সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » গাছে বেঁধে শিশু নির্যাতন : হোতা মোস্তফা গ্রেফতার

গাছে বেঁধে শিশু নির্যাতন : হোতা মোস্তফা গ্রেফতার

clidসাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের জয়নগরে গাছে বেঁধে দুই শিশুকে নির্যাতনের ঘটনার হোতা গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতনের শিকার শিশুর বাবা বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় মামলা করলে বুধবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি।

মোস্তফার দাবি, জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। শিশু নির্যাতনের এই কাহিনি পরিকল্পিত এবং সাজানো। গত ১৬ জুলাই এ ঘটনা ঘটলেও দুদিন আগে বিষয়টি জানাজানি হয়।

সিলেটের কিশোর রাজন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে যখন সারা দেশ সোচ্চার, তখন আবারো শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটল সাতক্ষীরার শ্যামনগরে।

নির্যাতনের শিকার শিশুরা হলো জয়নগর গ্রামের ইসমাইল তরফদারের ছেলে ইয়াছিন (৮) ও হামিদ তরফদারের ছেলে নাছিম (৯)। তারা দুজনেই তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। নির্যাতনকারী মোস্তফা ওই গ্রামের ইমরান আলী মোড়লের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিবেশী মোস্তফার জায়গায় গড়ে ওঠা পায়ে হাঁটা রাস্তার ওপর খেলছিল ইয়াছিন ও নাছিম। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে মোস্তফা তাদের বাড়ি চলে যেতে বলেন। কিন্তু তারা বাড়ি না গিয়ে সেখানে খেলা করায় রাস্তায় কাদা হয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোস্তফা তাদের দুজনকে একই গাছে বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালান। এ সময় ইয়াছিন ও নাছিমের অভিভাবকরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করতে উদ্যত হন মোস্তফা। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে মোস্তফা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা এভাবে শিশু দুটিকে বেঁধে রেখে তাকে ফাঁসিয়েছে বলেও দাবি তার। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক জানান, নির্যাতনের শিকার শিশু নাছিমের পিতা হামিদ তরফদার বাদী হয়ে এ ব্যাপারে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলার আসামি গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গাছে বেঁধে রাখার ঘটনা ঠিক। বিষয়টি জমিজমার বিরোধের জেরে কি না, যথাযথ তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কালীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর মনির হোসেন জানান, হামিদ তরফদারের সঙ্গে মোস্তফার জমি নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। যে রাস্তার ওপর শিশু দুটি খেলা করছিল, ওই রাস্তা নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। শিশু দুটিকে বেঁধে রাখার ঘটনা সত্য, তবে তাদের মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বেঁধে রাখার কিছুক্ষণ পরে আবার তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে বেঁধে রাখা ঠিক হয়নি। এ নিয়ে এত কিছু হবে তা ভাবতে পারেননি মোস্তফা।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print