শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » ‘সুন্দরবনের বাঘ পশ্চিমবঙ্গে বেড়াতে গেছে’

‘সুন্দরবনের বাঘ পশ্চিমবঙ্গে বেড়াতে গেছে’

Forest-Minister-3সুন্দরবনের বাঘ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বেড়াতে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন। তাই বাঘের সংখ্যা কম হওয়ায় হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, যখন ওই বাঘগুলো ফিরে আসবে, তখন সংখ্যা বাড়বে।
বিশ্ব বাঘ দিবস-২০১৫ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘বাঘ বাঁচলে, বাঁচবে বন, রক্ষা পাবে সুন্দরবন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে এবারের বাঘ দিবসের নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
দিবসের মূল অনুষ্ঠানে বাঘ রক্ষায় দেশে সচেতনতা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সবাই মিলে এই বাঘকে রক্ষা করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, যেকোনো পরিসংখ্যানই সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। কেননা বাঘ কতটা পাওয়া গেছে, এর চেয়ে বড় কথা হচ্ছে বাঘ কখন গোনা হয়েছে।
বাঘ দিবসের অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজ বলেন, ২০১১ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বাঘ সম্মেলনে বাংলাদেশ যে অঙ্গীকার করেছিল, তা যদি বাস্তবায়ন হতো, তাহলে আজকের বাঘের সংখ্যা এতটা কমে আসত না। বনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল করার কথা ছিল না। বাঘ রক্ষা করতে হলে সুন্দরবনের ভেতরে এসব তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব সরকারের বাঘ রক্ষায় নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাঘের আবাসস্থল রক্ষায় উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো সহায়তা করছে। এই সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক তপন কুমার দে বলেন, ১৯০০ সালে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ছিল এক লাখ। বর্তমানে তা চার হাজারে নেমে এসেছে। সুন্দরবনের বাঘ রক্ষায় বনের ভেতর দিয়ে নৌপথ বন্ধ করতে বিকল্প পথ মংলা-ঘসিয়াখালি নৌপথ চালু করার ওপরে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নৌপথ চালু হওয়ার পর বনের বাঘ শিকার বেড়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী বলেন, বাঘ হত্যা ও পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রকে বন বিভাগ চিহ্নিত করেছে। সুন্দরবনের পাশের এলাকার বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, বন বিভাগের নিচু স্তরের কিছু কর্মকর্তাসহ অনেকেই বাঘ পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে ইন্টারপোল থেকে তথ্য দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ ওই তথ্য পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টিনি ই কিম্যাস বলেন, বাংলাদেশের বাঘ ও সুন্দরবন রক্ষায় বিশ্বব্যাংক তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজের মধ্যে বাঘ রক্ষায় যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে, এটাকে কাজে লাগাতে বন বিভাগকে তিনি পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার রাকিবুর রহমান ও উপ-প্রধান বন সংরক্ষক আকবর হোসেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print