শনিবার , ২১ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » কলেজ » হারিয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী পোগোজ স্কুল!

হারিয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী পোগোজ স্কুল!

school পোগোজজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত হয়েছে পুরান ঢাকার পোগোজ স্কুল। এতে হারিয়ে গেল ভাই গিরীশচন্দ্র সেন ও কবি শামসুর রাহমানের স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যাপীঠটি।

দেশের প্রথম বেসরকারি বিদ্যালয় পোগোজ স্কুলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীন করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান নাম  ‘পোগোজ স্কুল’ আর থাকছে না। স্কুলটির নতুন নাম হবে ‘পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ,  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে জবি কর্তৃপক্ষ এবং পোগোজ স্কুলের পরিচালনা কমিটির যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জবির সঙ্গে পোগোজ স্কুল একীভূত হওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ  সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিলীন হয়ে গেল ১৮৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী পোগোজ স্কুলের নাম।

পোগোজ স্কুলের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৮৪৮ সালের ১২ জুন। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ১৮ বছর বয়সী ঢাকার আর্মেনি জমিদারপুত্র নিকোলাস পিটার পোগোজ বা নিকি পোগোজ। ১৮৪৮ সালের ১২ জুন নিকি আরমানিটোলায় নিজ বাড়ির নিচতলায় ‘পোগোজ অ্যাংলো ভার্নাকুলার স্কুল অ্যাট ঢাকা’ নামে একটি স্কুল শুরু করেছিলেন ।

জানা যায়, ফি-এর টাকা দিতে না পারায় ১৮৪৬ সালে ৯৬ জন ছাত্রকে সে সময়ে ঢাকা কলেজ ছাড়তে হয়েছিল। তাদের প্রতি সমব্যথী হয়ে ঢাকার তৎকালীন সিভিল সার্জন টিএ ওয়াইজ ১২ জুন, ১৮৪৬ সালে খোলেন ‘ইউনিয়ন স্কুল’। অর্থাভাবে সে স্কুল দুই বছরের বেশি চলেনি।

এ অবস্থায় ঢাকা কলেজের প্রাক্তন ছাত্র নিকি পোগোজ স্কুলটির ভার নিয়ে নিজের বাড়িতে নতুন নামে স্কুলটি শুরু করেন। সেখান থেকে প্রথমে ১৮৫৫ সালে নিকির গ্রিক জমিদার বন্ধু জে সি পানিয়াটির বাসগৃহে এবং পরে ১৮৫৬ সালে পানিয়াটির বাড়ি থেকে আর্মেনি গির্জার পাশে সুধাময় হাউসে স্কুলটি স্থানান্তরিত হয়।

১৮৭৬ সালে নিকোলাস পোগোজ মারা গেলে ঢাকার জমিদার মোহিনীমোহন দাস পোগোজ স্কুলের দুই-তৃতীয়াংশ কিনে নেন। এরপর কোনো এক সময় পোগোজ স্কুল বর্তমান জায়গায় স্থানান্তরিত হয়। নিকি পোগোজ স্কুলটির প্রথম হেডমাস্টারও ছিলেন। তাঁর আন্তরিক সহায়তায়ই প্রতিষ্ঠানটি টিকে যায়।

স্কুলটির কৃতিত্ব ও অর্জন ছিল বিস্ময়কর। নানা সময়ে স্কুলের দর্শনার্থীদের বইয়ে লিখিত মন্তব্যে তার প্রমাণ মেলে। ২১ আগস্ট ১৮৬৭-এর একটি মন্তব্য, ‘বলা হয়ে থাকে, এটি বাংলার সর্ববৃহৎ স্কুল (নিয়মিত ৫০০ জন ছাত্রের উপস্থিতি) ঢাকা জেলার জনসাধারণ মি. পোগোজের কাছে ঋণী হয়ে থাকল।’
২১ সেপ্টেম্বর ১৮৬৭-এর আরেক মন্তব্য, ‘এ জেলার জনসাধারণের ধন্যবাদ মি. পোগোজের প্রাপ্য।… আমার দেখা ভারতে এটি সবচেয়ে বড় স্কুল।’

পবিত্র কোরআন শরিফের প্রথম বাংলা অনুবাদক ভাই গিরীশচন্দ্র সেন ছাড়াও পোগোজ স্কুলের বিখ্যাত ছাত্রদের মধ্যে আছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ, প্রথম বাঙালি ডক্টরেট নিশিকান্ত চট্টোপাধ্যায়, সাহিত্যিক কালীপ্রসন্ন ঘোষ, ঢাকা কলেজের প্রথম বাঙালি অধ্যক্ষ ডক্টর পি কে রায়, ভারতীয় মন্ত্রিসভার সদস্য স্যার কে জি গুপ্ত, কৌতুকাভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি কায়কোবাদ, কবি শামসুর রাহমান, চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমান, শিল্পী রফিকুন নবীসহ অনেকে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print