বৃহস্পতিবার , ২৬ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » সরকারি কর্মচারী গ্রেফতারে অনুমতি লাগবে

সরকারি কর্মচারী গ্রেফতারে অনুমতি লাগবে

govসরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনকালে ফৌজদারি মামলায় আদালতের অভিযোগপত্র গ্রহণের আগে কর্মচারীকে গ্রেফতারে সরকারের অনুমতির বিধান রেখে একটি আইনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (১৩ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৫’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি আইন করার কথা বহু বছর ধরে আলোচিত হচ্ছে। এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

আইনে শৃঙ্খলা বিষয়ে কি আছে- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত কোন অপরাধের অভিযোগে সাংবিধানিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থা তদন্ত করতে ও উপযুক্ত আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারবে।

‘তবে এ সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলায় আদালতের অভিযোগপত্র গৃহীত হবার আগে কর্মচারীকে গ্রেফতারের প্রয়োজন হলে সরকারের পূর্ব-অনুমোদন লাগবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনে সরকারি কর্মচারীদের এমন কোন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না, যা সংবিধান অনুমোদন করে না।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের করা আইনটি দুদকের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য আইন প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা ছিল। বিধি, নীতিমালা ও প্রয়োজনমতো নির্দেশনাপত্র জারি করে সরকারি কর্মচারীদের পরিচালনা করা হচ্ছে।

খসড়া আইনে ক্যাডার সার্ভিস পরিচালনার জন্য রুলস (বিধিমালা) করার কথা বলা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী তারা পরিচালিত হবেন। বিদ্যমান বিধিমালা এ আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হয় তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। আর আইন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন বিষয়ে রুল জারি করতে হবে।

সরকারি কর্মচারী আইন বাস্তবায়নের জন্য ১০টি ক্ষেত্রে বিধি করার কথা বলা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি, জ্যেষ্ঠতা, ছুটি, পদায়ন, প্রেষণ, লিয়েন সংক্রান্ত বিষয়ে বিধি করতে হবে।

এছাড়া ক্যাডার সার্ভিস, শৃঙ্খলা ও আচরণ, অবসর সুবিধাদি, পদত্যাগ স্বেচ্ছা অবসর ও অক্ষমতাজনিত অবসর, পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা ও কর্মমূল্যায়ন, ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়েও বিধি করা যাবে।

অধিকার, প্রণোদনা, মৃত্যু, অক্ষমতা ও কল্যাণমূলক বিষয়াদি এবং অনগ্রসর, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধীদের সুবিধা ও কোটা সংরক্ষণ করার বিষয়েও বিধিমালা করার কথা বলা হয়েছে আইনে।

আইনে সরকারকে বিভিন্ন সার্ভিস গঠন, পুনর্গঠন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তবে পুনর্গঠনজনিত কারণে কোন কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

খসড়া আইনের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার ইচ্ছা করলে কর্মচারীদের জন্য একটি স্থায়ী বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন করতে পারবে। তারা বেতনের সমন্বয় করতে পারবে। আইনে এ সংক্রান্ত বিধিমালা রাখা হয়েছে।

আইনের খসড়ায় সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ কর্ম দক্ষতার জন্য সরকার কর্তৃক পুরস্কার ও স্বীকৃতি দেওযার কথা বলা রয়েছে।

অবসরের বয়স ১৯৭৪ সালের অবসর আইনে থাকলেও বাধ্যতামূলক অবসরের বিষয়ে আইনে কিছু বলা হয়নি। ১৯৭৪ সালের অবসর আইনে এ বিষয়ে বলা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে জুডিশিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা, সুপ্রিমকোর্টের কর্মচারী, প্রতিরক্ষা বিভাগের লোকজন এ আইনের আওতায় আসবেন না। প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য আলাদা আইন আছে।

রেলওয়ের কর্মচারী, সাময়িকভাবে গঠিত কোনো কমিশনের কর্মচারী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়জিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকারি কর্মচারী আইন প্রযোজ্য হবে না।

খসড়া আইনটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবার মন্ত্রিসভায় উঠবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print