শুক্রবার , ২৭ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » আন্দোলনে উত্তাল কুমারগাঁও : ধামাচাপা চেষ্টার অভিযোগ

আন্দোলনে উত্তাল কুমারগাঁও : ধামাচাপা চেষ্টার অভিযোগ

222-300x151রাজন হত্যাকান্ডের ঘটনা নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেটের কুমারগাঁও এলাকা। নির্মম হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এলাকাবাসী মিছিল-সমাবেশের পাশাপাশি দুই ঘন্টা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করছেন। এমনকি সোমবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী জালালাবাদ থানাও ঘেরাও করেছেন। পাশাপশি থানার এস আই আমিনুলকে গ্রেফতার দাবী করেছেন। তবে রাজনের মা-বাবা অভিযোগ করেছেন তাদের ছেলে হত্যার পর একটি মহল ৫লক্ষ টাকা দিয়ে ঘটনাটি সমঝোতা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এদিকে মুহিত আলমকে ৫দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগমকে। তাছাড়া সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে কামরুল হাসানকে আটক করা হয়েছে।

অমানবিক নির্যাতনের পর শিশুটি পানি খেতে চাইলেও তাকে পানি না দিয়ে নিজের শরিরের ঘাম খেতে বলে মানুষ নামের নরপিচাশরা । এই ঘাতকরা এতই জঘন্য যে হত্যাকান্ডের দৃশ্যাবলী ভিডিও আকারে ধারণ করে তা আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্টারনেটে প্রকাশ করে । আর করবেই না কেন ঘাতকরা একটি প্রভাবশালি মহলের বিরাট অংশ। যার জন্য রাজন হত্যার ঘটনা থেকে প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করতে উঠে পড়ে লেগেছে একটি মহল । রাজনের মা-বাবা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন “ আমাদের ছেলেকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যার পরও একটি মহল পাচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করতে চাইছে, আমরা টাকা চাই না, আমাদের সন্তান হত্যার বিচার চাই,আর কোন মায়ের বুক এভাবে যেন খালি না হয়, আর কোন বাবার কান্দেঁ যেন কোন অবুঝ  শিশুর নিথর মৃতদেহ বইতে না হয়”

নিহতের বাবা 22শেখ মোঃ আজিজুর রহমান বলেন,তার প্রতিবন্ধী শিশু ছেলে রাজনকে ঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে শুনে তিনি থানায় গিয়ে দেখেন পুলিশ বাদি হয়ে দুইজনকে আসামী করে একটি মামলা নিয়েছে । তিনি অন্য আসামীদের নামে মামলা করতে চাইলে পুলিশ তখন মামলা নেয়নি । পরবর্তীতে অনেক কাকুতি মিনতি করে তিনি তার অভিযোগ দাখিল করেন । তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন বর্তমানে তার ছেলে রাজন হত্যাকারীদের রক্ষা করার জন্য একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে এবং পুলিশের সাথেও সমঝোতার চেষ্ঠাও চলছে ।  রাজনের ঘনিষ্ট আত্নীয় ওয়াহিদুর রহমান জানান,রাজনকে মধ্যযুগিও কায়দায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এর জন্য ঘাতকদের আটক করে সর্বচ্ছো শাস্তি মৃত্যু দন্ড দেয়া উচিত ।
নিহতের বাবা শেখ মোঃ আজিজুর রহমান পক্ষের আইনজীবী আতিকুর রহমান তাপাদার জানান,এমন নৃশংস ঘটনা তিনি পূর্বে আর কখনও দেখেন নাই । ইতিপূর্বে একজন ঘাতককে আটক করা হয়েছে এবং তার ৫ দিনের রিমান্ডও মঞ্জর করেছেন আদালত । এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরকেও  দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যাবস্থা করা উচিত ।

সিলেট শহর তলীর বাস্তব ও চাঞ্চল্যকর কাহিনী। ছায়াছবির কাহিনীকেও যেন হার মানিয়েছে। সে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। দেখলে যে কারো  চোখে জল এসে যাবে। ব্যথায় বুক ভরে যায়। শেখ সামিউল আলম রাজন (১৩) নামের ওই শিশুটিকে চুরির অভিযোগে পাষান্ডরা ঠিক কতটা সময় ধরে পিটিয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। তবে তাকে নির্যাতন করার প্রায় আধাঘণ্টা একটি ভিডিও ক্লিপ এখন অনেকের হতে। বিষয়টি নিয়ে সিলেট জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে এ পৈশাচিক হত্যাকরীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হোক।
ভিডিও দেখা গেছে, রাজনকে নির্যাতনের সময় ঘাতকরা সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় তাকে বলে তোকে কীভাবে মারব বল, আমাদের সব পদ্ধতি জানা আছে। এই বলে তারা রোল দিয়ে তার পায়ে নির্মমভাবে মধ্যযোগীয় কায়দায় পেটাতে থাকে। এ সময় রাজন কাঁদতে কাঁদতে মিনতি করে বলে, আড্ডি‘র মধ্যে মার দিওনা, একটা মেরেছো খুশি আছি। তবুও তাদের প্রাণে একটু দয়া জাগেনি। বরং ঘাতকদের একজন বলে, একটা খেয়ে খুশি, দুটা খেলে ডবল খুশি! এই বলে তারা উল্লাসে ফেটে পড়ে।23

লোমহর্ষক এই নির্যাতনের ভিডিও চিত্র ফেসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। নির্যাতনকারীরাই সেটি পরিকল্পিতভাবে তুলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। লাইভ নির্যাতনের এই ভিডিওটিও তারা নিজেরাই ফেসবুকে আপ লোডকরেছে। এ সময় শিশুটির স্পর্শকাতর অঙ্গে বারবার খোঁচানো হয়েছে। রোলার দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। বন্ধ মার্কেটের একটি পিলারের সাথে তাকে পিছমোড়া করে বেঁধে রাখা হয়। বাঁধন খুলে মাটিতে ফেলেও তাকে নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। টানা ২৮ মিনিটের ভিডিওটিতে দেখা গেছে নির্যাতন সইতে না পেরে শিশুটির আর্তচিৎকার। এ সময় ছায়ছবির দৃশ্যের মত অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে ঘাতকরা। একপর্যায়ে শিশুটি পানি খাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করে। তারপরও নির্যাতনকারীদের এতটুকু দয়া হয়নি। তারা তাকে শরীরের ঘাম খেতে বলে। এর পর রাজনকে হাতের বাঁধন খুলে রশি লাগিয়ে হাঁটতে দেওয়া হয়। ঘাতকরা ভেবেছিল রাজন বুঝি হাঁটার শক্তি হারিয়ে ফেলছে। কিন্তু ভয়ে ভয়ে হাঁটতে থাকা শিশুটিকে উদ্দেশ্য করে তারা বলে হাড়গোড় দেখি এখনো ঠিক আছে। আরও মারো এরপর রাজনের বাঁ হাত খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে আরেক দফা পেটানো হয়।

এ ভাবে দফায় দফায় শিশুটির নখে, মাথা, পেট ও উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রোল দিয়ে আঘাত করা হয়। এক সময় বাঁ হাত ও ডান পা ধরে মুচড়াতেও দেখা যায়। ভিডিওটি এতটাই নির্মম আর পৈশাচিক যে কেউ দেখলে শিহরে উঠ26বে। এরপর তারা তাকে হত্যা করে। এই অপরাধ কর্মে ৫/৬ জন জড়িত ছিল। ভিডিওটি জালালাবাদ থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে।সিলেট-সুনামঞ্জ রোডের কুমারগাঁও বাসস্টেশন এলাকার বড়গাঁওস্থ সুন্দর আলী মার্কেটের একটি ওয়ার্কশপের সামনে বারান্দার খুঁটিতে বেঁধে রেখে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়। রাত ১১টার দিকে একটি মাইক্রোবাস থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে খবর পেয়ে থানায় গিয়ে পরিবারের সদস্যরা লাশ সনাক্ত করেন। এ ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করে। মামলায় রাজনের লাশ ফেলার সময় হাতেনাতে আটক মুহিত ও তার ভাই কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে (৪৫) আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতার করতে গতকাল শনিবার রাতে কুমারগাঁও এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যৌথবাহিনী অভিযান চালালেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। মামলার তদন্তকারী অফিসার জালালাবাদ থানার (ওসি-তদন্ত) আলমগীর হোসেন জানান, আসামিদের ধরতে তারা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ হেড কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন স্থানে এ সম্পর্কে বার্তা পাঠানো হয়েছে।এবং পাচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মামলাটি সমঝোতার কথাও অস্বিকার করেন তিনি ।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print