বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » মুসা বিন শমসেরকে কটূক্তি: সাংবাদিক আটক

মুসা বিন শমসেরকে কটূক্তি: সাংবাদিক আটক

নেতাকর্মী আটকসাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে তুলে নিয়ে গেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শেরেবাংলা নগর থানার এসআই জলিলের নেতৃত্বে রাজধানীর ইন্দিরা রোডে অবস্থিত ‘উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ’ কার্যালয় থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে থানায় নেয়ার কথা বললেও নেয়া হয়েছে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে।

প্রবীর সিকদারের ছেলে সুপ্রিয় সিকদার বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে আছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ এসে তার বাবাকে থানায় যেতে হবে বলে জানায়। কী কারণে থানায় যেতে হবে জানতে চাইলে পুলিশের দলটি প্রবীর শিকদারকে জানায়, তিনি ধনকুবের মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েছিলেন সে বিষয়ে পুলিশ কথা বলবে।

সুপ্রিয় সিকদার  জানান, রাতেই তার বাবাকে ছেড়ে দেয়ার কথা বললেও এখন বলা হচ্ছে রাতে আর ছাড়া হবে না। আগামীকাল সোমবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রবীর সিকদারের সঙ্গে পুলিশ কোনো খারাপ ব্যবহার করেছে কি না জানতে চাইলে সুপ্রিয় বলেন, এখনো পর্যন্ত পুলিশ খারাপ ব্যবহার করেনি। কিন্তু যে মানুষটির এক পা নেই, একটি হাতও প্রায় অচল সেই মানুষ সারারাত কাঠের চেয়ারে কীভাবে বসে থাকবেন- সে প্রশ্ন করেন তিনি। বাবার জন্য যেন অন্তত শোয়ার ব্যবস্থা করা সে ব্যাপারে ডিবির কাছে অনুরোধ করেছেন বলে জানান সুপ্রিয়।

ডিবির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করতে গেলে নেয়া হয়নি বলে প্রবীর সিকদার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন। কী কারণে তিনি নিরাপত্তা চাইছিলেন এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তাকে আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে দৈনিক জনকণ্ঠের ফরিদপুর প্রতিনিধি থাকাকালে সন্ত্রাসীদের হামলায় মারাত্মক আহত হন প্রবীর সিকদার। এ ঘটনায় তার একটি পা কেটে ফেলা হয়। এরপর দেশে বিদেশে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি দৈনিক সমকালে যোগ দেন। কালেরকণ্ঠেও কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি অনলাইন পত্রিকা চালান।

জনকণ্ঠে থাকাকালীন প্রবীর সিকদার ‘সেই রাজাকার’ শিরোনামে একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন লেখেন। সেই প্রতিবেদনে তিনি বিশেষ কিছু ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার বিষয় তুলে আনেন। প্রবীর সিকদার তখন থেকে অভিযোগ করে আসছিলেন ওই ধারাবাহিক প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার ওপর হামলা হয়।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print