সোমবার , ২৩ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » সাম্প্রতিক খবর » ঢাকামুখী মানুষের ভোগান্তি চরমে

ঢাকামুখী মানুষের ভোগান্তি চরমে

ঢাকায়-ফেরারাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে সারাদেশের মহাসড়কও এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। খানাখন্দ রাস্তা আর যানজটে ঢাকায় কর্মমুখী মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। এর পরে রয়েছে টানা বৃষ্টি সবমিলে অবস্থা এখন ‘মড়ার উপর খাড়ার ঘায়ে’ পরিণত হয়েছে।

সরকার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঈদেও আগে নানা পদক্ষেপ নেয়। ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে ঈদ পর্যন্ত তৎপর থাকে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রশাসন। কিন্তু ঈদের পর ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থাকে নিরব। কোন তৎপরতা দৃশ্যমান নয় বলে মনে হচ্ছে।

ফলে দুর্ঘটনা, দুর্ভোগ সবই চলে সমানতালে। এবার ঈদপরবর্তী পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে অবিরাম বর্ষণে। বিশেষ করে সড়কপথে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। তাৎক্ষণিক মেরামতেও আগের মতো তোড়জোড় নেই। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের সতর্ক অবস্থানও চোখে পড়ছে না। ফলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে ঈদের ফিরতি যাত্রা।

এদিকে দুর্ভোগের অনুষঙ্গ অতিরিক্ত হিসেবে বৃষ্টি যোগ হওয়া এবং তদারকির অভাবে বেড়ে গেছে হতাহতের সংখ্যা। গত শুক্রবার ও শনিবার পর্যন্ত ঢাকায় ফেরা মানুষের চাপ বেশী লক্ষ্য করা গেছে। আজ রোববার পুরনো চেহারায় ফিরতে শুরু করেছে কর্মচঞ্চল ঢাকা।

এদিকে ঈদে ঘরমুখো এবং কর্মস্থলমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে গঠিত মনিটরিং টিমের কার্যক্রম পর্যালোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয় ২২ জুলাই। সেদিন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, ‘ঘরমুখো মানুষের যাত্রা এবং কর্মস্থলে ফিরে আসা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অধিক স্বস্তির।’ তবু যারা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন সেতুমন্ত্রী।

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীর পথে ঘাটেও। এসব খানাখন্দ জায়গাতে ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনাও। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে শাহবাগ ও জিগাতলা হয়ে মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর থেকে কলেজ গেট ও টেকনিক্যাল হয়ে মিরপুর-১, শাহবাগ থেকে ফার্মগেট হয়ে মহাখালী, মহাখালী থেকে গুলশান-১, গুলশান-১ থেকে মধ্যবাড্ডা ও রামপুরা হয়ে মৌচাক মোড়, মগবাজার থেকে সাত রাস্তা হয়ে মহাখালী রেল গেট পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্থা।

অধিকাংশ সড়কের পিচের কাপেটিং উঠে গেছে। খানাখন্দে সৃষ্টি হয়েছে এসব সড়কে। প্রচেষ্টা পরিবহনের চালক মো. খোকন মিয়া বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। অনেক ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। গতি আগের থেকে অনেক কমিয়ে আনতে হয়েছে। কারণ এমন সড়কে ব্রেক করলে ঠিকমত ব্রেক হয় না। ফলে অন্য গাড়ীর সঙ্গে ধাক্কা লেগে যেতে পারে। এছাড়াও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।’

বিশেষ করে মৌচাক, শান্তিনগর ও মালিবাগ এলাকায় রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। সারা ঢাকা শহড়ে যানজট না থাকলেও এখানে যানজট থকে। যাত্রীরাও ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে ওঠে। চালক মো. খোকন যোগ করেন।

এদিকে মহাসড়কের অবস্থাও খারাপ। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দীর্ঘ যানজট এখন স্থায়ী রুপ নিয়েছে। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। গত শুক্রবার থেকে এই যানজটের মাত্রা বাড়তে শুরু করে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শুক্রবারের পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। আজ রোববারও এই চিত্র। ফলে যানজটের চাপ বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত যানজট দেখা দেয়। এতে করে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। যানজটের কারনে অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হন কর্মস্থলে ফেরা মানুষ। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মহিলা ও শিশুরা।

ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের বাসযাত্রী মুরাদ হোসেন জানান, শনিবার রাত ৮টায় নাটোর থেকে তিনি রওনা দেন। তার ঢাকায় পৌঁছাতে ১৮ ঘণ্টা সময় লেগেছে।

হাইওয়ে পুলিশ জানান, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তেও সৃষ্টি হয়েছে। একে কওে গাড়ীর চালকদের কম গতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এছাড়া ঈদেও ছুটি শেষ হওয়ায় গত শুক্রবার থেকে এই মহাসড়কের গাড়ীর চাপ বাড়তে থাকে।

অপরদিকে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরএলাকার সব রাস্তা ঘাট খানাখন্দে সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়েছে পড়েছে। পৌরএলাকার ৫,৭, ৮ ও ৯ নাম্বার ওয়ার্ডেও বাসিন্দারা জানান, রাস্তাগুলোয় খানাখন্দের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে বাঁশ ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেযা হয়েছে। ফলে এসব রাস্তায় চলাচলকারী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছের ভুঞা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এরকম জামালপুরে বকশীগঞ্জ, হরিগঞ্জের বানিয়াচং, নাটোরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সাধারণত ঈদের তিন দিনকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। প্রয়োজনে সেগুলোর কার্যকারিতার সময় বাড়ানো হয়। এবার বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।’ অবস্থা সচল রাখতে মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print