সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » পাঁচ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৩

পাঁচ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৩

Accident busটাঙ্গাইল, গাজীপুর, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী।

এর মধ্যে টাঙ্গাইল ও গাজীপুরে আটজন করে, সিলেটে তিনজন, ব্রাক্ষণবাড়িয়া ও মাগুরায় দু’জন করে নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন এবং ভোলায় সাতজন আহত হয়েছেন।

টাঙ্গাইল : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার বাঐখোলা পাটখাগুড়ি নামক স্থানে যাত্রীবাহী একটি বাস খাদে পড়ে মহিলাসহ আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মির্জাপুরের কমুদিনী ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার আহমেদ স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা থেকে ঢাকাগামী বিনিময় পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার বাঐখোলার পাটখাগুড়িতে পৌঁছায়। এ সময় বাসটি ওভারটেকিং করার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০ জন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, বাসাইল, মির্জাপুর ও হাইওয়ে থানা পুলিশ উদ্ধার তৎপরতায় এগিয়ে আসে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত ছয়জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার বালিয়া গ্রামের রঞ্জু মিয়া (২৫), জাকির হোসেন (২৩), খোয়াজ আলী (৪০), আবু বক্কর (২৪), শেখর বসাক (৪২), জরিনা বেগম (৪২)। বাকি দু’জনের নাম জানা যায়নি। আহতদেরও পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বিকেলে ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। জেলা প্রশাসক নিহতদের পরিবার প্রতি ২০ হাজার টাকা প্রদানের ঘোষণা দেন।

গাজীপুর : গাজীপুরের হায়দরাবাদ এলাকায় ডেমু ট্রেনের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার আট যাত্রী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে এক নারী, তিন শিশু ও চার পুরুষ রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। তারা হলেন— বাবা শাহ আলম (৩৫), স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৩০), ছেলে ইয়াসিন (৪), মেয়ে সাদিয়া (৬), শ্যালিকা ছফুরা বেগম (১৪), ফুফাত ভাই আলামিন (২৭); প্রতিবেশী লিটন ওরফে চুন্নু মিয়া (২২) ও চালক মোস্তফা কামাল (২১)।

নিহতদের বাড়ি নরসিংদী জেলা সদরের পাইকারচর ইউনিয়নের ভঙ্গাচর ও জিতরামপুর এলাকায়। তারা গাজীপুরের খাইলকুর এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে উপস্থিত কমলাপুর জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদ নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জয়দেপুরগামী ডেমু ট্রেনটি টঙ্গী স্টেশন ছেড়ে হায়দরাবাদ রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় সেখানে বিকল হয়ে যাওয়া যাত্রীবাহী অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এ সময় ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে অটোরিকশাটি আটকে যায়।

তিনি আরও বলেন, চালক ট্রেনটি থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ট্রেনটি প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে থামে। পরে স্থানীয়রা অটোরিকশাটি ট্রেনের সামনে থেকে টেনে আলাদা করেন। আধা কিলোমিটারজুড়ে রেল লাইনের পাশে নিহতদের মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে। আর অটোরিকশার চালকের মরদেহ অটোরিকশায় আটকে থাকে।

খবর পেয়ে এলাকাবাসী ও পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনে। সংবাদ পেয়ে নিহতদের আত্মীয়-স্বজন মর্গে এসে লাশ শনাক্ত করেন।

নিহত আলামিনের চাচা শুক্কুর আলী বলেন, শাহ আলম ও পেয়ারা বেগম দম্পতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের খাইলকুর এলাকায় ভাড়া থেকে স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করত। ঈদের ছুটি শেষে তারা গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর জিতরামপুর থেকে অটোরিকশাযোগে খাইলকুরে আসছিল। আসার পথে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন।

সিলেট : জেলার ওসমানীনগর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশত যাত্রী।

উপজেলার গোয়ালাবাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুপুর ৩টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাসটির উদ্ধার অভিযান চলছিল।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরসালিন জানান, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশত। উদ্ধার অভিযান চলছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়ভাবে প্রথমে চারজনের নিহতের কথা বলা হলেও পরে তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : জেলার সরাইল উপজেলায় বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ইসলামাবাদ নামক স্থানে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা এলাকার দরবেশ আলী (৩৭) ও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মগর এলাকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইনজামামুল হক (২৫)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। তাদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সকালে সিলেটগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ইসলামবাদে পৌঁছলে একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন। তাদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তিনি আহতদের নাম জানাতে পারেননি।

মাগুরা : মাগুরায় বাসের ধাক্কায় ওবাইদুর রহমান (২৮) ও শামীম (২৭) নামে দুই মোটরসাইকেলারোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সী আসাদুজ্জামান জানান, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মাগুরা-ফরিদপুর মহাসড়কের কছুন্দী এলাকায় মাগুরাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে ফরিদপুরগামী মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই দু’জন আহত হন। মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তারা মারা যান।

নিহতদের বাড়ি ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলা সদরে। তারা মাগুরা থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন।

কুষ্টিয়া : জেলার খোকসায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যাত্রীবাহী পদ্মা-গড়াই বাসের চালকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া বাজারের পাশে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রীবাহী বাস পদ্মা-গড়াই (বগুড়া মেট্রো-জ-১১-০১৩৮) কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার দিকে যাওয়ার সময় শিমুলিয়া বাজারের কাছে আসলে গাড়ির চাকা ফেটে যায়। চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে বাসটির ধাক্কা লাগে। এ সময় চালকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। অধিকাংশ বাস যাত্রী হলেও বাসের ধাক্কায় কয়েকজন পথচারীও আহত হন।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী দাউদ জানান, বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দু’জনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ভোলা : জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মনিরাম এলাকায় একটি ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংর্ঘষে সাতজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন— বাসযাত্রী ইসমাইল (৩৯), জসিম উদ্দিন (২৫), আকরাম হোসেন (৪০), তানহা (১৫), মাইনুর বেগম (৪৫), সলেমান মিয়া (৬০) ও ট্রাকচালক আফজাল হোসেন (৩৫)। আহত যাত্রীরা চরফ্যাশন ও ভোলা সদর উপজেলার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চরফ্যাশন থেকে যাত্রী নিয়ে ভোলার উদ্দেশে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস সীমান্ত সুপার সার্ভিসটি বোরহানউদ্দিন উপজেলার মনিরাম বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মালবোঝাই একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন কৃষ্ণ রায় চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print