বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » হেফাজত নেতা মুফতি ইজাহার গ্রেফতার

হেফাজত নেতা মুফতি ইজাহার গ্রেফতার

Mufti-Izaharবাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি ও ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের সভাপতি মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে নগরের লালখান বাজার এলাকায় অবস্থিত জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি ওই মাদ্রাসার পরিচালক।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, মুফতি ইজাহারকে লালখান বাজার মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরণ ও অ্যাসিড আইনে দায়ের করা তিনটি মামলায় পরোয়ানা রয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন তিনি। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর মুফতি ইজাহারের মাদ্রাসায় কয়েকটি কক্ষে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে মো. হাবিব, মো. জোবায়ের ও মো. নুরনবী নামের তিন মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা, বিস্ফোরক ও অ্যাসিড আইনে মুফতি ইজাহার, তাঁর ছেলে হারুন ইজাহারসহ ছয়জনকে আসামি করে খুলশী থানায় মামলা করে। তদন্ত শেষে তিনটি মামলায় মুফতি ইজাহার ও তাঁর ছেলেসহ ছয়জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। বর্তমানে মামলা তিনটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। ঘটনার দুই দিন পর হারুন ইজাহারকে হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।

মুফতি ইজাহারের বিরুদ্ধে ওই তিনটি মামলা ছাড়াও আর তিনটি মামলা রয়েছে। ২০১০ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাউজান রাবার বাগান গোদারপাড় এলাকার পাহাড়ে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার দাবি করে র‍্যাব-৭। ওই ঘটনায় মুফতি ইজাহারসহ আটজনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করে র‍্যাব। বর্তমানে মামলা দুটির সাক্ষ্য চলছে। এ ছাড়াও মুফতি ইজাহারের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার দুদকের নোটিশ অমান্য করার অভিযোগেও একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

মুফতি ইজাহারের আইনজীবী আবদুস সাত্তার বলেন, মাদ্রাসায় জুমআর নামাজ আদায় করে বের হওয়ার পর পুলিশ মুফতি ইজাহারকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তাঁর জামিনের জন্য আদালতে গেলেও পুলিশ বিকেল পর্যন্ত আদালতে হাজির করেনি। কয়েকটি মামলায় ইজাহারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
আবদুস সাত্তার দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে মুফতি ইজাহারের বিরুদ্ধে মামলাগুলো করা হয়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print