সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » রকমারি » কোয়ার্টার নয়, যেনো টিনের বাড়ি

কোয়ার্টার নয়, যেনো টিনের বাড়ি

rajshahi-coater-pic-by-eliasarafat-14.08.15রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পেছনের অংশে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের থাকার কোয়ার্টার। হঠাৎ করে দেখে মনে হবে এটি কোয়ার্টার নয়, টিনের জোড়াতালি দেয়া বাড়ি।

পরপর দুইটি কোয়ার্টারে ৬৪ থেকে ৬৫টি পরিবারের বসবাস। মাসে মাত্র ৪০০ টাকায় থাকতে পারে বলে কর্মচারীদের কাছে কোয়ার্টারগুলো বেশি জনপ্রিয়। ভেতরে ছোট জায়গা হওয়ার কারণে সেখানে যারা বাস করে তারা নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছে তাদের ফ্লাট। খোলা বেলকনি ব্যবহারের জন্য টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে কোয়ার্টার গুলো টিনের বাড়ি বলে ভুল হয়।

সেখানে বসবাসকারীরা জানান, ভবনের ফ্লাটগুলোতে জায়গা খুব কম। সে কারণে যেসব পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি তারা বেলকনিগুলো টিন দিয়ে ঘিরে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। অনেকে বেলকনি ঘিরে ছোট একটি কক্ষ বানিয়েছে আবার অনেকেই তৈরি করেছেন রান্না ঘর।

ওইসব কোয়ার্টারে যারা বাস করেন তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েক দফা ভূমিকম্পের পরে ভবনের অনেক অংশেই ফাটল ধরেছে। ভবনের পলেসতারা (প্লাস্টার) খুলে পড়ছে। এছাড়া ভবনগুলো রঙ করা হয়েছে। মাত্র কয়েক মাস না যেতেই ভবনগুলোর রঙ উঠে যেতে শুরু করেছে। এসব বিষয়ে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকারি এসব কোয়ার্টারে ভাড়া খুব কম থাকার কারণে এতো ঝুঁকির মধ্যেও বসবাস করছেন তারা।

শুধু তাই না, কোয়ার্টারগুলো রক্ষাণাবেক্ষণের জন্য তেমন কেউ নিযুক্ত না থাকার কারণে যে যার মতো করে ব্যবহার করছে। অনেক পরিবার কোয়ার্টারগুলোতে গরু-ছাগল পালতে শুরু করেছে। সে কারণে কোয়ার্টারগুলোতে একদিকে যেমন বসবাসের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে কোয়ার্টারগুলো সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি।

সেখানে বসবাসরত ঝন্টু জানান, পরপর কয়েকবার ভূমিকম্পের পর ভবনের অনেক জায়গা ফেটে গেছে। খুলে পড়েছে পলেসতারা। প্রাণের ঝুঁকি আছে যেনেও সেখানে বাস করতে হচ্ছে। বাহিরে যে পরিমাণে বাড়ি ভাড়া তাতে সেই ভাড়া দিয়ে থাকতে হলে যে বেতন পাওয়া যায় তাতে খাওয়া জুটবে না। বিষয়টি অনেকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. বেলাল জানান, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আছে। এ নিয়ে পিডাব্লিউডিকে জানানো হয়েছে। গত বছরে কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় কোনো কাজ করা যায়নি। চলতি অর্থবছর শুরু হয়েছে। এ বছর ভবনগুলো মেরামতের কাজ করা হবে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print