মঙ্গলবার , ১৪ আগস্ট ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » ফোরকান মল্লিকের ফাঁসির রায়

ফোরকান মল্লিকের ফাঁসির রায়

forkanএকাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিকের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়কে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আদালত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর একটি বেঞ্চ এ রায় শোনান।

পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে প্রমাণিত তিনটির দু’টিতে ফাঁসি এবং একটিতে আজীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রসিকিউশন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, ৬ বছর আগে এ মামলাটি পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে করা হয়েছিল।

আপিল করা হবে কি না প্রশ্নে আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, আপিল করার মত সামর্থ্য তাদের নেই।

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো হল-

প্রথম অভিযোগ: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আষাঢ় মাসে (ইংরেজি ২৭ জুন থেকে ৩ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে ফোরকান মল্লিক ও তার সঙ্গী অন্যান্য সশস্ত্র রাজাকাররা গানবোটে করে পাকিস্তানি সেনাদের মির্জাগঞ্জ থানার কাকড়াবুনিয়া গ্রামে নিয়ে আসেন। পরে ওই গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মো. কাঞ্চন আলী হাওলাদার ও হাজী আবুল হাশেম হাওলাদারসহ মোট সাত জনকে আটকের পর আটককৃতদের ওপর নির্যাতন চালান, বাড়ি-ঘর লুটপাট এবং জোর করে অর্থ আদায় করেন। আটককৃতদের এক মাস আটক রাখার পর ছেড়ে দেয়া হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালে আষাঢ় মাসের শেষের দিকে (ইংরেজি ২ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফোরকান মল্লিক ও তার সঙ্গী অন্যান্য সশস্ত্র রাজাকাররা পাকিস্তানি সেনাদের মির্জাগঞ্জ থানার দেউলি গ্রামে নিয়ে আসেন। পাকিস্তানি সেনাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে আসার পর ওই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলতাফ হায়দারসহ মোট ছয়জনের ঘর-বাড়িতে লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ করেন।

তৃতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ১২ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ফোরকান মল্লিক ও তার সঙ্গী অন্যান্য সশস্ত্র রাজাকাররা পাকিস্তানি সেনাদের মির্জাগঞ্জ থানার সুবিদখালীতে নিয়ে আসেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদবাহক কাকড়াবুনিয়া গ্রামের হাফিজ উদ্দিন খলিফা, মির্জাগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল কাদের জমাদ্দার, সুবিদখালী বাজারের ডা. দেবেন্দ্রনাথ ও তার স্ত্রী বিভা রানীকে আটকের পর নির্যাতন চালিয়ে তাদের হত্যা করেন। এ অভিযোগে ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে গণহত্যা, লুটপাট, ধর্ষণ, ধর্মান্তরকরণ এবং বিতাড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগ: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৫ থেকে ৮ ভাদ্র (ইংরেজি ২২ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট) সময়ের মধ্যে ফোরকান মল্লিক ও তার সঙ্গী অন্যান্য সশস্ত্র রাজাকাররা পাকিস্তানি সেনাদের মির্জাগঞ্জ থানার কাকড়াবুনিয়া বাজারে আসেন। এখানে তারা চারজনকে হত্যা করেন। এছাড়াও ফোরকান মল্লিক ও তার সহযোগী রাজাকার এবং পাকিস্তান সেনারা হত্যা, গণহত্যা, জখম, আটক, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধ সংঘটিত করেন।

পঞ্চম অভিযোগ: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৫-৮ ভাদ্র (ইংরেজি ২২ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট ১৯৭১) সময়ের মধ্যে ফোরকান মল্লিক ও তার সঙ্গী অন্যান্য সশস্ত্র রাজাকাররা মির্জাগঞ্জ থানার দক্ষিণ কলাগাছিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হোসেন মৃধাকে আটকের পর নির্যাতন এবং বাড়ি-ঘর লুটপাট করেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print