সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » বিনোদন » পৈতৃক ভিটায় নচিকেতা!

পৈতৃক ভিটায় নচিকেতা!

ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী বাংলাদেশে তার পৈতৃক ভিটা ঘুরে গেলেন।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে ভান্ডারিয়া আসেন তিনি। এরপর প্রাইভেটকারে বেলা দেড়টায় ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার নিভৃত পল্লি চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের উত্তর চেঁচরী গ্রাম পৈতৃক নিবাসে পৌঁছান।

নচিকেতা গাড়ি থেকে নেমে প্রথমে পৈতৃক জমির দিঘিরপাড়ে গিয়ে বসেন। সেখানে কিছু সময় থাকার পর দিঘির দক্ষিণ পাশে তার পৈতৃক ভিটায় যান। তাদের ফেলে যাওয়া শূন্য ভিটায় মরিয়ম বেগম নামের এক মহিলা বসবাস করছেন। সেই  কুটিরে ১০ মিনিট নীরবে বসে থাকেন এ জনপ্রিয় শিল্পী। এ সময় অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি তিনি।

ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মতিয়ার রহমান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ফরাজী ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবদুল মালেক খান ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নচিকেতা এসেছেন শুনে এলাকার লোকজন তাকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমান।

এ সময় নচিকেতা বলেন, ‘১৯৪৫-৪৬ সনের দিকে আমার দাদু ললিত মোহন চক্রবর্তী ভারতে চলে যান। এত বছর সে দেশে বসবাস করছি। বহুদিনের আশা এ ভিটিতে আসার। আজ এ আশা পূরণ হলো। এ ভিটিতে আমার থেকে যেতে  ইচ্ছে করছে। এ মাটিতে বসার পর আর উঠতে মন চায় না। আমার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। আমি অনাথ।’

চেঁচরী রামপুর ইউনিয়ন প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবদুল মালেক খান বলেন, এখানে তাদের ৫০-৬০ বিঘা জমি ছিল। তার দাদা ভারতে চলে যাওয়ার পর এলাকার কিছু লোক নামে-বেনামে ভুয়া ডিক্রি দেখিয়ে এ জমি ভোগদখল করছেন।

স্থানীয় নিরাঞ্জন দাস বলেন, ‘এত বড় শিল্পী আসার খবর শুনে এখানে এসেছি। আমরা আনন্দিত তার এ পৈতৃক ভিটায় আসার জন্য। তার চোখের জল দেখে আমরা চোখে জল ধরে রাখতে পারছি না।’

ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ফরাজী বলেন, ‘একজন জনপ্রিয় শিল্পী তার পৈতৃক ভিটা দেখতে আসায় আমাদের ভীষণ ভালো লেগেছে। শিল্পী নচিকেতার পিতা সখা রঞ্জন চক্রবর্তী। তাদের মূল বাড়ি কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়নের উত্তর আনইলবুনিয়া (চান্দেরহাট) এলাকায়। এখানে অনেক জমি কিনে তার পূর্বপুরুষরা বসবাস করতেন।’

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল হক মনির বলেন, বরেণ্য এ শিল্পীর স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারি-রেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।

#


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print