শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » ‘ব্যর্থ’ বিএনপিকে আওয়ামী লীগের পরামর্শ

‘ব্যর্থ’ বিএনপিকে আওয়ামী লীগের পরামর্শ

bnp-alবিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দীর্ঘদন ধরেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে আসছিল। সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই দাবি থেকে সরে আসলেও এ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ালীগে কোনো মাথা ব্যথা নেই। বরং খালেদা জিয়ার মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিকেও পাত্তা দিচ্ছেন না ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। তারা বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে বিএনপি সুর পাল্টোলেও তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি। বিএনপি নেত্রী আসলে কী বলতে চাইছেন তা স্পষ্ট নয়। তাদেরকে আগে স্পষ্ট করে বলতে হবে তারা কী চায়। শুধু তাই নয় খালেদা জিয়াকে সংবিধান মেনেই ২০১৯ সালের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শও দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। নির্দলীয় নিরপেক্ষ যে কোনো সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে। তবে বিএনপির অবস্থান পরিবর্তন হলেও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে এ নিয়ে কোনো আলোচনা নেই।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২০১৯ সালেই জাতীয় নির্বাচন হবে। তা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তো প্রশ্নই উঠে না। কারণ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ২০১৯ সালের আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনেরও কোনো সম্ভবনা নেই। গত নির্বাচনের আগেও একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হয়েছিল। সেখানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা আসেনি। ২০১৯ সালের নির্বাচনও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হবে। ওই অন্তর্বর্তকালীন সরকারের প্রধান হবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই নির্বাচন আসুক তারপর না হয় বিএনপির সঙ্গে আলাপ করা যাবে। এখন অযথা কথা বলে কোনো লাভ হবে না।

তাদের ভাষ্য, বিএনপিকে আগে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। বিএনপি নেত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে এসে আসলে তিনি কী বলতে চাইছেন তা স্পষ্ট নয়। আগে স্পষ্ট করে বলতে হবে তারা কী চায়। তারা যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনীতি করতে চায়, তাহলে জ্বালাও-পোড়াও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি বাদ দিতে হবে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্বীকার করে গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে।

বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে ফিরে আসা ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি সম্পর্কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের কাছে জানতে চাইলে তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘এ দেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছে। মেয়াদ পূরণের লক্ষ নিয়েই সরকার ও দল কাজ করছে। কোনো হঠকারী আন্দোলন আর অযৌক্তিক দাবির কাছে আওয়ামী লীগ তার নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না। বরং বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেই সংবিধান মেনেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’

সম্প্রতি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ২০১৯ সালে। এর আগে কোনো নির্বাচন নয়। তিনি (খালেদা) চেষ্টা করলেও করতে পারেন। কিন্তু কোনো লাভ হবে না।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কী বলতে চাইছেন তা স্পষ্ট নয়। আগে তার বক্তব্য স্পষ্ট করতে হবে। তারা কি অনির্বাচিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান? যা সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছেন। যেটি বর্তমানে সংবিধান সংশোধনীতে নেই। সেটা থেকে তারা সরে এসেছেন কি না, আর যদি সরে এসে থাকেন তাদের এটাও স্পষ্ট করতে হবে। আর এটা যদি না হয় তাহলে বলতে হবে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীতে সরকার যা নির্ধারণ করেছে তা তারা মেনে নিয়েছেন।’

মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পর্কে সুরঞ্জিত বলেন, আগাম নির্বাচন খালেদা জিয়ার চিন্তা। এটা জাতির চিন্তা নয়। জাতির চিন্তা এখন বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ করা। খালেদা জিয়া মনোকষ্ট থেকে একেক সময় একেক কথা বলছেন। এতো দিন বললেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আর এখন বলছেন না হলেও চলবে। তার এ সব কথা নিয়ে দেশের মানুষ ভাবে না।’


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print