মঙ্গলবার , ২৪ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » কলেজ » বিশ্ববিদ্যালয় অস্থির হতে পারে: ভিসিদের হুঁশিয়ারি

বিশ্ববিদ্যালয় অস্থির হতে পারে: ভিসিদের হুঁশিয়ারি

VC-NAHIDঅষ্টম বেতন কাঠামোতে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই বেতন কাঠামো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের কোনো অবস্থান উল্লেখ নেই। আর আমলাদের সঙ্গে বেতন বৈষম্য তৈরি করে প্রকারান্তরে শিক্ষকদের তুচ্ছ করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অস্থির অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে

বুধবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে বৈঠকে এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা (ভিসি)।

প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাপী বৈঠকে উপাচার্যরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে নানা দাবি-দাওয়ার তুলে ধরেন। বৈঠকে উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন মন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন স্কেল পুনর্বিবেচনার দাবি সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি দেন।

বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বুয়েটের উপাচার্য ড. খালেদা একরাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারজানা ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ফায়েকউজ্জামানসহ২৫ জন উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্যরা মন্ত্রীকে বলেন, বিগত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নানা সমস্যা হয়েছে। কিন্তু সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলন হয়নি। কিন্তু প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কাঠামোর ফলে শিক্ষকদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অস্থির অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। কারণ, সপ্তম বেতন স্কেলে অধ্যাপকদের সমান বেতন পাওয়া আমলাদের বেতন যে হারে বেড়েছে, সেভাবে অধ্যাপকদের বেতন বাড়েনি। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বেতনকাঠামোয় সিলেকশন গ্রেড না থাকায় অধ্যাপকরা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘প্রস্তাবিত বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উত্তাল হয়ে উঠবে। ফলে সৃষ্টি হবে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। এ অবস্থা যাতে না হয় সেজন্য বেতনকাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে হবে।’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ফায়েকউজ্জামান বলেন, ‘প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে আমাদের বেতন নিয়ে চাতুর্যের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। এটা শিক্ষকদের নিচে নামানোর একটি অপপ্রয়াস। এ বেতন কাঠামোর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল হবে, যা দমন করা কঠিন হবে।’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘নিয়োগের সময় উপাচার্যদের কোনো সুবিধার কথা সুনির্দিষ্ট করে বলা হয় না। আমাদের সুযোগ সুবিধা চেয়ে নিতে হয়। আমাদের অসম্মান করা হচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক চারটি দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের পদমর্যাদা জাতীয় বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ বিশেষ স্কেলের সমান করে অন্যান্য সুবিধাদি নিশ্চিত করা; বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন করা; রাষ্ট্রীয় ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্ট (মর্যাদাক্রম) এ ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রত্যাশিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী পদমর্যাদা নিশ্চিত করা।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের সম্মান, মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি আমার একার ব্যাপার নয়, এটা পুরো শিক্ষা পরিবারের দাবি। তবে নতুন বেতন কাঠামো এখনো চূড়ান্ত নয়। আমি চিঠি দিয়ে আপনাদের দাবিগুলো রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবকেও ডিও লেটার দেয়া হয়েছে। সুতরাং, রাস্তায় নেমে আপনাদের কষ্ট করার দরকার নেই।’

উল্লেখ্য, অষ্টম বেতন কাঠামোতে প্রতিটি ধাপে প্রায় দ্বিগুণ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, আমলা ও বিভিন্ন বাহিনী পদকে স্বাভাবিক অবস্থা থেকে উচ্চতর অবস্থানে উন্নীত এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া সিনিয়র সচিব ও পদায়িত সচিব নামে বিশেষ ধাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন গ্রেড অধ্যাপকরা সচিবদের সমতুল্য বেতন পান। কিন্তু প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে দৃশ্যত সিনিয়র অধ্যাপক তথা সিলেকশন গ্রেড প্রাপ্ত অধ্যাপকদের দুই ধাপ নিচে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে সিলেকশন গ্রেড বাদ দেয়ার সুপারিশের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print