বৃহস্পতিবার , ১৬ আগস্ট ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » ব্রাজিলের গম নিয়ে সুপ্রিমকোর্টে আপিল

ব্রাজিলের গম নিয়ে সুপ্রিমকোর্টে আপিল

Kamrulব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের চেম্বার বিচারপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন রিটকারীর আইনজীবী পাভেল মিয়া।

সোমবার সু্প্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে এ আবেদনটি দায়ের করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট পাভেল মিয়া বলেন, ‘আমরা আপিল আবেদনটি দাখিল করেছি এবং শুনানির জন্য আপিল বিভাগের আজকের ( মঙ্গলবার) কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে। দুপরের দিকে এর শুনানি হতে পারে।’

গত ৯ জুলাই সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ব্রাজিলের গম জোর করে কাউকে দেয়া যাবে না এবং কেউ ফেরত দিতে চাইলে সেটি ফেরত নিতে হবে মর্মে দেয়া হাইকোটের আদেশ স্থগিত করেন। সেদিন আদালতে স্থগিত আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। অপরদিকে রিটের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

তার আগে গত ৮ জুলাই (বুধবার) হাইকোর্ট ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম কাউকে নিতে বাধ্য করা যাবে না এবং কেউ ফেরত দিতে চাইলে সরকারকে তা ফেরত নিতে হবে মর্মে আদেশ দেন।

আমদানি করা গম খাওয়ার উপযোগী বলে খাদ্য অধিদপ্তরের ডিজির প্রতিবেদন দেয়ার পরে আদালত ওই আদেশ দিয়েছিলেন।

ইতোমধ্যে পুলিশ, বিজিবি, আনসার, জেলখানা, বিভিন্ন ডিলার ও আটা কল ছাড়াও টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখাসহ (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিতরণ করা ওই গম কেউ ফেরত দিতে চাইলে তা ফেরত নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

ব্রাজিল থেকে আমদানি করা ওই গম নষ্ট ও পচা বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ওই গম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

গত ২৮জুন গম আমদানির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গম নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন অ্যাডভোকেট পাবেল মিয়া। রিটে দুদকের মাধ্যমে তদন্ত এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) ও বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বারি) মাধ্যমে গম পরীক্ষার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এছাড়া মানহীন গম আমদানি এবং সরবরাহ কেন আইনগত কর্তৃত্ব বর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না, বিএসটিআই ও বারির ল্যাবেরটরিতে পরীক্ষার কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, অনিয়মের অভিযোগ কেন তদন্তের নির্দেশনা দেয়া হবে না মর্মে রুল চাওয়া হয়।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শুনানি করে ৩০ জুন হাই কোর্ট রুলসহ আদেশ দিয়েছিলেন। ওই গম মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি না, সে বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

আদেশ অনুযায়ী, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পাঠানো প্রতিবদন গত ৫ জুলাই আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

বাংলাদেশ শিল্প বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার কথা উল্লেখ করে মহাপরিচালকের প্রতিবেদনে বলা হয়, আমদানি করা গমের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিভিন্ন জেলার খাদ্য গুদামে মজুদ ওই গমের ৫৭টি নমুনা নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সংগ্রহ করে খাদ্য অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print