শুক্রবার , ২৭ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » অবশেষে কাল মুক্তি পাচ্ছেন ফখরুল

অবশেষে কাল মুক্তি পাচ্ছেন ফখরুল

fakrulপ্রায় ৬ মাস কারাগারে বন্দী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

বিষয়টি  জানিয়েছেন ফখরুলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন। ইতোমধ্যে মির্জা ফখরুলের জামিন আদেশ ঢাকার সিএমএম আদালত ও কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ফখরুলের একজন আইনজীবী।

আদেশের কপি যাচাই বাচাই শেষে কাল সকালেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি যাওয়ার কথা রয়েছে। মেডিকেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ এটি হাতে পাওয়া মাত্রই ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মুক্ত করে দিবেন।

এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন আদেশের বিষয়ে তার পরিবারের হাতে লইয়ার্স সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে বলেও জানিছেন ফখরুলের আইনজীবী লিওন।

মুক্ত হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য যাবেন বলে জানা গেছে। গতকাল রোববার বিকেলে আদালতে ফখরুলের স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে ফখরুলের শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে ফখরুল দেশের বাইরেও যেতে পারবেন বলে পরামর্শ দিয়েছেন ফখরুলের জন্য গঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। এ বোর্ডের সদস্যরা ছিলেন, প্রফেসর ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি (কার্ডিওলোজি), প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আবু সিদ্দিক(কার্ডিওলোজি), প্রফেসর ডা. অশিত বরণ অধিকারী, ডা. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ খান (ভাসর্কুলার সার্জারি), ডাক্তার রাজশিক চক্রবর্তি (মেডিসিন)।

নাশকতার অভিযোগে পল্টন থানায় পুলিশের দায়ের করা তিন মামলায় তাকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশ আপিল বিভাগ বহাল রাখায় ফখরুল আগামীকাল সকালেই বের হবেন বলে জানা গেছে।

বর্তমান আওয়ামী সরকার প্রথম দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে মোট ৭৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে গেল বছরের শেষের দিকে ও চলতি বছরে দায়ের করা হয় মোট ৭টি মামলা। এ ৭ মামলার সবগুলোতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে- নাশকতার পরিকল্পনা, উসকানি ও প্ররোচণার। এই ৭টি মামলার মধ্যে শেষ যে তিনটি মামলায় ফখরুল কারাগারে আটক ছিলেন গত ২১ জুন ওই তিন মামলায় তাকে জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে গেলে সেখানেও আগের আদেশই বহাল থাকে।

বিএনপির এ নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোতে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল না করা পর্যন্ত তার জামিনের মেয়াদ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

আজ আদালতে ফখরুলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরপূর্তিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গত ৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে আটক হন মির্জা ফখরুল। এরপর গাড়ি ভাঙচুর, পোড়ানো ও নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর পল্টন ও মতিঝিল থানায় দায়ের করা সাতটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এইচএসসি পরীক্ষা ও সিটি নির্বাচনের হাওয়ায় বিএনপি অবরোধ-হরতাল থেকে সরে এলে কমে আসে রাজনৈতিক উত্তাপ। সরকার পতনের আন্দোলনে নেমে ব্যর্থ হয়ে এখন দল পুনর্গঠনে মনোযোগী হয়েছে দলটি। কারাগার থেকে মুক্তি পেলে মির্জা ফখরুল বিএনপির পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রয়েছেন ফখরুল।

ফখরুলের আইনজীবী ও তার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মির্জা ফখরুল ইসলামের হৃদযন্ত্রে চারটি ব্লক রয়েছে, এর তিনটিতে রিং বসানো হয়েছে। অর্থাৎ ৮০ ভাগ ব্লক হয়ে গেছে তার। এখন তার গলার ধমনিতে (নার্ভ) প্রতিবন্ধকতা ধরা পড়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print