সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » রাজন হত্যায় ময়না চৌকিদার গ্রেপ্তার

রাজন হত্যায় ময়না চৌকিদার গ্রেপ্তার

rajon সিলেটে পিটিয়ে শিশু রাজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ময়না চৌকিদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে টুকেরবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন।

এ নিয়ে এ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করা হলো। আটকদের মধ্যে কামরুল এখনো সৌদি আরবে রয়েছেন।

বলাৎকার করতে না পেরে নৈশপ্রহরী ময়না মিয়া চোর সাজিয়ে কামরুল ও মুহিদকে দিয়ে পিটিয়ে রাজনকে খুন করিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত বুধবার সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে সামিউল আলম রাজনকে চুরির অভিযোগে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। নির্মমভাবে পেটানোর এ দৃশ্য ভিডিও করেন হত্যাকারীদের সহযোগীরা। এরা নিজেরাই সেই ভিডিও ফেসবুকে আপলোডও করেন।

নির্মমভাবে পিটিয়ে রাজনকে হত্যার পর তার লাশ গুম করার চেষ্টা করার সময় জনতার সহায়তায় পুলিশের হাতে আটক হন মুহিদ আলম।

রাজনকে পেটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ও গণমাধ্যমগুলো বিষয়টি নিয়ে সরব হলে তোলপাড় শুরু হয় সারা দেশে। এর মধ্যে মুহিদের ভাই সৌদি প্রবাসী কামরুল যাতে দেশ ছাড়তে না পারেন এমন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তিনি পালিয়ে যান। গতকাল তাকে সৌদি প্রবাসীরা আটক করেছেন। প্রায় এই সময়ে সিলেটে আটক হন মুহিদের স্ত্রী পপি বেগম। মুহিদের নিজ বাড়ি শেখপাড়া এলাকা থেকে পপিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পৈশাচিক এ ঘটনায় আটক আরেকজন ইসমাইল হোসেন। মঙ্গলবার সকালে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। ইসমাইলের আগে মুহিদকেও গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

বর্বর এ ঘটনার দুই প্রত্যক্ষদর্শী, কামরুলের ওয়ার্কশপের পাশের ভবনের পাহারাদার ফিরোজ আলী ও কুমারগাঁওয়ের বাসিন্দা আজমত উল্লাহর সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে কথা বলে ওসি আক্তার জেনেছেন, বুধবার ভোরে ঠেলা গাড়ি চুরির অপবাদ দিয়ে নৈশপ্রহরী ময়না মিয়া শিশু রাজনকে আটক করে। এরপর চোর আটক করা হয়েছে বলে ফোন দিয়ে ঘটনাস্থলে আনেন কামরুল ও মুহিদকে। তারা দুইজন এসে তাকে বেধে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যান পাহারাদার ফিরোজ। তখন তাকে কামরুল ও মুহিদ ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন।

ফিরোজের বরাত দিয়ে ওসি জানান, কামরুলদের ওয়ার্কশপের নৈশপ্রহরী ময়না মিয়া শিশুদের ডেকে নিয়ে বলাৎকার করে। এর আগে সে এরকম অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। সে রাজনকেও বলাৎকারের চেষ্টা করেছিল। তাতে ব্যর্থ হয়ে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে কামরুল ও মুহিদকে দিয়ে পিটিয়ে খুন করিয়েছে।

আজমত উল্লাহ পুলিশকে জানিয়েছেন, শিশু রাজনের চিৎকার শুনে তার স্ত্রী তাকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি এসে এভাবে নির্মমভাবে না পেটানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু কামরুল ও মুহিদ তার কথা না শোনায় তিনি ফিরে যান।

বর্বরোচিত এ ঘটনার প্রতিবাদ এসেছে সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে। মূলত প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে রাজনের শহর সিলেটেও ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বেশ বড়সড় একটা সমাবেশ হয়েছে। হাজারো মানুষ এতে যোগ দেন। এ সমাবেশ থেকে শিশু রাজন হত্যকাণ্ডের বিচারকার্যের জন্য ৯০ দিনের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে।

নিহত সামিউল আলম রাজনের বাড়ি সিলেট নগরীর কুমারগাঁও বাস স্ট্যান্ডের পাশে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদে আলী গ্রামে। সামিউলের বাবা শেখ আজিজুর রহমান পেশায় একজন প্রাইভেটকারচালক। তার দুই ছেলের মধ্যে রাজনই ছিল বড়।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print