সোমবার , ২৩ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » যোগ্যদের পদোন্নতি দিন: প্রধানমন্ত্রী

যোগ্যদের পদোন্নতি দিন: প্রধানমন্ত্রী

2117-1অধিকতর যোগ্য, দক্ষ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে সেনাবাহিনীর জেনারেলদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০১৫ এর বৈঠক উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার বিশ্লেষণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, দেশপ্রেমিক যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে বের করতে হবে। সেনাবাহিনীতে যারা নেতৃত্ব দেবেন তাদের উদ্দেশে বলতে চাই যে, আপনারা অধীনস্তদের প্রতি যত্নবান হবেন।’

বাসস জানায়, পদোন্নতি দেয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং নেতৃত্বের যোগ্যতাকে বিবেচনায় নিতে জেনারেলদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শৃঙ্খলাকে একটি সুসংগঠিত বাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পদোন্নতির প্রশ্নে শৃঙ্খলার বিষয়টি অন্য কোনো গুণাবলীর সঙ্গে তুলনীয় নয়। এজন্য শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনো প্রকার আপোষ অবশ্যই বর্জন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী পদোন্নতির জন্য জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষাসহ জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদানকেও মূল্যায়নের পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে তার সরকার সেনাবাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে অনেকগুলো ইউনিট গঠন এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার এবং এনসিওস একাডেমির মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর তার সরকার ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করেছে এবং এর বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে অত্যাধুনিক মেইন ব্যাটেল ট্যাংক, সেলফ প্রোপেল্ড গান সিস্টেম, রাডার, এন্টি ট্যাংক গাইডেড উইপন, মাল্টিপল লঞ্চড রকেট সিস্টেম, আর্মাড পার্সোনেল ক্যারিয়ার, ইউটিলিটি বিমান ছাড়াও সিগন্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি ক্রয় করেছে।’

তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার ১০০ কোটি ডলার সামরিক ঋণ প্রোটোকলের আওতায় ৬টি এমআই-১৭১ হেলিকপ্টার, ৩৩০টি এপিসি এবং ১০টি আর্মাড রিকভারি ভেহিকেল ক্রয় এবং ১৭৪টি টি-৫৯ ট্যাংকের উন্নীতকরণের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেনাবাহিনীর ফায়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এক ব্যাটারি এমএলআরএস ক্রয় করা হয়েছে এবং আরও দুইটি এমএলআরএস ব্যাটারি ২০১৬ সালের মধ্যে সেনাবাহিনীতে সংযোজনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। এর মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ এমএলআরএস রেজিমেন্ট সাভার সেনানিবাসে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। এছাড়া ২০১৭ সালের মধ্যে দুইটি এফএম- ৯০, সারফেস টু এয়ার মিসাইল রেজিমেন্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সংযোজিত হবে। এতে সেনাবাহিনীতে সমর শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তারা আরও পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করতে পারবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জালালাবাদ সেনানিবাসে ১৭ পদাতিক ডিভিশন গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত ১৭ পদাতিক ডিভিশনের সাংগঠনিক কাঠামোতে আগামী ৫ বছরে পর্যায়ক্রমে আরো ৩০টি নতুন ইউনিট প্রতিষ্ঠার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং নিরাপত্তার জন্য নবগঠিত ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড পূর্ণোদ্যমে কাজ করছে। রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং বান্দরবানের রুমায় পূর্ণাঙ্গ সেনানিবাস স্থাপনের পরিকল্পনা নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।’

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং সেনাবাহিনী আজ দেশে-বিদেশে আস্থা ও শৃঙ্খলার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।’

প্রতিরক্ষা সচিব কাজী হাবিবুল আওয়াল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মাদ শফিউল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম অন্যদের মধ্যে এসময় উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print