেঙে টুকরো টুকরো করা হোক।’

তিনি বলেন, ‘কোম্পনিগুলো হলো লুটপাটেরর আখড়া। পিডিবির তথা জনগণের সম্পদ ব্যবহার করে কোম্পানির কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিলাসী জীবন-যাপন করছে। আমাদের (পিডিবি) চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বেতন নিচ্ছে। এক একজন কর্মকর্তা তিন চারটা পর্যন্ত গাড়ি ব্যবহার করছে।’

তিনি পিডিবিকে ভেঙ্গে গঠিত সব কোম্পানিকে পুনরায় পিডিবির আওতায় আনার দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সারাদেশের বিদ্যুৎ বিতরণ সরবারহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করেতই নতুন কোম্পানি গঠন করা হচ্ছে। এতে জবাবদিহিতাও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘পিডিবি ভেঙ্গে গঠিত সব কোম্পানিই প্রায় লাভজনক। পিডিবিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও শ্রমিক সংগঠনের কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যবহত হয়।’

পিডিবি আগাগোড়া দুর্ণীতিতে মোড়া বলেও জানান এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘কোম্পানি হলে এসব অসৎ কর্মকর্তাদের অবৈধ কামাই বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তারা রাজনৈতিকভাবে চাপ দিয়ে সংস্কার প্রক্রিয়া বন্ধ করছে।’

নব্বই দশক থেকে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে বিদ্যুৎ খাতে নানা ধরনের সংস্কার শুরু হয়। নতুন নতুন অনেক কোম্পানি গঠন করা হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে এ ধরনের ১৬টি কোম্পানি রয়েছে। যার প্রায় সবই পিডিবি ভেঙে গঠিত হয়েছে।

দাতা গোষ্ঠীর পরামর্শে পিডিবিকে ভেঙে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসা) করে। পরে আবার এটাকে ভেঙে করা হয় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে নিয়ে গঠিত হয় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপডিকো)। উৎপাদন ব্যবস্থাকে দিয়ে দেয়া হয়, ইলেক্ট্রিক জেনারেশন কোম্পানি (ইজিসিবি), নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ও আশুগঞ্জ পাওয়ার কোম্পানির হাতে এবং সঞ্চালন ব্যবস্থা দেয়া হয় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির হাতে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print