বৃহস্পতিবার , ২৬ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » নিজ বাসার সামনে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

নিজ বাসার সামনে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

3_294246রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে নিজ বাসার সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন মজিবর রহমান (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার ভোররাতে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল পশ্চিমপাড়া কাজিরগাঁওয়ে নিজ বাড়ির গেটে খুন হন নবাবপুর রোডের ওই ব্যবসায়ী। খুনের পুরো দৃশ্য বাড়ির সামনে থাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় (সিসি ক্যামেরা) রেকর্ড হয়েছে। সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবিতে দেখা গেছে, চার যুবক খুব কাছ থেকেই ব্যবসায়ী মজিবর রহমানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ছে। এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ‘কিলিং মিশন’ শেষ করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় তারা। এদের মধ্যে দু’জনকে শনাক্ত করতে পারলেও তাদের নাম-ঠিকানা জানাতে পারেননি নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

তারা বলেছেন, স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর জমিসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। সম্প্রতি ওই বিরোধ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ বৈঠকও হয়। এছাড়া জুরাইনের আলমের ছেলে খোকনের সঙ্গে নারী ঘটিত বিরোধের ঘটনায় প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার পর সম্প্রতি যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডয়েরি করেন মজিবর রহমান। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এ দুটি ঘটনা কাজ করেছে বলে স্বজনদের দাবি। পুলিশ সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ জব্দ করেছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির দারোয়ান রুবেলকে আটক করা হয়েছে।

নিহত ব্যবসায়ী মজিবর রহমানের ছোট ভাই সাদেকুর রহমান সাজু জানান, তার ভাই প্রতিদিন রাত ২-৩টার দিকে বাসায় ফিরতেন। মঙ্গলবার ভোর ৪টার কিছু আগে বাসায় ফিরে গেট খোলার মুহূর্তে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা অস্ত্রধারীরা তার ভাইকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এর আগে তারা বাড়ির দারোয়ান রুবেলকে রুমের মধ্যে হাত-পা বেঁধে রাখে। নিহতের আরেক ভাই শফিকুর রহমান স্বাধীন জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে মজিবর রহমানকে যাত্রাবাড়ীর ইসলামিয়া হাসাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ব্যবসায়ী মজিবর রহমানের লাশ মঙ্গলবারই তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত মজিবর রহমানের বাবা হাজী সোহরাব উদ্দিন সর্দার। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক মজিবর রহমানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের ভেড়ার বাজারে। আট ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই ঘটনায় মামলা হয়নি।

সাজু আরও জানান, নবাবপুরে তার বড় ভাইয়ের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আজিজ ক্যাবল নামে ওই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ইলেক্ট্রিক মালামাল পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করা হয়। প্রতিদিন ড্রাইভার গাড়ি ড্রাইভ করে নিয়ে অসলেও সোমবার সন্ধ্যায় তার বড় ভাই ড্রাইভার সালামকে ছুটি দিয়ে রাত ৯টার দিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে কলাবাগান ক্লাবে যান।

এ বিষয়ে নিহত মজিবর রহমানের স্ত্রী শাহিদা বেগম জানান, তার স্বামী কলাবাগান ক্লাবের দাতা সদস্য। প্রায় প্রতি রাতেই তিনি ক্লাবে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে গভীর রাতে বাসায় ফিরতেন। এটা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস।

নিহতের ছোট ভাই সাজু যুগান্তরকে জানান, রোববার (১২ জুলাই) তার ভাইয়ের বাড়ির ৫ম তলার একটি কক্ষ ভাড়া নিতে আসেন দুই ব্যক্তি। তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানেন না তারা। ওই কক্ষের পাশে আরেকটি কক্ষে রাতে ঘুমাতো বাড়ির দারোয়ান রুবেল। ওই কক্ষেই রুবেলকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। সাজু বলেন, ঘটনার সময় সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত দৃশ্যে ভাড়া নিতে ওই দুই ব্যক্তিকেও দেখা গেছে। বাকি দু’জনকে তারা চেনেন না বলে তিনি জানান।

রোজার মাসে তার স্বামী সেহেরির সময় বাসায় ফেরেন জানিয়ে নিহতের স্ত্রী শাহিদা বেগম জানান, সম্প্রতি জুরাইনের আলমের ছেলে খোকন ও তার এক বান্ধবীর সঙ্গে মজিবর রহমানের একটা ঝামেলা হয়। ওই ঘটনায় মেরে ফেলার হুমকি দিলে তার স্বামী যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এছাড়া কিছুদিন ধরে জমিজমা নিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা হারুনের সঙ্গে তার স্বামীর দ্বন্দ্ব চলছিল। হারুন তার স্বামীর কাছে বিষয়টি মীমাংসা করতে ১২ লাখ টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু তার স্বামী ওই টাকা দিতে রাজি হননি। ওই ঘটনার জের ধরেও তার স্বামীকে হত্যা করা হতে পারে বলে তিনি জানান।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যান ওয়ারী জোনের উপকমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও যাত্রাবাড়ী থানার ওসি অবনি শংকর। ডিসি সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এর পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ওসি অবনি শংকর বলেন, সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ থেকে ঘাতকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। খুব শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print