রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » মুহিত রিমান্ডে, আরেক আসামি গ্রেফতার

মুহিত রিমান্ডে, আরেক আসামি গ্রেফতার

samiulখুঁটির সাথে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন করে শিশু রাজন হত্যার আরেক আসামি ইসমাঈল হোসেন (৩২) আবুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জালালাবাদ থানা এলাকার লামাকাজি মিরেরগাঁও থেকে সোমবার ভোরে ইসমাঈলকে গ্রেফতার করা হয়।

ইসমাইল শিশু রাজন হত্যার প্রধান আসামি মুহিদ আলমের তালতো ভাই।

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন সোমবার সকালে দ্য রিপোর্টকে এ তথ্য জানান।

এদিকে, লাশ গুমের পর জনগণের হাতে ধরা পড়ার অন্যতম আসামি মুহিতকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

আসামি গ্রেফতারের পুলিশের বিশেষ দল

এদিকে পলাতক আসামিদের ধরতে ও মামলার কার্যক্রম নিবিড় পর্যবেক্ষণ করতে পুলিশের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ওসি আকতার হোসেন জানান, এসএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মত রহমত উল্লাহকে প্রধান করে চার সদস্যের ওই কমিটি গঠন করা হয়।

রাতভর উত্তাল রাজনের গ্রাম, আল্টিমেটাম

রাজন হত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে তারা প্রশাসনকে সময়ও বেঁধে দিয়েছে। না হলে, গণআন্দোল গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারী দেন দেন এলাকাবাসী।

রবিবার রাতে রাজনের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে এলাকাবাসী বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ১৫-২০টি গ্রামের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

নির্যাতনকারী ঘাতকদের ১২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের আলটিমেটাম দেন স্থানীয় এলাকাবাসী। রবিবার রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চলা বৈঠক শেষে স্থানীয় এলাকাবাসী এ আলটিমেটাম দেন।

সিলেট নগরীর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদে আলী গ্রামে রাজনের বাড়ির আঙ্গিনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের খবর পেয়ে এসএমপির জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি সামিউল হত্যাকারীদের গ্রেফতারে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গত বুধবার সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে সামিউলকে চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে সামিউল মারা গেলে তার লাশ গুম করার চেষ্টাকালে পুলিশের হাতে আটক হয় মুহিদ আলম।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মহানগরের জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় আটক মুহিদ আলম (৩২) ও তার ভাই সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে (৪৫) আসামি করা হয়েছে। সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য পুলিশ ইমিগ্রেশনে চিঠি দিয়েছে।

নিহত শিশু রাজনের বাড়ি সিলেট নগরীর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে। রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান মাইক্রোচালক। দুই ভাইয়ের মধ্যে সামিউল আলম রাজন বড়। অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করা রাজন সবজি বিক্রি করতো।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print