শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » ভলিবল » প্রলঙ্কয়করী সিডরের সাত বছর

প্রলঙ্কয়করী সিডরের সাত বছর

২০০৭ সালের  ১৫ নভেম্বর ছিল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাতহানা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের সপ্তম বর্ষপূতি।
এই দিনে বাগেরহাটসহ উপকূলের জনপদে আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন সিডর। লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপকূলীয় এলাকা।
ঘন্টায় ২৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ছুঁটে আসা বাতাস (ঝড়) আর বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা জলোচ্ছ্বাসে মুহূর্তে মৃত্যু পুরিতে পরিণত হয় উপকূলের জনপদ। প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার সে জলোচ্ছ্বাস সেদিন ভাসিয়ে নেয় এ জনপদের সর্বস।
এই  প্রাকৃতিক দুর্যোগ এমন অনেক ক্ষত তৈরি করে আমাদের জীবনে, যা কখনো মুছে যায় না। যে পরিবারগুলো তাদের স্বজন হারিয়েছে বা যাঁরা আহত হয়ে বেঁচে গেছেন, তাঁদের সারা জীবনই বয়ে বেড়াতে হবে এ যন্ত্রণা। কিন্তু যে ক্ষতগুলো সারানো সম্ভব, সেগুলো যদি এখনো দৃশ্যমান থাকে, তবে সেটা মেনে নেওয়া কঠিন। ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হেনেছিল আজ থেকে সাত বছর আগে, সেই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলোর অনেকাংশ এখনো মেরামত করা হয়নি। এর দুর্ভোগ এখনো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোর লোকজনকে।

২০০৭ সালে সিডরের পর ২০০৯ সালে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় আইলা। একটি চাপ সামলাতে না-সামলাতেই আঘাত হেনেছিল আরেকটি। জীবন ও সম্পদহানির পাশাপাশি অনেক স্থানে পুরোপুরি ও কোথাও কোথাও আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে বাঁধ ও স্লুইসগেটের মতো অবকাঠামো। এই দীর্ঘ সময়েও ক্ষতিগ্রস্ত এসব অবকাঠামো আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়নি। বরগুনা জেলার ৩৬২ কিলোমিটার বাঁধ এখনো মেরামত করা সম্ভব হয়নি।

বাঁধগুলো মেরামত না হওয়ায় প্রতি অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় বাঁধ উপচে জোয়ারের পানি ফসলের জমি ও লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব। জমিগুলো হয়ে পড়ছে লবণাক্ত। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বাঁধ না থাকায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের কারণে গত চার দশকে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে লবণাক্ততা বেড়েছে ২৬ শতাংশ।

আর সিডরের পর এর মাত্রা বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এসব কারণে বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা ও ঝালকাঠি জেলার আবাদি জমি কমে আসছে, কমছে উৎপাদনও। শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত এলাকায় উৎপাদন-অনুপযোগী জমি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়।

ছয় বছর আগে ঘূর্ণিঝড় সিডর উপকূলীয় অবকাঠামোয় যে ক্ষত রেখে গেছে, তা এখনো সারাতে না পারা দুর্ভাগ্যজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। এসব অঞ্চলের জনগণের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও শস্য উৎপাদনের বিষয়টি মাথায় নিয়ে সরকার জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো মেরামতে এগিয়ে আসবে, সেটাই প্রত্যাশা।

 

 

 

 


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print