শনিবার , ২১ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » টাইব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গ আর্জেন্টিনার, শিরোপা চিলির

টাইব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গ আর্জেন্টিনার, শিরোপা চিলির

chili

স্মৃতিটা এখনো তাজা। গত বছরের ঠিক এই সময়েই বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙেছিল আর্জেন্টিনার। এক বছর কোপার কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠে শিরোপার দুঃখ ঘোচানোর সুযোগ এসেছিল আলবিসেলেস্তেদের সামনে। কিন্তু এবারও স্বপ্নভঙ্গ হলো আর্জেন্টিনার। কোপার ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে চিলি। কোপায় এটাই চিলির প্রথম শিরোপা।

কোপা আমেরিকার ৪৪তম আসরের প্রথম ম্যাচ খেলেছিল চিলি। লাতিন আমেরিকার বিশ্বকাপ নামে পরিচিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচও খেলছে ওই চিলিই! মাঠটাও সান্তিয়াগো ডি চিলির এস্তাদিও ন্যাসিওনাল। পার্থক্য শুধু, প্রথম ম্যাচে চিলির প্রতিপক্ষ ছিল ইকুয়েডর। আর ফাইনালে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বাধিক শিরোপা জেতা আর্জেন্টিনা।

শতবর্ষী এই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা ১৪ বার শিরোপা জিতলেও এখনো শিরোপার উৎসব করা হয়নি চিলির। আর্জেন্টিনাও জিতেছে ২২ বছর আগে। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত কোপায় এবার প্রথমবারের মতো শিরোপা জিততে চায় চিলি। আর ২২ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে মরিয়া আর্জেন্টিনা। সেই সঙ্গে জাতীয় দলের জার্সিতে কোনো বড় শিরোপা জিততে না-পারার আক্ষেপ ঘোচাতে চান আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ২টায় শুরু হয়েছে।

অবশ্য ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা-চিলির কেউই গোল করতে পারেনি। গোলশূন্য স্কোরলাইন রেখে বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধেও গোলশূন্য থাকায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা হয়। তবে এই ৩০ মিনিটেও গোল গোল হয়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ আর পাল্টা-আক্রমণে উত্তেজনা ছড়াতে থাকে দুই দল। অষ্টম মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল চিলি। ডি বক্সের ভেতর থেকে সানচেজকে উদ্দেশ্য করে পাস দিয়েছিলেন চিলির বেয়াউসিজোর। তবে সানচেজের কাছে যাওয়ার আগেই বলটি ক্লিয়ার করেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডি।

১৩ মিনিটে দারুণ এক সেভ করে চিলির ভিদালকে গোলবঞ্চিত করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। বক্সের ভেতর থেকে শট নিয়েছিলেন ভিদাল। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।

২০ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো আর্জেন্টিনা। আগের মিনিটে চিলির বক্সের ডান পাশে জাবালেতাকে ফাউল করেন চিলির মেডেল। ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। মেসির নেওয়া ফ্রি-কিকে দারুণ এক হেড করেন আগুয়েরো। কিন্তু বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আগুয়েরোর হেড ঠেকিয়ে দেন স্বাগতিক গোলরক্ষক ক্লাদিও ব্রাভো।

২৩ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পায় চিলি। মাঠে নিজেদের অংশ থেকে লম্বা করে বল বাড়ান চিলির এক খেলোয়াড়। বল পেয়ে যান ভারগাস। কিন্তু বল পোস্টের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন তিনি।

২৯ মিনিটে হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার উইঙ্গার অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। তার বদলে স্ট্রাইকার লাভেজ্জিকে মাঠে নামান কোচ জেরার্ডো মার্টিনো।

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন লাভেজ্জি। চিলির বক্সের ভেতর তাকে পাস দেন পাস্তোরে। শট নিয়েছিলেন লাভেজ্জি। তবে তার শট ঠেকিয়ে দেন ব্রাভো। ফলে গোলশূন্য স্কোরলাইন রেখে বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার ওটামেন্ডির ভুলে বক্সের কাছে বল পেয়েছিলেন চিলির সানচেজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শট নিতে পারেননি আর্সেনালের এই স্ট্রাইকার। ৬৬ মিনিটে চিলিকে এগিয়ে দেওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন ভিদাল। তবে বক্সের ভেতর তার নেওয়া শট রুখে দেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা।

৭৪ মিনিটে আগুয়েরোর বদলে গঞ্জালো হিগুয়েনকে মাঠে নামান আর্জেন্টিনা কোচ মার্টিনো। ৮২ মিনিটে প্রায় গোল করে ফেলেছিলেন চিলির স্ট্রাইকার সানচেজ। তার নেওয়া শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ২ মিনিট দেওয়া হয়। আর অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। মাঝ মাঠ থেকে চিলির এক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বক্সের সামনে এসে লেভেজ্জিকে পাস দেন মেসি। লেভেজ্জি চিলির গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে পোস্টের কোণায় শট মারেন। বল পোস্টে না ঢুকলেও জালে জড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন হিগুয়েন। কিন্তু বল জালে জড়াতে পারেননি তিনি। বল তার পায়ে লেগে পোস্টের বাইরের জালে লাগে। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print