রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » রাজন হত্যায় ফাঁসছে কয়েকজন পুলিশ সদস্য

রাজন হত্যায় ফাঁসছে কয়েকজন পুলিশ সদস্য

rajonসিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যাকাণ্ডে ফেঁসে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরাও। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকারীদের নানাভাবে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠেছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ঘাতক কামরুলকে সৌদিআরব পালাতে সহযোগিতা এবং রাজন হত্যার পর তার পরিবারের মামলা নিতে পুলিশ সদস্যদের গড়িমসির বিষয়টি আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।

জানা যায়- শিশু রাজনের হত্যাকারী কেউ যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সেজন্য দেশের সব ইমিগ্রেশনে বিশেষ বার্তা পাঠায় সিলেট মহানগর পুলিশ। বিশেষ করে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কথা বলা হয়। তবে এই বিশেষ বার্তা পৌঁছার আগেই গত শুক্রবার রাজনের অন্যতম ঘাতক কামরুল ইসলাম দেশ ছেড়ে সৌদিআরব পালিয়ে যায়।

সৌদি প্রবাসী কামরুল গত ৬ রমজান দেশে এসেছিল। গতকাল সোমবার রাতে কামরুলকে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে প্রবাসীরা তাকে আটক করে সেখানকার পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

যদিও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ বা মহানগর পুলিশের কারো কাছেই কামরুলের বিদেশ পাড়ি দেয়ার কোনো তথ্য ছিল না।

এ অবস্থায় রাজন হত্যার মূলহোতা কামরুল সৌদি আরবে পালিয়ে যাওয়ার পেছনে পুলিশের মোটা অংকের লেনদেনের অভিযোগ ওঠেছে। আর সময় যত গড়াচ্ছে তত এ অভিযোগ আরো জোরালো হচ্ছে।

যদিও মুহিদের মত জনতার রোষানল থেকে রেহাই পায়নি কামরুলও। লাশ ফেলতে গিয়ে ঘটনার দিন (৮ জুলাই, বুধবার) মাইক্রোবাসসহ আটক হয় মুহিদ। আর পুলিশের যোগসাজশে সৌদিআরব পালিয়ে যাওয়া কামরুলকে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় ৮টায় আটক করে সেদেশের পুলিশের কাছে তুলে দেয় প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

রাজনের পরিবারের অভিযোগ- ঘটনার দিন রাতে মামলা করতে এসএমপির জালালাবাদ থানায় যান তারা। এসময় পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গলাধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেন।

বের করার পরও প্রকৃত নির্যাতনকারী ঘাতকদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার জন্য ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুল ইসলামকে অনুরোধ করেন তারা। কিন্তু মামলা নিতে নানা টলবাহানা শুরু করেন পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা।

রাজনের এক বয়জেষ্ঠ্য আত্মীয় মোহাম্মদ আলী দুদু মিয়া বলেছিলেন, ‘তাদের অনুরোধে কান দেননি ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুল ইসলাম। উল্টো তাদেরকে থানার ডিউটি রুম থেকে বের করে দিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে ‘গোপন’ আঁতাতে ব্যস্ত ছিলেন তারা।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ওই দুই পুলিশ কর্তকর্তা প্রকৃত খুনিদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবির মুখে বাধ্য হয়ে তারা রাজন হত্যা মামলায় প্রকৃত নির্যাতনকারী ঘাতকদের নাম মামলায় অন্তর্ভূক্ত করেছেন।’

মঙ্গলবার সকালে রাজনের বাড়িতে যান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. কামরুল আহসান, জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদিন। এসময় রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান অভিযোগ করেন- মামলা করতে গেলে জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুল ইসলাম তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন এবং প্রকৃত খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা করেন।

এছাড়া এসআই আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে সামিউলের ঘাতক কামরুল ইসলামকে সৌদি আরব পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগও করেন সামিউলের বাবা আজিজুর রহমান।

অভিযোগ শুনার পর সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার কামরুল আহসান সাংবাদিকদের বলেছেন- দু’একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এসেছে। এরকম সময়ে অনেকেই অনেক কথা বলে। তবে সবগুলোই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে সোমবার বিকেলেই ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন এসএমপি কমিশনার। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এসএম রুকন উদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মুশফেকুর রহমান ও ডিসি (দক্ষিণ) জেদান আল মুসা। আগামী ৩ দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, সোমবার বেলা ২টায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের তেমুখি পয়েন্টে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুলকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজও।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়- গত ৮ জুলাই সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে বর্বরোচিত নির্যাতনে খুন হওয়া সামিউল আলম রাজনের হত্যাকাণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। খুনিদের কোনো রকম ছাড় দেয়া হবে না বলে গতকাল জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

খুনিদের গ্রেপ্তারে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও বিশেষ টিম গঠন করে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কামিশনার রহমত উল্লা।

তিনি বলেন, রাজন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশকে সহায়তা করছে র‌্যাবও।

পুলিশের বিরুদ্ধ উঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এ রকম ঘটনার হওয়ার পরে সবাই পুলিশকে দোষারোপ করতে চায়।’

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে বরং পুলিশকে সহযোগাতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print