শুক্রবার , ২৭ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » টি-টোয়েন্টি সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার

টি-টোয়েন্টি সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার

CRICKET-WC-2015-RSA-ZIM৩১ রানের পরাজয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খোঁয়াল বাংলাদেশ। এ জয়ে ২-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করলো দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ম্যাচে ৫২ রানে জয় পায় সফরকারীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াবে সেই স্বপ্ন নিয়ে মঙ্গলবার মিরপুরে মাঠে নামে মাশরাফির দল। কিন্তু পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি স্বাগতিকরা। বোলিং কিংবা ব্যাটিং দুটি বিভাগেই জ্বলে উঠতে পারেনি ক্রিকেটাররা।

১৭০ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে সৌম্য ও তামিম ঝড়ের কবলে  পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররা। এই দুই বাহাতি ব্যাটসম্যান ৫.৫ ওভারে ৪৬ রান তুলে নেন। যাতে তামিমের কন্ট্রিবিউশন মাত্র ১৩। পার্নেলের বলে সাজঘরে ফেরার আগে তামিম ১৮ বলে ১ বাউন্ডারিতে ১৩ রান করেন। স্কোরবোর্ডে ৯ রান যোগ করতেই ডাউন দ্যা উইকেট এসে মারতে গিয়ে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন সৌম্য। ২১ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩৭ রান করেন সৌম্য।

এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার অভিষিক্ত লেগ স্পিনার এডি লেই’র ঘূর্ণিতে পরাস্ত হওয়া শুরু করে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। সাকিব (৮), সাব্বির (১) ও মুশফিক (১৯) একে একে নিজেদের উইকেটে লেগস্পিনারকে বিলিয়ে দিয়ে আসেন। এই তিন ব্যাটসম্যানের সঙ্গে পরবর্তীতে যোগ দেন নাসির হোসেন (০)। বাহাতি অ্যারন ফাঙ্গিসোর বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দেন। ফাঙ্গিসোর পরের ওভারে লিটন কুমার দাস আউট হন ব্যক্তিগত ১০ রানে। আট ব্যাটসম্যান নিয়েও ১০৩ রানে শেষ হয়ে যায় ব্যাটসম্যানদের লড়াই।

শেষ দিকে অভিষিক্ত রনি তালুকার ২১, মাশরাফি বিন মর্তুজার ১৭ রানে পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়ে আনে বাংলাদেশ। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমান আউট হলে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কাইল অ্যাবোট, অ্যারন ফাঙ্গিসো ও এডি লেই ৩টি করে উইকেট নেন। এর আগে প্রথম টি-টোয়েন্টির মত দ্বিতীয় ম্যাচেও টসে জিতে ব্যাটিং নিতে কোনো ভুল করেননি দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। প্রথম ম্যাচে ওপেনিং জুটি থেকে মাত্র ২ রান আসলেও দ্বিতীয় ম্যাচে স্বরূপে এ বি ডিভিলিয়ার্স ও কুইন্টন ডি কক।

১০.৩ বলে ৯৫ রান যোগ করেন এই দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশের বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলে দুই ব্যাটসম্যান দ্রুত রান তুলে নেন। ১১তম ওভারে এই জুটি ভাঙেন স্পিনার আরাফাত সানী। ডি কক ৩১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৪ রান করেন। ৯৫ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর ৭ রান যোগ করতেই আরও ২ উইকেট হারায় প্রোটিয়াসরা। সফরকারী শিবিরে জোড়া আঘাত হেনে নাসির হোসেন জেপি ডুমিনি (৬) ও এ বি ডিভিলিয়ার্সকে (৪০) সাজঘরে ফেরত পাঠান। ৩৪ বলে ৬ ছক্কায় ৪০ রান করে ডিভিলিয়ার্স প্রোটিয়াদের সেরা ব্যাটসম্যান।

ধাক্কা সামলে নিয়ে ডু প্লেসিস ও মিলার ৩৪ রান যোগ করেন। কিন্তু ১৮তম ওভারের চতুর্থ বলে মুস্তাফিজের বলে ১৬ রানে আউট হয়ে যান ডু প্লেসিস। তবে শেষ ১৪ বলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ডেভিড মিলার ও রুশো। শেষ ১৪ বলে ৩৩ রান করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে এই দুই ব্যাটসম্যান দলের স্কোরকে ১৬৯ এ নিয়ে যান। মিলার ২৮ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৩০ রান করেন। ৬ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ১৯ রান আসে রুশোর ব্যাট থেকে। নাসির হোসেন ২৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার। ১টি করে উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান ও আরফাত সানী।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print